প্রথম জাতীয় গ্রন্থাগার দিবস - ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৮

প্রথম জাতীয় গ্রন্থাগার দিবস - ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৮

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, মাননীয় সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী জনাব আসাদুজ্জামান নুর, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব জনাব মো. ইব্রাহীম হোসেন খান এবং গণগ্রন্থাগার অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আশীষ কুমার সরকারের প্রতি 'জাতীয় গ্রন্থাগার দিবস' প্রবর্তনের জন্য 'গ্রন্থগত' ওয়েবসাইটের পক্ষ থেকে সকৃতজ্ঞ ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি।

গ্রন্থাগার একটি জ্ঞানচর্চাবিকাশী সামাজিক মাধ্যম। বিশ্বের প্রতিটি সভ্যতায় গ্রন্থাগারকে বিশেষ সম্মানের চোখে দেখা হয়ে থাকে। যে জাতি যত বেশি জ্ঞানমনস্ক সে জাতি তার রাষ্ট্রে সমাজে তত বেশি গ্রন্থাগার প্রতিষ্ঠা করেছে। প্রাচীন ভারতীয় সমাজে প্রতিটি বিদ্যাপীঠে গ্রন্থাগারের জন্য আলাদাভাবে বিশেষ গৃহ তৈরি করা হতো। নালন্দা বিহার তথা বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরি যখন প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, তখন অনেক সংস্কৃতিতে গ্রন্থাগারের কোন অবস্থানই ছিল না। আলেকজান্দ্রিয়া লাইব্রেরি, হাউজ অব উইজডোম প্রভৃতি পাঠাগারের স্মৃতি সংস্কৃতিমান প্রত্যেক মানুষের মনে এখনও উজ্জ্বল। সমাজবিকাশে গ্রন্থাগারের ভূমিকা আলোকবর্তিকার ন্যায়। তাই যে সমাজে গ্রন্থাগারের সংখ্যা বেশি সেই সমাজে সংস্কৃতিমান, সভ্য মানুষের সংখ্যাও বেশি।

লাইব্রেরি তথা গ্রন্থাগার সম্পর্কে বিশ্বের কয়েকজন বরেণ্য ব্যক্তিত্ব যা বলেছেন, তা নিন্মরূপ:-
  • মহাসমুদ্রের শত বৎসরের কল্লোল কেহ যদি এমন করিয়া বাঁধিয়া রাখিতে পারিত যে, সে ঘুমাইয়া পড়া শিশুটির মতো চুপ করিয়া থাকিত, তবে সেই নীরব মহাশব্দের সহিত এই লাইব্রেরির তুলনা হইত। এখানে ভাষা চুপ করিয়া আছে, প্রবাহ স্থির হইয়া আছে, মানবাত্মার অমর আলোক কালো অক্ষরের শৃঙ্খলে কাগেজের কারাগারে বাঁধা পড়িয়া আছে। - বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  • তোমাকে একটি জিনিস অবশ্যই জানতে হবে, আর সেটা হল গ্রন্থাগারের অবস্থান। - আলবার্ট আইনস্টাইন
  • পাঠাগারের উপস্থিতি আমাদেরকে আস্বস্থ করে যে মানবজাতির ভবিষ্যত নিয়ে আমরা আশা করতে পারি। -টি. এস. এলিয়ট
  • আমি তন্নতন্ন করে গণগ্রন্থাগার ঘেঁটে অনেক মূল্যবান সম্পদ খুঁজে পেয়েছি। - ভার্জিনিয়া উলফ
  • যখন সন্দেহ হবে, তখন পাঠাগারে যাও। - জে. কে. রাউলিং
  • গুগল তোমার জন্য লক্ষ উত্তর খুঁজে আনবে, কিন্তু একজন গ্রন্থাগারিক তার মধ্যে সঠিকটি বাছাই করতে পারবে। - নেইল গেইম্যান
গ্রন্থাগার একটি স্বীকৃত সামাজিক দর্পণ; এই আয়নায় আমরা নিজেদের তৈরি করা সমাজের রূপকে চিনে নিতে পারি। গ্রন্থাগার মানুষের ঐতিহ্যবাহী জীবনধারা, শিক্ষা ও সংস্কৃতিকে ধারণ ও বহন করে নিয়ে চলে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে। জ্ঞানার্জন, গবেষণা, মানবিক চেতনা ও নৈতিক মূল্যবোধের বিকাশ, লালন ও চর্চার মাধ্যমে গ্রন্থাগার সমাজবাসী মানুষকে আরও বেশি আলোকিত ও জীবনঘনিষ্ঠ করে তোলে। গ্রন্থাগার সম্পর্কে এই দার্শনিক ও নৈতিক মনোভঙ্গিকে আত্মস্থ করে নিয়ে একটি জ্ঞানমনস্ক জাতি গঠনের অভিপ্রায়ে দেশের প্রান্তিক পর্যায় পর্যন্ত গ্রন্থপাঠের প্রসারে বর্তমান সরকার নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করে চলেছে। জেলায় জেলায় সরকারি গণগ্রন্থাগারসমূহের উন্নয়ন, তথ্যপ্রযুক্তিভিত্তিক সেবাদানে গ্রন্থাগারসমূহকে কর্মক্ষম করা, বেসরকারি গ্রন্থাগারসমূহকে বিনামূল্যে বই সরবরাহ করা, উপজেলা পর্যায়ে সরকারি গণগ্রন্থাগার স্থাপনের প্রকল্প গ্রহণ-সহ ব্যাপক কর্মকাণ্ড অব্যাহত রয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় ০৫ ফেব্রুয়ারি তারিখকে বর্তমান সরকার 'জাতীয় গ্রন্থাগার দিবস' ঘোষণা করেছে। ১৯৫৪ সালের ০৫ ফেব্রুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রের নিকটে কেন্দ্রীয় পাবলিক লাইব্রেরির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করার তারিখটিকে স্মরণীয় করে তুলতে এই দিনটিকে 'জাতীয় গ্রন্থাগার দিবস' হিসেবে নির্বাচন করা হয়েছে।

বাংলাদেশের ইতিহাসে ২০১৮ সালের ০৫ ফেব্রুয়ারি দিনটিতে পালিত হচ্ছে প্রথম 'জাতীয় গ্রন্থাগার দিবস'। প্রথমবারের মতো পালিত হতে যাওয়া এই দিনটিকে সামনে রেখে সারা দেশের সরকারি গণগ্রন্থাগারগুলো বইপাঠ কার্যক্রমকে আরো বেশি জনবান্ধব করে তুলবে; আগ্রহী পাঠক সমাজের সামনে বইপাঠের প্রয়োজনীয়তা ও এই কাজে গ্রন্থাগারগুলোর কর্মক্ষমতা আরো বাড়িয়ে তুলবে বলে আশা করা হচ্ছে।

জাতীয় গ্রন্থাগার দিবসের প্রভাবে বাংলাদেশের সমাজে গ্রন্থপ্রেমী মানুষের সংখ্যা আরও বাড়ুক, পাড়ায় পাড়ায় পাঠাগার গড়ে উঠুক, বই পাঠ করা একটি সক্রিয় কাজ বলে সমাজে বিবেচিত হোক- এই প্রত্যাশা করি।

কোন মন্তব্য নেই

মন্তব্য করার পূর্বে মন্তব্যর নীতিমালা সম্পাদকের স্বীকারোক্তি পাঠ আবশ্যক। ইচ্ছে হলে ই-মেইল করুন।