সাহিত্যতত্ত্বের বিবিধ প্রকরণ দর্শনগ্রাহ্য হয়েছে ‘শ্রীশচন্দ্র দাশ’ রচিত “সাহিত্য সন্দর্শন” বইতে


সাহিত্য সন্দর্শন- শ্রীশচন্দ্র দাশ
সাহিত্য সন্দর্শন
শ্রীশচন্দ্র দাশ


“জীবনের সহিত যাহা তাহাই সাহিত্য”। জীবনরহিত কোন কিছুই সাহিত্য পদবাচ্য নয়। জীবন যেমন বহুদিকে বিস্তৃত, সাহিত্যও তেমনি জীবনের প্রতিটি রেখার পদাঙ্ক অনুসরণ করে বহুবর্ণিল রেখায় বিন্যস্ত। সাহিত্যের এইসব বিচিত্র রূপকে আলোকময় করে দর্শনগ্রাহ্য করা হয়েছে যে গ্রন্থে তার নাম ‘সাহিত্য সন্দর্শন’। সাহিত্য প্রসঙ্গে শ্রীশচন্দ্র দাশের মণীষা দ্যুতিময় হয়েছে এই গ্রন্থে। জীবনের সাথে অঙ্গাঅঙ্গিভাবে যা জড়িত হয়ে রয়েছে তা জীবনের মতোই বহুবিচিত্র হবে এটাই স্বাভাবিক। জীবনরশ্মির নানাবিধ রেখাকে বাক্যরূপ দান করা সহজ কর্ম নয়। আর এই অসাধ্য কর্মটি সাধিত হয়েছে শ্রীশচন্দ্র দাশ রচিত সাহিত্য সন্দর্শন নামক গ্রন্থটিতে। সাহিত্যতত্ত্বের বিদগ্ধ পাঠকমাত্রই বইটির সাথে পরিচিত। সাহিত্যরস আস্বাদনের জন্য পাণ্ডিত্য আবশ্যক নয়। তবে রসের মর্মে প্রবেশের জন্য কিঞ্চিৎ অভীজ্ঞা থাকা বাঞ্ছনীয়। ফলে অর্ধশতাব্দীর বেশি সময় ধরে বইটি বিদগ্ধজনের একান্ত সঙ্গী হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে।

সাহিত্য কী, কাকে বলে, এর বিভিন্ন শাখা-প্রশাখা-উপশাখার বৈশিষ্ট্য, রূপমাধুর্য তথা সার্বিক সংজ্ঞা ও অনুভূতি কীরকম তা জানতে হলে এই বই আপনাকে পড়তেই হবে। তেইশটি অধ্যায়ে বইটি বিভক্ত। লেখক প্রতিটি অধ্যায়ের আলোচ্য প্রসঙ্গকে তত্ত্ব ও উদাহরণ সহযোগে সুপাচ্য করে তুলেছেন। যথাযোগ্য শব্দ চয়ন ও ভাষার কারুকার্য বইটির প্রধান অলঙ্কার। তাই একাডেমিক বই হলেও সাধারণ-অসাধারণ নির্বিশেষে সাহিত্যরস আস্বাদন প্রয়াসী প্রত্যেকের জন্য বইটির পাঠ অতি আবশ্যিক।

সূচীপত্র পাঠে প্রাসঙ্গিক কৌতুহল কিছুটা নিবৃত্ত হবে; সে লক্ষ্যে সম্পূর্ণ সূচী নিচে উল্লেখ করা হল।
  • আর্ট- আর্ট ও প্রকৃতি- আর্টে বিশেষ ও নির্বিশেষ- আর্টে নৈর্ব্যক্তিকতা- আর্ট ও নীতি- আর্টের বিশেষত্ব- আর্ট ও বিজ্ঞান- শিল্পী ও যুগচিত্ত- চারুশিল্প ও কারুশিল্প- আর্ট কেন
  • সাহিত্য- সাহিত্যসৃষ্টি- সাহিত্যে লেখকের আত্মপ্রকাশ- সাহিত্যে লেখক, বস্তুজগত ও প্রকাশভঙ্গি- কাব্যগত সত্য- জ্ঞানের সাহিত্য ও ভাবের সাহিত্য- সাহিত্যে সর্বজনীনতা- সাহিত্যিকের অখণ্ড দৃষ্টি- সাহিত্যের উদ্দেশ্য
  • কবিতা- কবি ও কবিতার জন্ম- কবিতা কাহাকে বলে- কবি কল্পনা ও খেয়ালি কল্পনা- গদ্য ও পদ্য- কবি ও বৈজ্ঞানিক- কবিতা ও দর্শন- কবিতার উদ্দেশ্য- রস- কাব্যে জীবন জীজ্ঞাসা- গদ্য ও কবিতা- মন্ময় ও তন্ময় কবিতা
  • সাহিত্যে রসতত্ত্ব- রস- রসবিচার
  • গীতিকবিতা- গীতিকবিতা ও গান- গীতিকবি ও মহাকবি- গীতিগাথা- গীতিকবিতায় সাঙ্কর্য্য- বৈষ্ণব কবিতা ও আধুনিক গীতিকবিতা; শ্রেণীবিভাগ- ভক্তিমূলক- স্বদেশপ্রীতিমূলক- প্রকৃতি বিষয়ক- সনেট- সনেটের নির্মাণরীতি- বাংলা সনেট- স্তোত্র কবিতা- চিন্তামূলক শোকসঙ্গীত- Verse de Societe- বাংলা গীতিকাব্য
  • বস্তুনিষ্ঠ বা তন্ময় কবিতা- গাথাকবিতা- কাহিনী কাব্য- মঙ্গলকাব্য- মহাকাব্য- বাংলা ও ইংরেজি মহাকাব্য- ট্র্যাজেডি ও মহাকাব্য- বর্তমান যুগে মহাকাব্যের অভাব কেন- Mock Epic- নীতিকবিতা- রূপক কবিতা- ব্যঙ্গ কবিতা- প্যারডি ও গীতিনাটিকা- লিপিকবিতা- নাটকীয় একোক্তি- নাট্যগীতি- গীতিনাটিকা- Triolet
  • নাটক- নাটক কাহাকে বলে- সংস্কৃত নাটক- ক্ল্যাসিকাল ও রোমান্টিক নাটক- নাটকীয় ঐক্যনীতি- নাটকের প্রয়োজনীয় বিষয়- ট্র্যাজেডি- ট্র্যাজেডি আনন্দ দেয় কেন- কমেডি- কমেডির উদ্দেশ্য; কমেডির শ্রেণীবিভাগ- ঐতিহাসিক নাটক- পৌরাণিক নাটক- প্রহসন- Extravaganza- গীতিনাট্য- নৃত্যনাট্য- চরিতনাটক- উপন্যাস নাটক- অতিনাটক- সাঙ্কেতিক নাটক- সমস্যামূলক নাটক- নাটক ও উপন্যাস- নাটকে অতিপ্রাকৃত সংস্থান- একাঙ্ক নাটক- বাংলা ও ইংরেজি সাহিত্যে একাঙ্কিকা- ছোটগল্প ও একাঙ্কিকা- বাংলা নাট্যসাহিত্য- বাংলা সাহিত্যে নাটকের অভাব কেন
  • উপন্যাস- সংজ্ঞা- উপন্যাসের গঠনরীতি- শ্রেণীবিভাগ- উপন্যাসের শ্রেষ্ঠত্ব বিচার- উপন্যাসের নীতি ও বাস্তবতা- বাংলা সাহিত্যে উপন্যাস
  • ছোটগল্প- ছোটগল্পের গঠনরীতি- শ্রেণীবিভাগ- উপন্যাস ও ছোটগল্প- বাংলা ও ইংরেজি সাহিত্যে ছোটগল্প
  • প্রবন্ধ সাহিত্য- প্রবন্ধ সাহিত্য- শ্রেণীবিভাগ- তন্ময় ও মন্ময় প্রবন্ধ- Bells Letters- ব্যক্তিগত প্রবন্ধ ও অন্যান্য সাহিত্যিক রূপকর্ম- বাংলা প্রবন্ধ সাহিত্য
  • সমালোচনা- সমালোচনা ও সমালোচক- বিবিধ সমালোচনা পদ্ধতি- সমালোচক ও সাহিত্যদ্রষ্টা- বাংলা সমালোচনা সাহিত্য
  • গদ্যসাহিত্য (বিবিধ) – জীবনচরিত- আত্মচরিত- লিপিসাহিত্য- ভ্রমণবৃত্তান্ত
  • রোমান্টিসিজম্‌ ও ক্ল্যাসিসিজম্‌- ইংরেজি সাহিত্যে Romanticism- রোমান্টিক ও যুগ প্রবর্তনের কারণ- Romanticism অর্থ কি- রোমান্টিক ও ক্ল্যাসিকাল দৃষ্টিভঙ্গি- বাংলা সাহিত্যে রোমান্টিসিজম্‌
  • সাহিত্যে বস্তুতন্ত্র ও ভাবতন্ত্র
  • সাহিত্যে রসসর্বস্বতানীতি
  • বাণীভঙ্গি
  • হাস্যরস
  • সাহিত্যে সাবলিমিটি
  • সাহিত্যে মিস্টিসিজম্‌
  • বাংলা কবিতার ছন্দ
  • আর্ট ও নীতি
  • গদ্যকবিতা
  • মহৎকাব্য
  • সাহিত্য-সংকেত
  • গ্রন্থপঞ্জি
আলোচনা প্রসঙ্গে লেখক বিষয়টি কাকে বলে, রূপ কেমন, তার বৈশিষ্ট্যই বা কিরকম সে প্রশ্নগুলি স্পষ্ট করতে চেয়েছেন। তিনি কোন সংজ্ঞার ফাঁদে প্রসঙ্গকে বন্দী করতে চান নি। বরং বিভিন্ন উদাহরণ ও একাধিক মণীষীর বক্তব্য তুলে ধরে পাঠকের সাথে বিষয়ের পরিচয় ঘটাতে চেয়েছেন। প্রসঙ্গক্রমে নিজের মতামত বর্ণনা করেছেন, ব্যাখ্যা দিয়েছেন আনুষঙ্গিক উদাহরণগুলোর। বিভিন্ন দর্শনসিদ্ধ আলো প্রক্ষেপন করে বিষয়টির অঙ্গসৌষ্ঠবকে দীপ্যমান করতে চেয়েছেন। ফলে নিবিষ্ট পাঠক পাঠপ্রক্রিয়াকে এগিয়ে নিয়ে যাবার সাথে সাথে বিষয়ের বহিরঙ্গের পাশাপাশি অন্তরঙ্গকে চিনে নিতে পারবে।

‘আর্ট’ নামক আলোচনাটির কথা যদি ধরি। লেখক বিষয়টিকে এমনভাবে উপস্থাপন করেছেন যে পাঠক নিজেই বুঝতে পারবে কোনটি আর্ট বা শিল্প আর কোনটি তা নয়। প্রাক পড়াশোনার মিথস্ক্রিয়ায় শিল্পের সার্বিক অবয়ব অনুভূত না হোক পাঠক অন্তত জানতে পারবে শিল্পের স্বরূপ, বুঝতে পারবে সুন্দর ও অসুন্দরের মধ্যে পার্থক্য; চিনতে পারবে নিজেকে, নিজের মনের সুস্থতাকে। প্রাসঙ্গিক বিবেচনায় রচনাটি থেকে কয়েকটি বাক্য পাঠ করা যেতে পারে।
  • আর্টের মধ্যে অনুভূতির প্রকাশ থাকে, কিন্তু অনুভূতি সঞ্চারই আর্টের উদ্দেশ্য নয়।
  • অনুকৃত জিনিসকে মানুষ যখন নিজের মনের মতো করিয়া স্বকীয় মানসদৃষ্টির আলোতে মূর্ত করে, তখনই উহা আর্ট বা চারুকলা।
  • যাহা অদৃশ্য ও অনধিগম্য, তাহাকে দৃশ্যমান ও অধিগম্য করাই আর্টের কাজ।
  • আমাদের জীবন চঞ্চল- চঞ্চলতার স্রোতকে ক্ষণ-সৌন্দর্যের মধ্যে বন্দি করিয়া মুহূর্তকে চিরত্ব দান করাই আর্টের ধর্ম।
  • দৃশ্য বা অদৃশ্যকে শিল্পীর চিত্তরসে রসায়িত করিয়া যে স্থিতিশীল রূপ-মহিমা দান করা হয়, উহাই আর্ট, বা ললিতকলা বা কারুশিল্প।
  • আর্টে শুধু নির্বিশেষের ব্যঞ্জনা থাকিলেই চলিবে না, উহাকে নৈর্ব্যক্তিক (Impersonal) হইতে হইবে।
  • আর্ট শিল্পীর ‘Unique and private vision of the world’
  • আর্টের অনুভূতি সত্য হইলে দ্রষ্টারও মনের মুক্তি হয়।
  • এই যে আর্টের উপভোগের মধ্য দিয়া আত্মমুক্তি, আত্মসমুন্নতি ও আত্মসাক্ষাৎকার, ইহা আবার দ্রষ্টাকে এমন এক জগতে লইয়া যাইতে পারে, যেকানে তিনি আত্মরাম হইয়া উঠিয়াছেন।
  • ইতিহাস আর্টের সাহায্যে জীবন্ত হইয়া উঠে।
‘সাহিত্য সন্দর্শন’ বইটি সাধুভাষায় লিখিত। শব্দচয়ন ও ভাষাভঙ্গির লালিত্যে বইটি সুখপাঠ্য। লেখকের আলোচনাভঙ্গি অনুসন্ধিৎসু শিক্ষার্থীর মতো। প্রশ্ন করেছেন একের পর এক। জানতে চেয়েছেন বিষয়ের গভীরতর মর্মবাণী। পরক্ষণেই প্রখ্যাত কোন এক সাহিত্যিকের রচনাংশ উদ্ধৃত করে অজ্ঞানতার দ্বার খুলেছেন। কৌতুহল নিবৃত্ত হতে না হতেই আবারো একাধিক প্রশ্নাঘাতে আলোচ্যকে বিক্ষত করেছেন। উন্মুক্ত করতে চেয়েছেন আলোচ্য প্রসঙ্গের অন্তর্জগতকে। প্রশ্নহীন কূপে যার বাস, তার কাছে শ্রীশচন্দ্র দাশের আলোচনাভঙ্গি অপরিচিত লাগতে পারে। এক বইয়ের পাঠক যিনি, এক লাইনের বক্তব্যে যিনি সমগ্রকে সংজ্ঞায়িত করতে চান, সাহিত্য সন্দর্শন বইয়ের স্বাদ আস্বাদন তার নিকট দুরূহ মনে হবে এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু সন্ধিৎসা দ্বারা যিনি চালিত হন, অবিরল প্রশ্ন যাকে তাড়না করে, বিরূপ সমালোচনা যাকে বিহ্বল করে না, তিনি এই বই হাতে পেয়ে উৎফুল্ল হয়ে উঠবেন। শিল্প-সাহিত্য জগতের কলিগুলো তার সম্মুখেই একটার পর একটা প্রস্ফুটিত হবে। বই পাঠকালীন সময়েই তিনি শিল্পের অন্তর্জগতের আনন্দময় সৌন্দর্যকে অবলোকন করে এক অনির্বচনীয় অভিজ্ঞতায় সমৃদ্ধ হয়ে উঠবেন। বইটির পঠনশেষে তিনি অভিজ্ঞার ভারে ধরণীশয্যা গ্রহণ না করে বরং বিনীত হবেন। মানুষের সৌন্দর্য সৃষ্টির নানা প্রচেষ্টার সাথে পরিচিত হয়ে উঠে তাঁর হৃদয়ে এক চরম মানবিক বোধের আলোকপ্রাপ্ত ঘটবে। এক পরিশীলিত বোধের উন্মেষ ঘটবে তার মননে। লেখকের বিনয় পাঠকের হৃদয়েও সঞ্চারিত হবে। তাঁর ভূমিকা নামীয় বক্তব্য থেকে কিছুটা উদ্ধৃত করি:
… সাহিত্যের জগত দেশ বা জাতির ঐতিহ্যানুগ হইলেও শ্রেষ্ঠ সাহিত্য চিরদিনই দেশ ও কালাতীত। কাজেই আমি সর্বকালের বিদগ্ধজনসম্মত সাহিত্যিক রুচিকেই সম্মুখে রাখিয়া এই গ্রন্থ রচনা করিয়াছি। অনেক স্থলে আমি প্রাচ্য ও পাশ্চাত্য সাহিত্য বিচারের মূলতত্ত্বগুলির সমন্বয় সাধন করিতে চেষ্টা করিয়াছি। বিতর্কমূলক বিষয়ে আমি নিজস্ব মত দিতে গিয়াও যুক্তিবাদের উপর নির্ভর করিয়াছি। শ্রেণীবিভাগ ও উদাহরণ সংগ্রহ ব্যাপারে আমাকে যে সকল গ্রন্থের নাম করিতে হইয়াছে, উহাদের সকলই যে সাহিত্য বিচারের মাপকাঠিতে উৎকৃষ্ট বা আমার নিজস্ব সাহিত্যিক মতামতের চরম পরিচায়ক, তাহা যেন কেহ মনে না করেন।
 শ্রীশচন্দ্র দাশের এখানেই সার্থকতা। তিনি পাঠককে কোন এক সংজ্ঞা নামীয় কানাগলির প্রান্তে পরিত্যাগ করেন না। বিভিন্ন উদাহরণ, ব্যাখ্যা, টীকা, মন্তব্য, বিশ্লেষণ পাঠকের সামনে উপস্থাপন করে প্রত্যাশা করেন সহৃদয়তার। নিরহংকার, বিনয়ী পাঠক নিজেই সিদ্ধান্ত নিক তার প্রাপ্য কতটুকু। যিনি সমালোচনা, ভিন্নমতকে হিংসা দ্বারা প্রতিস্থাপন করতে চান, শিল্পরাজ্যে তার প্রবেশাধিকার কতটুকু সীমাবদ্ধ তা যদি নিজে বুঝতে না চান, তাহলেও লেখকের পরিশ্রম ভস্মীভূত হয় না। কারণ রসসন্ধানী পাঠক জানেন সারবস্তু পরিশ্রবণ করতে হয়, আর তা কতটা মহার্ঘ। আর তাই বলা যায়, সাহিত্যতত্ত্বের বিবিধ প্রকরণকে আত্মস্থ করতে এই বই পাঠের বিকল্প নেই।

আমার হাতে ‘সাহিত্য সন্দর্শন’ বইয়ের দুইটি কপি রয়েছে। বইটি প্রথম প্রকাশিত হয় কবে তা কোথাও লেখা নেই। চতুর্থ সংস্করণের প্রকাশকাল লেখা আছে ১৯৬০ সাল। হাতের বই দুটির প্রচ্ছদ দুইরকমের। একটিতে তৃতীয় সংস্করণ ও অন্যটি চতুর্থ সংস্করণের ভূমিকা রয়েছে। তৃতীয় সংস্করণের ভূমিকা যেটাতে রয়েছে তা প্রকাশ হয়েছে ২০১০ সালে ‘সংশোধিত নতুন সংস্করণ’ নামে। প্রকাশ করেছে ঢাকা থেকে সূচয়নী পাবলিশার্স নামে একটি সংস্থা। কিন্তু তারা এই ধরনের বই যতটা যত্নের সাথে প্রকাশ করা উচিত, তার সাথে সম্ভবত পরিচিত নন। অথবা শুধুমাত্র ব্যাবসায়িক উদ্দেশ্য সাধনই তাদের লক্ষ্য ছিল। তৃতীয় সংস্করণের ভূমিকা নামীয় বক্তব্যে লেখক ‘সাহিত্য সঙ্কেত’ নামক একটি বিভাগের কথা বলেছেন। যা আবার চতুর্থ সংস্করণের বইটিতে নেই। ‘সাহিত্য সঙ্কেত’ বিভাগটি সম্পর্কে লেখক বলেন:
‘সাহিত্য সঙ্কেত’ বিভাগে বাংলা সাহিত্যে অবশ্যপাঠ্য কতকগুলি গ্রন্থের নাম করিয়াছি। এইরূপ তালিকা অসম্পূর্ণ ও ত্রুটিবহুল হইতে পারে। তথাপি আমি শুধু সংক্ষিপ্ত পাঠ-নির্দেশ করিয়াছি এই ভাবিয়া যে, বাংলায় এইরূপ একটি তালিকা থাকা বাঞ্ছনীয়।
আমার হাতের বই দুটি সম্ভবত পাইরেটেড। কারণ কোনটিতেই প্রথম সংস্করণ, দ্বিতীয় সংস্করণ সম্পর্কে কোন বক্তব্য নেই। প্রথম প্রকাশকাল কোনটাতেই লেখা নেই। এই ধরণের অসম্পূর্ণ তথ্য দিয়ে বই প্রকাশ করা হীনমানসিকতা সম্পন্ন প্রকাশকদের কাজ এতে কোন সন্দেহ নেই। তবে পাশাপাশি এটাও বোঝায় যে, ‘সাহিত্য সন্দর্শন’ বইটির চাহিদা এত ব্যাপক যে মূল গ্রন্থের সহজপ্রাপ্যতার অভাবে নকল কপি বাজারে বের করতে হয়েছে। এই আলোচনার প্রচ্ছদপট হিসেবে চতুর্থ সংস্করণের প্রচ্ছদের ছবি ব্যবহার করা হল। উপর্যুক্ত সূচীটি তৃতীয় সংস্করণ থেকে নেয়া। উদ্ধৃত ভূমিকাংশটি চতুর্থ সংস্করণ থেকে সংগৃহীত।

কোন মন্তব্য নেই

মন্তব্য করার পূর্বে মন্তব্যর নীতিমালা পাঠ আবশ্যক। বিস্তারিত কিছু জানাতে চাইলে এখানে ক্লিক করে ই-মেইল করুন।