'মাজুল হাসান' অনুদিত "রাসেল এডসনের কবিতা"র প্রবণতা বর্ণনা করেছেন মেহেরাব ইফতি

'মাজুল হাসান' অনুদিত "রাসেল এডসনের কবিতা"র প্রবণতা বর্ণনা করেছেন মেহেরাব ইফতি

রাসেলের পোয়েট্রির ফর্ম ক্রিয়েট হওয়ার পিছে আমি দুইটা কজ দেখতে পাই। একটা তো হইল যে রাসেলের বাপে কার্টুনিস্ট আছিলেন; এবং পরে রাসেল কার্টুন আর ইলাস্ট্রেশনের কাজ করছেন তাঁর নিজের বাসাত বইয়া বইয়া বছরের পর বছর। আরেকটা হইল রাসেল নিজেই ফেবলস লিখতেন। টানা ২২ বছর রাসেল কোনো পোয়েট্রির বই বাইর করে নাই; মুশকিল হয় না এইটা বুঝতে যে অই পিরিয়ডে রাসেল যেসব ফেবলস লিখছেন অইগুলা পরে তার পোয়েট্রির মধ্যে রিফর্ম করছেন উনি। রাসেলের বাপের যে কার্টুন ইম্প্রেশন ওইটা কবিতাতে হান্দাইয়া গেছে এইটা বুঝা যায় এইভাবে যে, রাসেল তাঁর পোয়েট্রির মধ্যে যে ইমেজ ক্রিয়েট করে ওইটা যতটা না স্যুররিয়ালিস্ট এরচে' বেশি আমার কাছে লাগছে কার্টুনিস্ট।

রাসেলের পোয়েট্রির প্রবণতা কেমন?

প্রথম প্রবণতাটা তাঁর নিজের পরিবেশের কারনে ক্রিয়েট হওনের সম্ভাবনা বেশি। রাসেল যে পোয়েট্রি করে এইটারে তো প্রোস পোয়েম কয়। তো, এইটার যে স্পেস, একুরেসি এইগুলা দেইখা একটা জিনিস অনুমান করা যায় যে, দিনের পর দিন অই হালায় তাঁর বাসাতেই কাটাইয়া দিছেন। কানেকটিকাটের বাইরে উনি গেছেন একদম হাতে গোনা। মরার আগপর্যন্ত অই ঘরের ভিত্রেই হান্দাইয়া ছিলেন। যেটারে উনি 'টানেল' কইতেন আরকি। এইটা তো গেলো ফ্রেমিংটা পোয়েট্রির।

আরো প্রবণতার কথা যদি বলা যায় সেটা হইল, রাসেলের কবিতা পয়লা পড়লেই মনে হইব যেন রাসেল স্যুররিয়ালিস্ট। এইগুলা আসলে স্যুররিয়ালিস্ট না, কার্টুনিস্ট। এইখানে লজিকাল ননসেন্স কিংবা ফেবলস কিংবা স্যাটায়ার এইগুলা বেশি পাত্তা পাইতেছে বইলা আমার অন্তত মনে হয় নাই রাসেলের কবিতা রিডিং এ। স্যাটায়ার যে মাঝে মাঝে হয় না সেইটা বলতে চাইতেছি না। কিন্তু মোটাদাগে ওইটা হিশাবে রাসেলের কবিতার চিন-পরিচয় করানো উচিত হইবে না। আপনি যদি অধিক কার্টুন দেইখা থাকেন আমার মতো (donald duck, oggy and the cockroaches, pengu, bob the builder, tom and jerry, bugs bunny), তাইলে রাসেল এডসন পইড়া আর চমকাইবেন না, মনে হইবে আরে এইগুলা তো স্বাভাবিকই। কারো হাতির মিনিয়েচার হইয়া যাওয়া, কারো দেয়ালে পালক গজানো, কোনো শিশুর পিঁপড়ার ফার্ম দেখভাল করা- সবকিছুই মনে হইবে অহ, এইগুলার ইমেজ তো আমরা ল্যাদাকালে সিএন-এ দেইখাই বড় হইছি।

কিন্তু রাসেলের প্যারাডক্স ফুল মার্কস পাইলেও উনার স্যাটায়ার আমার দিক থেকে পাস মার্কের বেশি পাইবে না। বিকজ, এই যে স্যাটায়ার এইটার পলিটিকাল কিংবা সোশ্যাল পজিশন আমার কাছে অতটা রিয়ালিস্ট লাগে নাই; যতটা রিয়ালিস্ট লাগলে এইটারে সোশ্যাল ক্রিটিক হিশাবে বিবেচনায় আনা যায়। এখন স্যাটায়ার কি রিয়ালিস্টিক হইতে হবে কিনা? না, আসলে হইতে হবে না কিন্তু উনার এসথেটিক চয়েজে সোশ্যাল ক্রিটিক যদি না থাকে তাইলে সেইটা আসলে কিসের অবস্থান এবং কার অবস্থানের এনালিসিস সেইটা তো ধরা মুশকিল। এই মুশকিল ধরার যায়গা থেকেও যদি কই যে, উনার স্যাটায়ার ঝাপসা, আসলে অমন ন কিন্তু! উনি পরিষ্কার অবজেকটিভ আচরণ কইরা যান উনার পোয়েট্রিতে। এতোদিন পর্যন্ত আমরা আইডিয়া জেনারেট করার লাইগ্যা যে যে সাবজেক্টের কাছে ধর্না দিয়া আসতেছি, উনি এইগুলার ক্যানভাসের গাছে হাত পাতছেন। এই দিক থেকে এইটা তো বলাই যায় যে, উনার স্যাটায়ার একটা রিফর্মিং ইন্সট্রুমেন্ট।

====================
রাসেল এডসনের কবিতা
ভূমিকা ও ভাষান্তরঃ মাজুল হাসান

প্রকাশক : জেব্রাক্রসিং প্রকাশন
প্রথম প্রকাশ : ফেব্রুয়ারি ২০১৮
পেইজ সংখ্যা : ১৬৮
প্রচ্ছদশিল্পী : রাজীব দত্ত
আইএসবিএন :  9789848094242

কোন মন্তব্য নেই

মন্তব্য করার পূর্বে মন্তব্যর নীতিমালা পাঠ আবশ্যক। বিস্তারিতভাবে কিছু জানাতে চাইলে এখানে ক্লিক করে ই-মেইল করুন।