‘শিক্ষাবার্তা’ : এপ্রিল-মে-জুন ২০১৮ সংখ্যা

‘শিক্ষাবার্তা’ : এপ্রিল-মে-জুন ২০১৮ সংখ্যা
শিক্ষা ও সংস্কৃতি বিষয়ক ত্রৈমাসিক পত্রিকা ‘শিক্ষাবার্তা’ পত্রিকার এপ্রিল-মে-জুন ২০১৮ সংখ্যাটি হাতে পেলাম। শিক্ষা বিষয়ে আন্তরিক সম্পাদক আফরোজান নাহার রাশেদা'র যোগ্য নেতৃত্বে পত্রিকাটি ২৮তম বৎসর পাড়ি দিচ্ছে। বরাবরের মত এই সংখ্যাটি সাজানো হয়েছে বেশ কয়েকটি শিক্ষা সংশ্লিষ্ট সমৃদ্ধ লেখা দিয়ে। অন্যান্য পত্রিকার চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য শিক্ষাবার্তার নয়। আলোচনা-সমালোচনা, প্রবন্ধ, সংবাদ জাতীয় রচনা পত্রিকাটির প্রধান উপাদান। শিক্ষা বিষয়ে বাংলাদেশের একমাত্র পত্রিকা এটি; শিক্ষাকেন্দ্রিক বিভিন্ন প্রসঙ্গ এখানে গুরুত্ব পায়। ফলে গল্প-কবিতা বা কোন ফিকশন এতে স্থান পায় না; এই সংখ্যাও তার ব্যতিক্রম নয়।  শিক্ষাদর্শন, শিক্ষাভাবনা, শিক্ষক ও শিক্ষকতা, শিক্ষা ব্যবস্থাপনা এবং শিক্ষা সম্পর্কিত সংবাদ ‘শিক্ষাবার্তা’ পত্রিকার এই সংখ্যার চুরাশিটি পৃষ্ঠা জুড়ে সাজানো হয়েছে। পত্রিকার সূচীপত্র নিম্নরূপঃ

  • সম্পাদকীয়
  • নববর্ষের ভিত্তি এখনো মূলত মানসিক এবং প্রতীকী - ড. আনিসুজ্জামান
  • ফ্যাসিবাদ ও যুদ্ধবিরোধী রবীন্দ্রনাথ – এম. এ. আজিজ মিয়া
  • বাংলা নববর্ষ ও চৈত্রসংক্রান্ত্রি - আমিনুল ইসলাম আমির
  • ব্যক্তিমালাকানার বিরুদ্ধেই লেখকদের শক্ত অবস্থান নিতে হবে - ড. সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী
  • সেমিনার প্রবন্ধঃ প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে স্বল্পমেয়াদী ও দীর্ঘমেয়াদী করণীয় – এ. এন. রাশেদা
  • আলোচক- ডা. আবু সাঈদ, প্রণব সাহা, ড. এম এম আকাশ, প্রকৌশলী ড. শামসুল আলম, খন্দকার মুনীরুজ্জামান, অধ্যাপক নুসরাত সুলতানা, ড. আ. মু. মুয়াজ্জাম হুসেন, মোশতাক আহমেদ, মিজানুর রহমান মিজান, শহিদুল ইসলাম
  • গণসাক্ষরতা অভিযান'র পক্ষ থেকে মাননীয় অর্থমন্ত্রীর কাছে বাজেট পূর্ব স্মারকলিপি
  • সেকায়েপের শিক্ষকদের স্থায়ী করতে অনীহা কেন? - জুবায়ের আল মাহমুদ
  • বাংলাদেশের রাষ্ট্রচরিত্র ও অনুন্নয়ন মুক্তিযুদ্ধের চেতনার দৃষ্টিকোণ থেকে- ড. মইনুল ইসলাম
  • মানবিক শিক্ষা বনাম বাণিজ্যিক শিক্ষা- মো. রেজাউল করিম
  • আদর্শ শিক্ষক ও রাজনৈতিক মূল্যবোধ – মো. সহীদুর রহমান
  • অবরোধ বাসিনী - বেগম রোকেয়া সাখাওয়াৎ হোসেন
  • জে. বি. বিউরি'র চিন্তার স্বাধীনতা অর্জনের ইতিহাস – ভাবানুবাদঃ শহিদুল ইসলাম
  • শিক্ষার্থীর পাতাঃ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় (?) - সাইফুল ইসলাম সাইফ
  • আমাদের পরীক্ষা পদ্ধতি কেমন হলে ভালো হয় - তানজিলা খানম
  • শিক্ষা সংবাদ- দৈনিকের পাতা থেকে
প্রতিটি লেখাই শিক্ষা সম্পর্কিত। শিক্ষা নিয়ে চিন্তাশীল ব্যক্তিগণ বাংলাদেশে প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থা ও এর বিভিন্ন দুর্বলতা দূরীকরণে নিজেদের ভাবনা প্রকাশ করেছেন। এঁদের মধ্যে প্রাজ্ঞ শিক্ষাবিদ যেমন আছেন, তেমনি সাধারণ ছাত্রও রয়েছেন। প্রত্যেকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে নিজস্ব চিন্তাপরিধির অবয়বে এবং শিক্ষাবিজ্ঞানের জ্ঞান থেকে দেশের শিক্ষা সমস্যাগুলোকে চিহ্নিত করে তার সমাধানে বিভিন্ন মতামত প্রকাশ করেছেন। প্রতিটি লেখাই গুরুত্বপূর্ণ এবং মনোযোগের সাথে নিবিড় পাঠ প্রত্যাশা করে।

প্রথম প্রবন্ধ নববর্ষের ভিত্তি এখনো মূলত মানসিক এবং প্রতীকী'তে ড. আনিসুজ্জামান বাংলা নববর্ষের বিভিন্ন দিক আলোচনা শেষে আমাদেরকে জানান যে এই উৎসব বাঙালির প্রাণের গভীর থেকে উৎসারিত। একে কোনভাবেই দমিয়ে রাখা সম্ভব নয়। হাজার বৎসরের চর্চায় অভ্যস্ত বাঙালি এরকম একটি উৎসবের উপলক্ষ্যে সংঘবদ্ধ হতে চায়। বৎসরব্যাপী জমা পড়া যাবতীয় জরা-গ্লানিকে মুছে ফেলতে চায়। অনেকের সাথে মিলিত হয়ে একটি সম্মিলিত আনন্দের স্রোতধারায় অবগাহন করতে চায়। এই আত্মদর্শনকে সহজে থামিয়ে দেয়া সম্ভব নয়। বিদেশী সংস্কৃতির এদেশীয় প্রতিনিধিদের যাবতীয় কুচক্র, কুটচাল, অপপ্রচারণা ও সহিংসতাকে উপেক্ষা করে বাঙালি তার প্রাণের উৎসবে অংশগ্রহণ করবেই। এটা অর্থনীতি বা রাজনীতির বিষয় নয় এটা মূলত মানসিক তথা দার্শনিক অবস্থানের বিষয়।

এম. এ. আজিজ মিয়া লিখিত ফ্যাসিবাদ ও যুদ্ধবিরোধী রবীন্দ্রনাথ নিবন্ধটিতে লেখক ইউরোপীয় সভ্যতা প্রসঙ্গে রবীন্দ্রনাথের মানসিক বিবর্তনকে চিহ্নিত করেছেন। রবীন্দ্রনাথ জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে ইউরোপের বিভিন্ন দেশ এবং জাপান ঘুরে তাদের কর্মশক্তি ও দার্শনিক উদারতাকে অনুভব করেছেন। চেয়েছেন ঝিমিয়ে পড়া বাঙালি সমাজেও ইউরোপ বা জাপানের জ্ঞানচর্চা, কর্মোদ্দীপনা ও দার্শনিক মনোভঙ্গির ঢেউ লাগুক। বাঙালি জেগে উঠুক শত বৎসরের ঘুমন্ত অবস্থা থেকে, উপলব্ধি করুক নিজের অাত্মার ঔজ্জ্বলতাকে। কিন্তু দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের দামামা এবং তার পূর্ববর্তী ইউরোপের বিভিন্ন ঘটনা রবীন্দ্রনাথকে নিরাশ করে। তিনি ইউরোপের সভ্যতার অন্তর্নিহিত সৌন্দর্য নিয়ে নিজের পূর্ববর্তী অবস্থান থেকে সরে আসেন। বিভিন্ন কবিতায় তাঁর হতাশার কথা ব্যক্ত করেন। ‘প্রান্তিক’ কাব্যে এরকম একটি বিখ্যাত কবিতা রয়েছে। এই কবিতায় তাঁর মনোভাব স্পষ্টঃ
নাগিনীরা চারিদিকে ফেলিতেছে বিষাক্ত নিঃশ্বাস
শান্তির ললিত বাণী শোনাইবে ব্যর্থ পরিহাস
এই নিবন্ধ থেকে একটি মজার তথ্য জানতে পারি। ১৯৩৬-৩৭ সালে ভারতবর্ষে বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে ইউরোপের ফ্যাসিবাদ ও যুদ্ধোন্মাদনার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করা হচ্ছিল। ১৯৩৭ সালের মার্চ মাসে ‘ফ্যাসিবাদ ও যুদ্ধ বিরোধী লীগ’ - এর সর্বভারতীয় শাখা গঠিত হয়। এই কমিটির সভাপতি হন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং সম্পাদক সৌমেন্দ্রনাথ ঠাকুর। রবীন্দ্রনাথ স্পেনের গৃহযুদ্ধে রিপাবলিকান দলের সমর্থনে একটি বিবৃতিও প্রকাশ করেন। সমসাময়িক সময়ে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ইতালির ফ্যাসিস্ট শাসক  মুসোলিনির একটি ব্যঙ্গচিত্র অঙ্কন করেন। এর প্রতিক্রিয়ায় জার্মানীতে রবীন্দ্রনাথকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়। সেসময়-
হিটলারের গোয়েন্দাপ্রধান গোয়েবলস বলেছিল, ‘আসলে রবীন্দ্রনাথ ইহুদী, তার আসল নাম রাব্বিনাথন'।
শিক্ষাবার্তা পত্রিকার এই সংখ্যার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রবন্ধ শিক্ষাবিদ এ. এন. রাশেদা লিখিত প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে স্বল্পমেয়াদী ও দীর্ঘমেয়াদী করণীয় নামক রচনাটি। এই প্রবন্ধে তিনি বিস্তারিত ভাবে বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থার বিভিন্ন সমস্যাকে তথ্য উপাত্ত দিয়ে চিহ্নিত করে সেই সমস্যাগুলো থেকে উত্তরণের উপায় প্রস্তাব উপস্থাপন করেছেন। সাম্প্রতিক বৎসরসমূহের বিভিন্ন পরীক্ষায় বিশেষত জাতীয় পরীক্ষাগুলোতে প্রশ্ন ফাঁস হওয়ার বিষয়টি প্রধান আলোচ্য। পাশাপাশি প্রচলিত শিক্ষানীতির অসম্পূর্ণতা বা দূর্বলতাগুলোকেও তিনি বিশ্লেষণ করেছেন। বর্তমান শিক্ষাকাঠামোতে চিন্তাশীল শিক্ষার্থী তৈরি সম্ভব হচ্ছে না। জিপিএ ৫ নামক একটি উদ্ভট মূল্যায়নের ফাঁদে সমাজ আটকে আছে। শিক্ষার্থী ও অভিভাবক গোল্ডেন জিপিএ ৫ নামের আর একটি অপ্রয়োজনীয় ফলাফলকে পরম কাঙ্ক্ষিত মনে করে শিক্ষার মূল উদ্দেশ্যকেই ব্যাহত করছে। তাই সমাজে মানবিক ও মননশীল মানুষ তৈরি হচ্ছে না। অথচ শিক্ষার উদ্দেশ্য চাকুরীর জন্য চাকর তৈরি নয়; সমাজ বিনির্মাণে আধুনিক, প্রগতিশীল, বিজ্ঞানমনস্ক, রুচিশীল, সংস্কৃতিপ্রবণ, মানবতাবোধ সম্পন্ন মানুষ তৈরি। যারা বিশ্বের চাহিদার সাথে তাল মিলিয়ে নিজেদের দেশকে একটি সুখী সমৃদ্ধশালী রাষ্ট্রে পরিণত করতে আন্তরিকভাবে অংশগ্রহণ করবে। লেখক প্রচলিত সৃজনশীল পরীক্ষা পদ্ধতির অন্তসারশূন্যতা এবং শিক্ষার মান উন্নয়নে গৃহীত বিভিন্ন প্রকল্পসমূহের ব্যর্থতার বিষয়টিও প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত দিয়ে তুলে ধরেছেন। শিক্ষকদের সম্মান পুনরুদ্ধার, শিক্ষকদের ক্ষমতায়ন, বিদ্যালয়কে পূর্ণাঙ্গরূপ দান, শিক্ষাদর্শন ও ব্যবস্থাকে সমাজের উপযোগী করে তোলা ইত্যাদি বিষয়েও মূল্যবান আলোচনা করেছেন। তিনি মনে করেন একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সামাজিক সম্পত্তি। আর তাই সমাজ এর মূল্যায়নের জন্য যথেষ্ট। কোন পূর্বনির্ধারিত মানদণ্ড দ্বারা দেশের বিভিন্ন ভৌগলিক ও অর্থনৈতিক বৈশিষ্ট্যের এলাকার ছাত্রদেরকে একই মানের শিক্ষাদান ও মূল্যায়ন সম্ভব নয়। এজন্য শিক্ষা ব্যবস্থাকে শিক্ষকদের হাতে ফিরিয়ে দিতে হবে। যারা কোনদিন শ্রেণীকক্ষে প্রবেশ করেন নি; যারা শিক্ষাবিজ্ঞান বিষয়ে দু'লাইন পড়াশোনা করেন নি, এমন ব্যক্তিদেরকে শিক্ষাকাঠামোর বাহিরে রাখতে হবে। শিক্ষার্থীদের সাথে শিক্ষকদের সম্পর্ক যেহেতু ঘনিষ্ঠ সেহেতু শিক্ষার্থীদের শিক্ষার দায় ও ভার শিক্ষকদের হাতেই থাকা উচিত। অশিক্ষক কারো খবরদারি যে শিক্ষা ব্যবস্থাকে ভারসাম্যহীন করে তোলে, শিক্ষাব্যবস্থায় শিক্ষকের অধিকারকে ক্ষুণ্ণ করে তাকে অপমান করে চলমান ব্যবস্থায় তার ফলাফল দেশের বিভিন্ন সেক্টরের দূর্নীতিতে দগদগে হয়ে উঠেছে। শিক্ষাদান একটি সৃষ্টিশীল কার্য; অপমানিত মনোবেদনা নিয়ে এই কার্যটি কতটা সফলভাবে সম্ভব হতে পারে, তা শিক্ষাদর্শন জানেন ও বোঝেন এমন চিন্তাশীল মানুষ ছাড়া অন্য কারো অনুধাবন সম্ভব নয়। অবহেলিত শিক্ষকের যন্ত্রণার  প্রতিচ্ছবি আজ সমাজের সকল স্তরে দৃশ্যমান। দেশকে সমাজকে ভালবাসলে এখনই সকলের সচেতন হওয়া উচিত।

প্রাজ্ঞ শিক্ষাবিদ এ. এন. রাশেদার এই প্রবন্ধের উপর আলোচনা করেন ডা. আবু সাঈদ, প্রণব সাহা, ড. এম এম আকাশ, প্রকৌশলী ড. শামসুল আলমসহ অন্যরা। তারাও বিভিন্ন উদাহরণ দিয়ে বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থার সমালোচনা করেন এবং তা থেকে উত্তরণের বিভিন্ন পদ্ধতি প্রস্তাব করেন। শিক্ষাবিদগণের বিভিন্ন আলোচনায় উঠে এসেছে দেশ উন্নয়নে যথাযথ শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা ও বিভিন্ন ভূমিকার কথা।

শিক্ষার্থীর পাতা অধ্যায়ে দুইজন শিক্ষার্থীর শিক্ষাভাবনা প্রকাশিত হয়েছে। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় (?), এবং আমাদের পরীক্ষা পদ্ধতি কেমন হলে ভালো হয় শীর্ষক প্রবন্ধদুটিতে দুইজন তরুণ শিক্ষার্থী শিক্ষাবিষয়ে নিজেদের ভাবনা প্রকাশিত করেছেন। বয়সে তরুণ হলেও তাদের চিন্তা অপরিণত নয়। যথার্থ শিক্ষাপ্রেমীর দৃষ্টিভঙ্গি থেকে তাঁরা বর্তমান শিক্ষার সমস্যাগুলোকে উল্লেখ করতে পেরেছেন। শিক্ষাসচেতন অবস্থান থেকে এই সমস্যাগুলো দূর করার উপায় বাতলে দিয়েছেন। তরুণ শিক্ষার্থী সাইফুল ইসলাম সাইফ তার রচনার শিরোনামে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় নামের পাশে যে প্রশ্নবোধক চিহ্নটি এঁকে দিয়েছেন তা আমাদেরকে নির্বাক করে তোলে। আমরা এই বিকট প্রশ্নের কোন উত্তর খুঁজে পাই না। আরেক শিক্ষার্থী তানজিলা খানমের বেশ কিছু প্রস্তাব তো একেবারে আনকোরা, বাস্তবসম্মত এবং যথার্থ অর্থে সৃজনশীল। সত্যিকারের মৌলিক চিন্তা সামর্থ্যের প্রজন্ম গড়ে তুলতে তার প্রস্তাবগুলো শিক্ষাদার্শনিকদের ভাবিয়ে তুলবে একথা নিশ্চিতভাবে বলা যায়।

যথার্থ শিক্ষিত জাতি গড়ে তুলতে ‘শিক্ষাবার্তা’ পত্রিকা নিরন্তর চেষ্টা করে যাচ্ছে। এই পত্রিকার শিক্ষাদর্শনভিত্তিক বিভিন্ন আলোচনা শিক্ষা নিয়ে আমাদের মনে নতুন ভাবনা ও উৎসাহ তৈরি করে। বাংলাদেশের একমাত্র শিক্ষাবিষয়ক পত্রিকাটি শিক্ষাবিদসহ সকল শ্রেণীর মানুষের হৃদয়ে শিক্ষার মূল্য জাগ্রত করতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে। দেশের সকল শিক্ষক, শিক্ষা সংশ্লিষ্ট সকল ব্যক্তি, সমাজ চিন্তক প্রত্যেকের এই পত্রিকা পাঠ করা উচিত। তাহলে নিজেদের ভাবনাকে মূল্যায়ন করার সামর্থ তাঁদের তৈরি হবে। আত্মসমালোচনার বিনয় যাদের রয়েছে, তাঁদেরকে ‘শিক্ষাবার্তা’ পত্রিকার গুরুত্ব আলাদাভাবে বলার প্রয়োজন আছে বলে মনে করি না। এই পত্রিকা নিয়মিত প্রকাশিত হোক। নতুন নতুন শিক্ষাভাবনা দ্বারা আমাদেরকে সমৃদ্ধ করুক, আমাদের মানসিক দূর্বলতাগুলোকে চিহ্নিত করুক এবং সেই সাথে দিক সংশোধন ও সমস্যা থেকে উত্তরণের নির্দেশনা এই প্রত্যাশা করি।

=============
শিক্ষাবার্তা
এপ্রিল-মে-জুন ২০১৮, বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠ-আষাঢ় ১৪২৫
সম্পাদকঃ আফরোজান নাহার রাশেদা
পৃষ্ঠাসংখ্যাঃ ৮৪
মূল্যঃ ৪০ টাকা

কোন মন্তব্য নেই

মন্তব্য করার পূর্বে মন্তব্যর নীতিমালা সম্পাদকের স্বীকারোক্তি পাঠ আবশ্যক। ইচ্ছে হলে ই-মেইল করুন।