এস টি কোলরিজঃ অনিরুদ্ধ বিষন্নতায় মগ্ন দূর কল্পলোকের এক অসামান্য কবি- সরদার মোহম্মদ রাজ্জাক

এস টি কোলরিজঃ অনিরুদ্ধ বিষন্নতায় মগ্ন দূর কল্পলোকের এক অসামান্য কবি- সরদার মোহম্মদ রাজ্জাক

স্যামুয়েল টেলর কোলরিজ (Samuel Taylor Coleridge)। একজন ব্রিটিশ কবি। যাঁকে সাধারণ ভাবে অভিহিত করা হয় একজন দূর কল্পচারী আর অসীম কল্পনাগামী এবং রোমান্টিক কবির পাশাপাশি প্রকৃতি এবং বিষন্নতার কবি হিসেবে। কিন্তু তাঁর এ কল্পনা এবং রোমান্স প্রিয়তার Elemental Object- টি  কি? এবং ‘বিষন্নতা’র বিষয়টিই বা কেন তার রচনায় অনিবার্য একটি ‘Subject’ হয়ে দাঁড়ায়? এই নিগুঢ় তাৎপর্য্যপূর্ণ প্রশ্ন দু’টির মধ্যে প্রথমটির একটি অতি তাৎক্ষণিক সহজ এবং সাধারণ উত্তর হয়তো স্বাভাবিকভাবেই দেয়া যায় যে-  NATURE- অথবা প্রকৃতি। কিন্তু শুধু এটুকু বললেই প্রশ্নটির সার্বিক উত্তরের পূর্ণ বিকাশ ঘটে না। যেহেতু তিনি রোমান্টিক হলেও তার Romanticism- এর মূল ভিত্তিই হলো ‘IMAGINATION,’-এ ক্ষেত্রে তার ‘DEJECTION- কবিতাটি থেকে কবিতাটির কিছু অংশ উদ্ধৃত করা যাক-
DEJECTION

01. There was a time when, though my path was rough,
This joy within me dallied with distress,
And all misfortunes were but as the stuff
Whence Fancy made me dreams of happiness:
For hope grew round me, like the twining vine,
And fruits, and foliage, not my own, seemed mine.
But now afflictions bow me down to earth:
Nor care I that they rob me of my mirth;
But oh! each visitation
Suspends what nature gave me at my birth,
My shaping spirit of Imagination.
For not to think of what I needs must feel,
But to be still and patient, all I can;
And haply by abstruse research to steal
From my own nature all the natural man—
This was my sole resource, my only plan:
Till that which suits a part infects the whole,
And now is almost grown the habit of my soul.

Samuel Taylor Coleridge
Biographia Literaria,
Edited by J. Sawcross,
introduction, Page-xxxvi-xxxvii
In nothing does this loss of imaginative power exhibit itself more clearly than in the languor  of his  feelings in face of the beauties of nature. Even as he writes, he is gazing with indifference at the glories of the sun set’-Biographia Literaria vol-1

Introduction
02. And still I gaze—and with how blank an eye!
And those thin clouds above, in flakes and bars,
That give away their motion to the stars;
Those stars, that glide behind them or between,
Now sparkling, now bedimmed, but always seen:
Yon crescent Moon, as fixed as if it grew
In its own cloudless, starless lake of blue;
I see them all so excellently fair,
I see, not feel, how beautiful they are!

S. T. Coleridge
Biographia Literaria,
vol-1  Edited by J. Shawcross,
introduction, Page-xxxvi-xxxvii.
উদ্ধৃত কবিতাটির দুটি পংক্তি- যেখানে তিনি বলেছেন- ‘আমার চতুর্দিক থেকে জন্মিত প্রত্যাশালতা আমাকে বেষ্টিত করে। এবং যে প্রত্যাশার ফলমূল, পত্র পল্লব কিছুই আমার নয়, মনে হয় আমার মতো।’ -(ইংরেজী থেকে অনুবাদ- লেখক) । এর পরের আরো দুটি পঙক্তিতে তিনি আবার বলেছেন- ‘কিন্তু আমার শারীরিক দুর্বলতা, যন্ত্রণা আমাকে পৃথিবীর কাছে নত করে দিয়েছে। কিন্তু আমি ভ্রুক্ষেপ করি না যে তারা আমার আনন্দোচ্ছ্বাসকে হরণ করতে পারবে।’ -( ইংরেজী থেকে অনুবাদ- লেখক)।
কিন্তু আহ! প্রতিটি ঈশ্বর প্রদত্ত উপদ্রব
স্থগিত করে দেয়
আমার জন্ম লগ্নে প্রকৃতি আমাকে যা প্রদান করেছে
আমার কল্পনাবৃত্তির অনুপম অধিত্বকে। -(ইংরেজী থেকে অনুবাদ- লেখক)।
উদ্ধৃত কবিতাংশটুকুর মর্ম উদ্ধারে অতি তীক্ষ্ম অনুসন্ধানী দৃষ্টি এবং উপলব্ধি দিয়ে বোধ-গ্রাহ্য করতে চাইলে তীব্রভাবে প্রকট হয়ে ওঠে কোলরিজের এক প্রকারের অতিমাত্রিক বিষন্নতার প্রতিভাস। যদিও তিনি লিখেছেন তিনি অত্যন্ত স্বাতন্ত্র্যের সাথে সূর্যাস্তের অপার মহিমা স্থির দৃষ্টিতে অবলোকন করেন। কিন্তু তার পরেও উল্লেখিত কবিতায় তিনি বিষন্নতাকে অস্বীকার করেন নি। যেখানে তিনি উন্মুক্ত বিশাল নীল আকাশের এক ফালি চাঁদের অবস্থানকে কল্পনা করেছেন- মেঘহীন, তারকাবিহীন নীল সরোবরে স্থির এবং জন্মিত বলে। তার কাছে সব কিছুকেই মনে হয়েছে- সব কিছু চমৎকার, কত সুন্দর। নক্ষত্র বিহীন নির্মেঘ, নীলোক্ত মহাশুন্যের স্থির একটি চন্দ্রফালির অপরূপ সৌন্দর্যের মমতা তার দৃষ্টিকে আচ্ছন্ন করেছে এবং এতে কোন প্রকার সন্দেহ নেই । কিন্তু এরই পাশাপাশি  তিনি বলেছেন- ‘I see, not feel’-অর্থাৎ তিনি দেখেছেন মাত্র, মোটেই হৃদয়িক উষ্ণ অনুভব দিয়ে উপলব্ধি করেননি। তার দেখা এবং উপলব্ধি করণের মধ্যাঞ্চলবর্তী যে বিশাল এলাকা- সে এলাকাটিই বস্তুত আবৃত কোন কিছুর প্রতি তার অনাসক্ত বিষন্নতায়। ১৮০২ খ্রিস্টাব্দের এপ্রিল মাসে তিনি যে কবিতাটি লেখেন এবং যার নামকরণ তিনি করেছেন ‘DEJECTION’’ -যার কিছু উদ্ধৃতি উপরের অংশে প্রদান করা হয়েছে। কবিতাটি লিখবার পর তিনি নিজের অভিজ্ঞতার প্রতি দুঃখবোধ করেছেন, বিলাপ করেছেন এবং তিনি ওই কবিতাটির মধ্যে এক প্রকারের আধ্যাত্মিক সত্যকে প্রত্যক্ষ করেছেন। যা তিনি চাননি। কিন্তু তাকেই তিনি তার অভিজ্ঞতার বিকাশ ঘটিয়ে উন্মোচিত করেছেন। আর এরই প্রেক্ষিতে-
He feels that he has lost his `shaping spirit of imagination, and that henceforth, he must be content with the prose of  life, the investigation of the actual and the natural, considered strictly as such. For the spiritual in himself, if it be not dead, is yet lost to consciousness, and without it he lacks the key to the spiritual in nature.’ S.T.Coleridge, Biographia Literaria,vol-1 Edited by J. Shawcross, introduction, Page-xxxvi-xxxvii.
S. T. Coleridge- এর ‘Biographia Literaria’-গ্রন্থটির সম্পাদক J. Shawcross-এর উদ্ধৃত কথাগুলি তার মৌলিক সত্ত্বাকে আঘাত করেছে এভাবে। তিনি তার নিঃসীম কল্পনাগামীতা অথবা কল্পনাবৃত্তিকেও তার নিজ কল্পনায় স্থিত অধিত্বের উন্মেষগত অস্তিত্বকেও হারিয়ে ফেলেছেন। তাকে এখন এক প্রকার অতি সাধারণ বীক্ষণ সাধ্য নিরস, ছন্দহীন গদ্যময় জীবন, সে জীবনের প্রকৃতিগত সত্য অনুসন্ধান নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হবে।

তাঁর অভ্যন্তরে যে ধর্ম ভিত্তিক অধিত্ব্যবাদকে তিনি তারই রচিত কবিতার মাধ্যমে অন্তরঙ্গভাবে উপলব্ধি এবং উদ্ধার করেছেন-যদি তার মৃত্যু না ঘটে তবে তার সচেতনতাকেও তিনি হারিয়ে ফেলবেন। যার মাধ্যমে তিনি প্রাকৃতিক অধিত্বের  দ্বারোদঘাটন করবেন তার মূল চাবিটির অভাবেই ওই অধিত্বের দ্বারোদঘাটন আর তার পক্ষে সম্ভব হয়ে উঠবে না।  এবং
To such a pass has he been brought by the deadening force of private affliction, health and the other materializing influences, all which, if not explicity referred to it in the personal lament are yet implied in the reflections with which it is entwined
এই কল্পনাবৃত্তির অধিত্ব যাকে Imagination- হিসেবে গ্রহণ করেছেন কোলরিজ এবং যার ওপর অবিচলভাবে বিশ্বস্ত থাকবার চেষ্টা করেছেন। সেই Imagination এর infinite influences, all which-ই যখন অগ্রাহ্য হয়ে যায় তার কবিতার নিগুঢ় অভ্যন্তরে তখন তাকেই তিনি উপলব্ধি করেন তার ব্যক্তিগত ‘consciousness’ এর অভাব হিসেবে । এবং তখনই তিনি আক্ষেপ করেন, ক্ষোভে ফেটে পড়তে চান। তার বিশ্বাসিত কবিতার সংজ্ঞা- ‘Poetry is the spontaneous overflow of powerful feeling-it takes it’s origin from emotion recollected in tranquility’- থেকে চ্যূত হয়ে যান। তখন তার মনে এক প্রকার উদ্বাহী ধারণা তাকে নিম্নগামীতার দিকে অনিরুদ্ধ ভাবে প্রলুদ্ধ করতে থাকে। আর সেখান থেকেই সৃষ্টি হয় তার- Dejection বা বিষন্নতা। আর এই বিষন্নতার ভয়াবহ সংক্রমণ থেকে কোনক্রমেই তিনি নিজেকে নিজের মৌলিক অবস্থানে পুনঃস্থাপিত করতে পারেন না। কোলরিজের অনেক দুর্বলতা, অনেক সীমাবদ্ধতার মধ্যে এটাই বোধ করি সবচাইতে বেশি অধিগম্য দুর্বলতা। হয়তো নিজের কাছে নিজেরই এক প্রকার অভিশংস- যা তার সহ্যসীমার সীমায়তিকে লংঘন করে যায় বার বার।

এরই প্রেক্ষিতে তিনি ১৮০২ সালের জুলাই মাসে কবি রবার্ট সাউদে-কে লেখা একটি চিঠিতে উল্লেখ করেন যে- ‘All my poetic genius is gone.’ –July 1802 letter’s i, 388. তারও আগে ১৮০১ সালের মার্চ মাসে তিনি ‘Godwin’ কে লেখা আরেকটি চিঠিতে উল্লেখ করেন যে- The poet is dead in me. My imagination -----lies like the cold snuff on the circular rim of a candlestick.’ এবং কবি রবার্ট সাউদে-কে লেখা চিঠির উদ্ধৃতি দিয়ে Biographia Literaria- গ্রন্থের সম্পাদক এভাবে উল্লেখ করেন যে-
Where he attributes his- ‘exceedingly severe metaphysical speculations---partly to ill health and partly to private afflictions.’: and Allsopp, letters and conversations of S.T. Coleridge, ii.136, ‘My eloquence was most commonly exerted by the desire of running away and hiding myself from my personal feelings.’
S.T.Coleridge
Biographia Literaria, vol-1
Edited by J. Shawcross,
introduction, Page-xxxvi-xxxvii.
উল্লেখিত চিঠিগুলিতে তিনি যে আকন্ঠ বিষন্নতায় নিমজ্জিত, তাকে যে হতাশার চূড়ান্ত সীমায় পৌঁছে দিয়েছে সে কথা তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন। অবশ্য এই হতাশা এবং বিষন্নতার জন্য তার তীব্র মানবসত্তা সম্পর্কিত নিম্নগামীতার জন্য তিনি আংশিকভাবে তার ব্যক্তিগত শারীরিক যন্ত্রণাকে অকপটে দায়ী করেছেন। তার কুবলা খান কবিতাটিতে যে বিষন্নতা এবং হতাশার প্রতিচ্ছায়া সংস্থাপিত তাও বোধ করি তার কবিতারই উত্তরাধিকার।  কুবলা খান কবিতাটির রচনার ভূমিকায় বলা হয়েছে-
In an old book Coleridge had read a passage about the great mongol emperor–KUBLA  KHAN, who ordered a great palace built for him in XANADU, in Asia.The poet fell into an uneasy sleep, Half-dreaming, half- awake, he seemed to be writing a magnificient poem about that palace. He later wrote down as much of his dream vision as he could remember or piece together.
living literature:
the literary heritage –
Edited by Hans P. Guth.
 P-507.
সেই আধো ঘুম আধো জাগরণে কুবলা খান নির্দেশিত সেই বিশাল রাজ প্রাসাদের যে স্বর্গসম সৌধের চিত্রকল্প তিনি তার Imagination কে অবলম্বন করে তার মনোজগতের গভীরতম নির্দেশিত পলিমাটিতে অঙ্কন এবং নির্মাণ করেন এবং নির্মাণ শেষে যে অপার আত্মতুষ্টিতে পরিপ্লুত এবং অভিভূত হয়ে যান- বাস্তব অভিজ্ঞানে তার নির্মিত সেই স্বর্গকল্পের কোন দেহী স্থিতি তিনি নিজেই প্রত্যক্ষ করেন না। তিনি এ ব্যর্থতার যন্ত্রণায় দ্রবীভূত হয়ে যান। নিজের মধ্যেই তিনি নিজের বিরুদ্ধে এক দুর্লংঘ দ্রোহিতাকে ধারণ করতে থাকেন। আর এটা করতে গিয়ে তিনি আরও অধিক মাত্রায় দুর্বল হয়ে   পড়েন। শুরু হয়ে যায় তার মধ্যে প্রবল অবসন্নতা। পর্যায়ক্রমিকভাবে যা ধীরে ধীরে রূপান্তরিত হয়ে যায় প্রবল বিষন্নতায়। পাশাপাশি উদাসীনতায়।

কুবলা খান কবিতাটির শুরু তিনি করেছেন এভাবে-
In Xanadu did Kubla Khan
A stately pleasure-dome decree:
Where Alph, the sacred river, ran
Through caverns measureless to man
Down to a sunless sea.
So twice five miles of fertile ground
With walls and towers were girdled round;
And there were gardens bright with sinuous rills,
Where blossomed many an incense-bearing tree;
And here were forests ancient as the hills,
Enfolding sunny spots of greenery.

But oh! that deep romantic chasm which slanted
Down the green hill athwart a cedarn cover!
A savage place! as holy and enchanted
As e’er beneath a waning moon was haunted
By woman wailing for her demon-lover!
And from this chasm, with ceaseless turmoil seething,
As if this earth in fast thick pants were breathing,
A mighty fountain momently was forced:
Amid whose swift half-intermitted burst
Huge fragments vaulted like rebounding hail,
Or chaffy grain beneath the thresher’s flail:
And mid these dancing rocks at once and ever
It flung up momently the sacred river.
Five miles meandering with a mazy motion
Through wood and dale the sacred river ran,
Then reached the caverns measureless to man,
And sank in tumult to a lifeless ocean;
And ’mid this tumult Kubla heard from far
Ancestral voices prophesying war!
The shadow of the dome of pleasure
Floated midway on the waves;
Where was heard the mingled measure
From the fountain and the caves.
It was a miracle of rare device,
A sunny pleasure-dome with caves of ice!

A damsel with a dulcimer
In a vision once I saw:
It was an Abyssinian maid
And on her dulcimer she played,
Singing of Mount Abora.
Could I revive within me
Her symphony and song,
To such a deep delight ’twould win me,
That with music loud and long,
I would build that dome in air,
That sunny dome! those caves of ice!
And all who heard should see them there,
And all should cry, Beware! Beware!
His flashing eyes, his floating hair!
Weave a circle round him thrice,
And close your eyes with holy dread
For he on honey-dew hath fed,
And drunk the milk of Paradise.

S.T. Coleridge
living literature :
The literacy heritage
Edited by – Hans p. Guth
Page- 507-509.
কবিতাটিতে অত্যন্ত প্রগাঢ়তা দিয়ে সুগভীর অভিজ্ঞতা সম্পন্ন বোধের মাতৃকতা দিয়ে উপলব্ধি করবার চেষ্টা করলে নিজের অন্তর্লোকাশ্রিত Imagination  এর কোলরিজ সৃজিত কুবলা খানের স্বর্গসৌধের প্রতিবিম্বন চিত্তচৈতন্যে আপনা আপনি একটা অলৌকিক কল্পলোকের সৃষ্টি করে। সামান্যতম মুহুর্তের জন্য হলেও একটা তন্দ্রাচ্ছনতা একটা নিগুঢ় মোহময় পৃথিবীর আবেষ্টনীতে নিজেকে আবিষ্ট করে রাখে। কবিতাটি সরাসরি তাঁর পাঠককে মুহূর্তের মধ্যেই নিত্য সাধারণ বাস্তবতা থেকে, বাস্তবতা সংশ্লিষ্টতা থেকে একটি অতিঘোর স্বপ্নরাজ্যে স্থাপিত করে। কবিতাটি তাঁর আশ্চর্যতম শিহরণ জাত কল্পনাবৃত্তির অপরিমিত শক্তি দিয়ে দৃশ্যতঃ অথবা মোহগ্রস্ততার মধ্যে দিয়ে পাঠককে গোটা বিষয়টিকে প্রত্যক্ষ অধিগম্যতায় নিমজ্জিত করে। এসব ছাড়াও কবিতাটির মধ্যে আরও ভিন্ন মাত্রার কিছু গুনাবলীর মিশ্রণ যা একজন মানুষকে তার নির্দিষ্ট স্থান এবং কাল থেকে hypnotize করার মত করে অতিদূর লোকে অনায়াসেই নিয়ে যেতে পারে। যার মাত্রাগত দিকটি অবলীলায় সাধারণ সীমাবদ্ধতাকে অতি সহজেই অতিক্রম করতে পারে। সাধারণ প্রচলিত রীতি পদ্ধতির বাইরে একজন মানুষকে অলৌকিকত্বের প্রতি অত্য্শ্চার্য জাদুকরী কৃত্যানুষ্ঠানের মাধ্যমে অনুগত অথবা ভীতিযুক্ত করতে পারে। কিন্তু বাস্তবে কবিতাটির কোন কিছুই চাক্ষুসমান হয় না। সবই থেকে যায় স্বপ্নলোকের নির্ধারিত নিরুদ্ধ সীমার গভীরে। আর এখানেই এস. টি কোলরিজের স্বর্গ হারানোর বহুমাত্রিক যন্ত্রণা, ব্যর্থতা আর বিষন্নতা। কবিতাটির কয়েকটি পঙক্তির মাধ্যমে কবি বিমোহিত হয়ে যান।
It was a miracle of rare device,
A sunny pleasure-dome with caves of ice!

A damsel with a dulcimer
In a vision once I saw:
It was an Abyssinian maid
And on her dulcimer she played,
Singing of Mount Abora.
Could I revive within me
Her symphony and song,
To such a deep delight ’twould win me,
That with music loud and long,
I would build that dome in air,
That sunny dome! those caves of ice!
And all who heard should see them there,
And all should cry, Beware! Beware!
His flashing eyes, his floating hair!
Weave a circle round him thrice,
And close your eyes with holy dread
For he on honey-dew hath fed,
And drunk the milk of Paradise.
একটি Dulcimer- নামীয় বিশেষ বাদ্য যন্ত্রের মাধ্যমে একটি আবিসিনীয় বালিকার কন্ঠে গীত মাউন্ট এ্যাবোরা নামক একটি সংগীতকে শ্রবণ করে মাত্র একটিবার তাকে দেখে। তিনি নিজেই নিজেকে প্রশ্ন করেন আমি কি তার বাদ্যযন্ত্রের সুমধুর সুর এবং কন্ঠনিঃসৃত সঙ্গীতকে আমার গভীর অন্তরে উজ্জীবিত করব। এই গভীর উৎফুল্লতা যা আমাকে জয় করে নিয়েছে তার উচ্চকিত এবং দূরগামী সঙ্গীতের মাধ্যমে। এই উৎফুল্লতা দিয়ে আমি শুনেও স্বর্গসম প্রাসাদ নির্মাণ করতে পারি নির্মাণ করতে পারি সূর্যালোকিত স্বর্গীয় প্রাসাদ বরফাবৃত গুহা সমূহের মধ্যেও।

কুবলা খান কবিতার এ পঙক্তি ক’টি নিমেষেই মনে করিয়ে দেয় ইংরেজী সাহিত্যের আর এক নিসর্গ প্রেমিক মহান কবি William Wordsworth- এর একটি বিশেষ কবিতা ‘Solitary Reaper’ এর কথা। যে কবিতাটিতে কবি একজন উপত্যকাবাসী শস্য কর্তনকারিণী বালিকার একক কন্ঠের একটি বিষাদপূর্ণ সংগীত শ্রবণ করে মন্ত্রমুগ্ধের মতো  নিজেকে ওই সংগীতের মধ্যে বিলীন করে দিয়েছিলেন। তিনি খুবই ধীর পায়ে নিঃশব্দভাবে সংগীতটিতে আবিষ্ট হয়ে তারই পাশ দিয়ে বহুদূরে চলে যান। যদিও তিনি ওই বালিকার গাওয়া সংগীতের কিছুই বুঝতে পারেননা। তার পরেও তার কাছে মনে হয় সেই শস্য কর্তনকারী বালিকার সংগীতের সুরটি যেন বহুদিন পূর্বে ঘটে যাওয়া কোন যুদ্ধের বিভীষিকাময় মর্মান্তিক বিষাদে ভরপুর অথবা স্বাভাবিক কোন দুঃখ কিছু হারানোর ব্যথাকে ধারণ করে গীত হচ্ছে। তিনি নিথর নিঃশব্দ গতিহীনতায় সংগীতটি শ্রবণ করেছেন যতক্ষণ না তিনি পাহাড়ের চূড়ায় আরোহন করেছেন এবং যেখানে তার সংগীতের শব্দ আর শ্রুত হচ্ছিল না । তার পরেও সে গানের রেশ বহু সময় ধরে তার মনের গভীরে ধারণ করেছেন গানটি অনেক আগেই শেষ হয়ে গেলেও । এবং তার মনে হচ্ছিল এ সংগীতটির বুঝি কোন শেষ নেই।

কবিতাটির শেষের কয়েকটি পঙক্তি উদ্ধৃত করা হলো-
Whate'er the theme, the Maiden sang
As if her song could have no ending;
I saw her singing at her work,
And o'er the sickle bending;—
I listened, motionless and still;
And, as I mounted up the hill,
The music in my heart I bore,
Long after it was heard no more.

William wordsworth-
 living literature : the literary Heritage,
 Edited by- Hans p. Guth Page-495
William Wordsworth এর সঙ্গে S.T. Coleridge  এর  সম্পর্কের সূত্রপাত হয় ইংল্যান্ডের ব্রিস্টলে ১৭৯৫ সালে। সে সময় থেকেই তারা একে অপরের সাথে ঘনিষ্ঠ হবার এবং একে অপরের কাছাকাছি আসবার সুযোগ পান। ওয়ার্ডসওয়ার্থ কোলরিজের মধ্যে একটি বিশেষ সৃজনশীল রোমান্টিক কল্পনাবৃত্তির লক্ষণ উপলব্ধি করেন এবং সন্ধান লাভ করেন। পাশাপাশি কোলরিজও ওয়ার্ডসওয়ার্থের মধ্যে নিবিড় নিসর্গ প্রেমের এক অবিচল রোমান্টিক প্রকৃতিগত সম্ভাবনার সন্ধান লাভ করেন। প্রকৃতপক্ষে দুজনের সাহিত্য বিষয়ক ধ্যান ধারণা একই সরল রৈখিক গতি প্রবাহে সঞ্চাালিত না হলেও ব্যক্তিগত পর্যায়ে দূরত্ব খুব বেশি ছিল না। এবং তারা কাছাকাছি চলে আসেন।

কোলরিজের ‘কুবলা খান’ কবিতার কিছু অংশ এবং ওয়ার্ডসওয়ার্থের ‘সলিটারি রিপার’-এর বক্তব্য এবং উপলব্ধির মধ্যেই তাদের কাছাকাছি আসবার অতি সূক্ষ্ম একটি সূত্রের ইঙ্গিত প্রত্যক্ষ করা যায়। বিশেষতঃ দার্শনিক দৃষ্টিভঙ্গিগত দিক থেকে যদিও তাদের উভয়ের মূল্যবোধ আসলেই খুব কাছাকাছি অবস্থান করে না বরং বিপরীতমুখী মূল্যবোধই দৃশ্যমান হয়। 

ওয়ার্ডসওয়ার্থ শহরকেন্দ্রিক কোলাহল, হাঙ্গামা ইত্যাদি মোটেই পছন্দ করতেন না। তিনি প্রকৃতিকে ভালোবাসতেন, প্রকৃতির কোলেই তার সম্পূর্ণ শৈশব কেটেছে। তিনি উত্তর পশ্চিম ইংল্যান্ড এবং স্কটল্যান্ডের দক্ষিণ সীমান্ত এলাকায় অপূর্ব বৃক্ষরাজির শোভামন্ডিত জলাধার, অসংখ্য পর্বত শ্রেণীর অপার সৌন্দর্য, কোলাহলবিহীন প্রশান্ত নিরবতার মধ্যেও এক প্রকারের চঞ্চলতা, চপলতার মধ্যে তিনি বেড়ে উঠেছেন- যার প্রভাব তার মনজ কল্পভূমিতে এত বেশি মোটা দাগে রেখাপাত করেছে যে, পরবর্তীতে যার প্রভাব থেকে তিনি কোনভাবেই বেরিয়ে আসতে পারেননি। তিনি সবুজ, মসৃণ শস্য ক্ষেত, পার্বত্য উপত্যকায় নিঃসীম বাঁধভাঙ্গা আনন্দে ঘুরে বেরিয়েছেন, ছোট্ট নদীর শীর্ণ প্রবাহে সাঁতার কেটে স্নান করেছেন, রাত্রিতে পাখির কুজন শ্রবণ করেছেন অথবা উজ্জ্বল শিলাখন্ডের উপর আরোহন করে পাখির খুঁজে ফিরেছেন। এসবের মধ্যে তিনি সীমাহীন আনন্দ এবং আত্মতৃপ্ততা লাভ করেছেন। একজন প্রকৃত রোমান্টিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে যিনি উদ্দেশ্যবিহীন অসম্ভব দ্রুতগতি সম্পন্ন কোলাহলে পরিপূর্ণ শাহুরিক জীবনকে সব সময়ের জন্যই অসুখী এবং হতাশাগ্রস্ত মনে করেছেন।
He found in our natural environment the true homeland of the human soul, where our emotions find their true outlet and where our confused, harried thoughts become calm and clear-----------------later generations have often turned to wordsworth as the great prophet of the hilling influence of nature. He should then how to find in nature the
 answer to the frustrations of modern civilization. He showed them how returning to nature can calm and refresh the human spirirt in – an iron time of doubts, disputes, destructions, fears.” ( Mathew Arnold), Biographia literaria, edited by – j. shaw, Volume -01.
কোলরিজ সম্পর্কে বলা হয়েছে -
He helped make the Romantic glorification of the creative imagination and of creative genius part of our modern attitudes forward art and literature. He played a major role in the Romantic rediscovery of Shakespeare, which  celebrated the dramatist as the greatest genius of world literature. unsurpassed in his grasp of the truth about human nature. Coleridge asked his readers and followers to think of imaginative literature as a true guide and friend to humanity. He taught that true literature brings – The whole soul” – into activity: . It unites vivid awareness, passionate feeling and deep thought. It brings together and unifies opposites that are disjointed in ordinary experience. Coleridge was aware of two contradictory tendencies in the Romantic movement . On the one hand, the Romantics tried to avoid anything that was artificial, their aim was to be true to nature. On the other hand the romantics rediscovered the power of imagination to transform reality or even to seem to leave it behind completely. Coleridge knew that his own bent was toward the exotic and super natural – the creation of strange scences and evens that stir extraordinary emotions. His best-known poems have the  magic of enchanted faraway scenes, and the thrill of fear and horror, that became major elements in the popular definition of Romantic literature.- Living literature, The literary heritage, edited by- ( hans. P. guth , Page- 506)
রোমান্টিকতার বিষয়ে ওয়াডর্সওয়ার্থ এবং কোলরিজের মতবাদ বিশ্লেষণ করলে দৃশ্যতঃই উপলব্ধি করা যায় উভয়েই  একে অপরের বিপরীত মুখী একটি অবস্থানে অবস্থানকারী। ওয়ার্ডসওয়ার্থ তার পারিপাশ্বির্ক প্রকৃতির প্রতিবেশের মধ্যেই মানুষের প্রকৃত বাসস্থান এবং আত্মার অবস্থানকে প্রত্যক্ষ করেছেন । যেখানে আমাদের আবেগ তার বহিঃপ্রকাশের পথ খুঁজে পাবে এবং যেখানে আমাদের বিশৃংখল, বিভ্রান্তি, দ্রুতগামী চিন্তা প্রবাহ শান্ত এবং স্বচ্ছ হিসেবে গড়ে উঠবে।

কিন্তু, কোলরিজে আমরা দেখতে পাই যে, আমাদের শিল্প এবং সাহিত্যকে আধুনিক মনোভঙ্গিজাত করণের লক্ষ্যে আমাদের  সৃজনশীল প্রতিভা এবং কল্পনা বৃত্তিকে একটি রোমান্টিক মহিমান্বিত অংশ হিসেবে তৈরি করবার ক্ষেত্রে তিনি অপরিমেয় সাহায্য করেছেন। তিনি শিক্ষা প্রদান করতেন যে, “একমাত্র সত্য সাহিত্যই” আমাদের “সম্পূর্ণ আত্মাকে”  কার্যকারিতার মধ্যে আনয়ন করতে সক্ষম। তিনি জানতেন তাঁর দক্ষতা ছিল চমকপ্রদ এবং অলৌকিক সৃষ্টি- উত্তেজনাপূর্ণ ঘটনার দৃশ্যবলি সৃষ্টিতে অসাধারণ আবেগের সাহায্য গ্রহণ করবার। এর প্রমাণ পাওয়া যায় তার অতি পরিচিত কিছু কবিতার মধ্যে যাদুকরী উত্তেজনা সমৃদ্ধ দূরলোকের দৃশ্যাবলী, আতঙ্ক বিহবল ভীতির শিহরণ - যেগুলি তার কাছে হয়ে উঠেছিল তাঁর কবিতায় এবং কল্পনাবৃত্তিতে রোমান্টিক সাহিত্যের জনপ্রিয় মুখ্য উপাদান। অর্থাৎ তিনি দর্শনগত দিক থেকে সাধারণ প্রাকৃতিক বাস্তবতার চাইতে কল্পনাবৃত্তিক অলৌকিকতা, চাঞ্চল্যকর অধিভৌতিকতাকে ইমাজিনেশ- এর প্রতীক হিসেবে সাহিত্যে প্রয়োগ করাকেই Imagination-কে একটি স্বার্থক রূপকল্প হিসেবে বিবেচনা করতেন। ওয়ার্ডসওয়ার্থ এবং কোলরিজের মধ্যে চিন্তাবৃত্তিক এবং দর্শনগত মৌলিক পার্থক্য এখানেই।

দার্শনিক দৃষ্টিকোণ থেকে দুজনের মধ্যে এ ধরণের পার্থক্যের বিশিষ্টতা ছিল বলেই ইংল্যান্ড এবং ফ্রান্সের মধ্যে যুদ্ধ চলাকালীনই তারা যৌথভাবে ছোট আকারের দুটি খন্ডের একটি কাব্য গ্রন্থ ১৭৯৮ খ্রিস্টাব্দে প্রকাশ করেন- ‘Lyrical Ballads’-নাম দিয়ে। বাংলাভাষার অনুবাদ করলে বোধ করি কাব্যগ্রন্থটির নামটিকে এভাবে বলা যায়- লোকগাঁথা গীতিকা। এবং এ পার্থক্যজনিত কারণেই ‘Lyrical Ballads’-কাব্যগ্রন্থটি রচনার ক্ষেত্রে পদ্ধতিগত দিকটিকে দু’ভাগে ভাগ করা হয়। এবং এই দুটি ভাগের একটির দায়িত্ব গ্রহণ করেন ওয়ার্ডসওয়ার্থ এবং অন্যটির দায়িত্বে নিয়োজিত থাকেন কোলরিজ । যেহেতু ওয়াডর্সওয়ার্থের চিন্তাবৃত্তির অধিগম্যতা ছিল অনেকটাই Ordinary Reality আশ্রিত। সেই হেতু তিনি নিজেই বেছে নেন দৈনন্দিন জীবনের প্রবাহে অব্যাহতভাবে চলমান নিতান্ত সাধারণ মানুষের প্রচলিত কথোপকথনের ভাষা ও অনুষঙ্গকে ‘Lyrical Ballads’-এর কবিতায় অন্তর্ভুক্তকরণের প্রয়াসের মাধ্যমে যাতে সাধারণ মানুষ কবিতাগুলির মধ্যে একটা সাধারণ বাস্তবতার আবেশের মধ্যে নিজেদের বাস্তবতাকে মিশিয়ে দিয়ে কবিতাগুলিতে আত্মদর্শন করতে পারে।

পাশাপাশি কোলরিজ যেহেতু Deep Imagination’-এ থেকে অতিলৌকিক আশ্চর্যতা, ভীতি বিহবলতা, আতংক সৃষ্টি করে অতিদূরলোকে বিচরণকারী এক অসাধারণ প্রজ্ঞাবান প্রতিভার অধিকারী সেই হেতু তার ওপর দায়িত্ব বর্তায় ‘Lyrical Ballads’-এর যে কবিতাগুলি তিনি লিখবেন সেগুলি যেন অতিলৌকিক, আধি-ভৌতিক জাতীয় ঘটনা প্রবাহ তার গভীর Imagination-এর সর্বশেষ তলদেশের স্তর থেকে উদগমিত হয়ে আধুনিকতার সাথে অতিপ্রাচীনতার একটা সেতুবন্ধন সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়। এবং তাতে কোলরিজ পুরোমাত্রায় সক্ষমও হয়েছিলেন। এর প্রমাণ পাওয়া যায়-‘Lyrical Ballads’’-প্রকাশিত হবার পর কোলরিজের অপরিসীম কল্পনা প্রবণতা সমসাময়িক অন্যান্য কবিবৃন্দ থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের কাছেও ভীষণ Positive হিসেবেই গৃহীত হয়েছিল প্রাথমিকভাবে সমালোচিত হবার পরেও।

‘The Rime of the Ancient Mariner’- স্যামুয়েল কোলরিজের সে ধরণেরই একটি কবিতা যা ‘Lyrical Ballads’- কাব্যগ্রন্থের মধ্যে একটি বিশেষ স্থান অধিকার করে রয়েছে। এ বিষয়টিতে একটু পরে আসছি। তার আগে ওয়ার্ডসওয়ার্থের আর একটি কবিতা ‘Descriptive Sketches’- সম্পর্কে কোলরিজের একটি বিশ্লেষণ বিবেচনা করা যাকঃ কেমব্রিজের বাসস্থানে অবস্থান কালের শেষ বছর কোলরিজ ওয়ার্ডসওয়ার্থের প্রথম প্রকাশিত কবিতা ‘DESCRIPTIVE SKETCHES ’-এর সাথে পরিচিত হন। কবিতাটির কিছু অংশ এখানে উদ্ধৃত করছিঃ
Tis storm; and hid in mist from hour to hour
All day the floods a deepening murmur pour;
The sky is veiled, and every cheerful sight,
Dark is the region as with coming night.
But what a sudden burst of overpowering light!
Triumphant on the bosom of the storm,
Glances the wheeling eagle's glorious form!
Eastward, in long perspective glittering, shine
The wood-crowned cliffs that o'er the lake recline;
Those lofty cliffs a hundred streams unfold,
At once to pillars turned that flame with gold:
Behind his sail the peasant shrinks, to shun
The 'west', that burns like one dilated sun,
A crucible of mighty compass, felt
By mountains, glowing till they seem to melt.  – W. Wordsworth
উদ্ধৃত অংশটুকুকে কোলরিজ বিবেচনা করেছেন সম্পূর্ণ কবিতাটির Extract  অথবা নির্যাস হিসেবে। সম্পূর্ণ কবিতাটি পাঠ করে কোলরিজ মন্তব্য করেছেন, কবিতাটির সম্পৃূর্ণ - Form, Style এবং Manner, কবিতাটির নির্দিষ্ট পঙক্তি গঠন এবং কাল নির্ধারণে কর্কশতা, রুক্ষতা যেন সংযুক্ত এবং সমন্বিত থেকেছে কবিতাটির শব্দ চয়ন এবং চিত্রকল্প নির্মাণের সাথে- যা একটি উদ্ভিদজগতের উৎপাদন সমূহকে স্মরণ করিয়ে দেয়-
যেখানে সার্বক্ষণিক যন্ত্রণার প্রলেপাচ্ছাদিত খোলস থেকে জমকালো ফলজ বৃক্ষ বিকশিত হবে যার মধ্যে থেকে সমৃদ্ধ ফলের বিস্তৃতি বৃদ্ধি পেতে থাকবে। কবিতাটির যে ভাষা তা শুধুমাত্র শক্ত, বিচিত্র এবং অপ্রচলিতই ছিল না। কোন কোন সময়ে তা গিঁটযুক্ত, দুমড়ানো- যা এর নিজস্ব শক্তি দিয়েই গঠিত- যখন সংহত ভাবমূর্তির চিত্রকল্প এবং অভিনবত্বের সংগ্রাম একযোগে কাজ করেছিল কবিতাটির দুঃসাধ্য অথবা অসহজবোধ্য রীতি ভঙ্গির বিরুদ্ধে এবং সব সময়ই দাবী করে আসছিল মনোসংযোগের গভীরতর সান্নিধ্য। এবং এটা দাবী করার অধিকার তার আছে। এটা কখনই অজ্ঞতা অথবা অস্পষ্টতার অভিযোগকে সত্যতা প্রতিপাদনের জন্য নয়।
Biographia literaria,
 V0l-1, S T Coleridge.
Page-56-57.  -ইংরেজি থেকে অনুবাদ- লেখক)।
এখন উদ্ধৃত কবিতাংশটুকু (Extract) সম্পর্কে কোলরিজ নিজে যে মন্তব্য করেছেন তা বিবেচনা করা যাক- ‘নিম্নোদ্ধৃত (Extract) অংশটুকু সম্পর্কে কোন কোন সময়ে আমি উচ্চ ধারণা পোষণ করতাম । আমি একজন লেখকের প্রতিভা এবং একটি কবিতাকে সে কবিতাটিরই একটি প্রতীক হিসেবে দেখেছিলাম তাকে তখন যেখানে জাহির করা হয়েছিল।’ কিন্তু ১৭৯৫ খ্রিস্টব্দে William Wordsworth এর সাথে ব্যক্তিগত পরিচয় হবার পর থেকে Coleridge  ধীরে ধীরে ওয়ার্ডসওয়ার্থের সাথে ঘনিষ্ঠ হতে শুরু করেন। যখন William Wordsworth তার বন্ধুদের অনুরোধ এবং তাঁর ব্যক্তিগত স্বভাবজাত কারণে তাঁর ছোট বোন Dorothy Wordsworth কে নিয়ে নাগরিক কোলাহল, হাঙ্গামা লক্ষ্যহীন দ্রুতগামীতা কেন্দ্রিক শাহুরিক পরিবেশ থেকে অনেকগুণ শান্ত উজ্জ্বল এবং স্বাপ্নিক প্রতিবেশ সমৃদ্ধ Lake district এ বসবাসের জন্য চলে আসেন তার কিছু পরেই কোলরিজ সেখানে আগমন করেন এবং একটি আলাদা বাড়ীতে বসবাস শুরু করেন ওয়াডর্সওয়ার্থের ছোট বোন Dorothy Wordsworth এর সঙ্গে। তিনজনই একে অপরের বন্ধু হয়ে যান।

অধিকাংশ সময়ই তারা ইংরেজি সাহিত্যের বিভিন্ন শাখা প্রশাখা বিশেষ করে কবিতা সম্পর্কিত বিষয়ে আলোচনাকেই প্রাধান্য প্রদান করতেন। ডরোথি ওয়ার্ডস ওয়ার্থ তখন নিয়মিত ডাইরী লিখতে শুরু করেন এবং পরবর্তীতে তার সেই ডাইরীতে লিপিবদ্ধ রচনাগুলিকে The journals নাম দিয়ে প্রকাশ করেন। ডরোথি ওয়ার্ডসওয়ার্থ প্রকাশিত ‘journal থেকেও কোলরিজ তার নিজের রচনার ক্ষেত্রে উৎসাহিত এবং অনুপ্রাণিত হওয়া সহ উপকৃতও হন। ওয়ার্ডসওয়ার্থের কবি কর্মেও এভাবেই যখন ওয়ার্ডসওয়ার্থ, ডরোথি ওয়ার্ডসওয়ার্থ এবং কোলরিজের জীবন প্রবাহ সঞ্চালিত হচ্ছিল এরই মধ্যে ওয়ার্ডসওয়ার্থ এবং কোলরিজ লোকগাঁথা ভিত্তিক একটি কাব্যগ্রন্থ রচনার পরিকল্পনা করেন এবং সেই লোকগাঁথা ভিত্তিক কাব্যগ্রন্থকে কোন পদ্ধতিতে কবিতা লিখবেন তা নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে নির্ধারণ করেন এবং অবিলম্বে তারা দুজনেই কাব্য গ্রন্থটির জন্য কবিতা লিখতে শুরু করেন। কবিতা লেখা অব্যাহত থাকা অবস্থায় কোলরিজ পরিচিত হন আর একজন সমকালীন Robert Southey এবং তার বোন Sara Jonthey এর সঙ্গে। পরিচিত হবার পর এক পর্যায়ে কোলরিজ সারা সাউদের প্রেমে জড়িয়ে পড়েন। এবং পরবর্তীতে তারা উভয়েই বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। কিন্তু দূর্ভাগ্যবশত তাদের সুখের পরিধি প্রশস্ত এবং দীর্ঘস্থায়ী হয় না, সংকীর্ণ হতে হতে এক সময় বিলীন হয়ে যায়। তাদের মধ্যে বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটে যায়। অবশ্য এর জন্যে কোলরিজ তার স্ত্রীর ভাই রবার্ট সাউদেকেই দায়ী করেন।

দাম্পত্য জীবনের বিচ্ছেদের বিষয়টি কোলরিজের জীবনের ওপর খুব বড় আকারের প্রভাব প্রক্ষেপ করে। তিনি চরমভাবে হতাশাগ্রস্থ হয়ে পড়েন এবং  Opium addicted হয়ে যান। এমনিতেই কোলরিজ ছিলেন Cronic ill health- এর অধিকারী। তার ওপর আফিমে আসক্তি তাকে একেবারে বিদ্ধস্ত করে ফেলে। তিনি যেন কুলহীন সমুদ্রের বিশাল তরঙ্গে প্রবল উল্লাসে কখনও বা ভেসে ওঠেন আবার কখনও বা সেই তরঙ্গাবলীর সাথেই সমুদ্রের গভীর জলরাশির অতল অন্ধকারে ডুবে যান।

এই প্রচন্ড হতাশা গ্রস্থতার চরম অন্ধকারে ক্রমান্বয়িকভাবে ডুবে যাওয়া এবং সে অন্ধকার থেকে জেগে উঠে মধ্যবর্তী ক্ষণগুলির মধ্যেই অর্থাৎ উত্থান পতনের দোলাচলের মাঝখানে তিনি রচনা করেন-‘The Rime of the Ancient  Mariner’.  Ancient Mariner তার অতিলৌকিক Imagination- এর অভ্যন্তর থেকে উৎসারিত তাঁর ব্যক্তিগত অপরাধগত পাপবোধ জনিত কল্পনাবৃত্তিক এবং কুসংস্কার ভিত্তিক নিতান্তই একটি আখ্যানমাত্র। কিন্তু তারপরেও তাঁর Ancient Mariner- তার পাঠকদের মধ্যে প্রবল প্রভাব বিস্তার করেছিল এবং তাদের মননে গভীরভাবে রেখাপাত করেছিল।
The ice was here, the ice was there,
The ice was all around:
It cracked and growled, and roared and howled,
Like noises in a sound!

At length did cross an Albatross,
Thorough the fog it came;
As if it had been a Christian soul,
We hailed it in God's name.

It ate the food it ne'er had eat,
And round and round it flew.
The ice did split with a thunder-fit;
The helmsman steered us through!

And a good south wind sprung up behind;
The Albatross did follow,
And every day, for food or play,
Came to the mariner's hollo!

In mist or cloud, on mast or shroud,
It perched for vespers nine;
Whiles all the night, through fog-smoke white,
Glimmered the white Moon-shine.'

'God save thee, ancient Mariner!
From the fiends, that plague thee thus!—
Why look'st thou so?'—With my cross-bow
I shot the ALBATROSS.

The Rime of the Ancient Mariner
S T Coleridge,
Living literature ;
The literary heritage
E.By – Hans P. Gath.
Page-512.
এর পরমুহূর্ত থেকেই ঈশ্বরের প্রত্যক্ষ অভিশাপ হিসেবেই যেন সেই জাহাজের বৃদ্ধ নাবিক এবং তার অন্যান্য সঙ্গীদের ভাগ্যে চরম দূর্ভোগ নেমে আসে। যে  “এ্যালবাট্র্যাস”- নামীয় পাখিটিকে সেই বৃদ্ধ নাবিক গুলি করে হত্যা করেছিল -  যে পাখিটিকে সকলেই সৌভাগ্যের প্রতীক হিসেবে বিবেচনা করত। পাখিটিকে হত্যা করবার পর জাহাজে অবস্থানরত সেই বৃদ্ধ নাবিকের সঙ্গীরা বৃদ্ধ নাবিককে প্রচুর তিরস্কার করলো। মৃত পাখিটিকে দড়িতে বেঁধে তার গলায় ঝুলিয়ে দেয়া হলো। জাহাজটি বরফাচ্ছন্ন সাগর পাড়ি দিয়ে আরেকটি সাগরে গিয়ে পড়লো। যেখানে মাথার উপর তীব্র সূর্যকিরণ তাদেরকে দগ্ধ করতে থাকলো। বাতাস রুদ্ধ হয়ে গেল। দীর্ঘদিন ধরে জাহাজটি একটি চিত্রাঙ্কিত ছবির মতো স্থির হয়ে গেল। পানীয় জলের সঞ্চয়ও একসময় নিঃশেষ হয়ে গেল। সমুদ্রের লোনা পানি তারা পান করতে পারলো না । ধীরে ধীরে তাদের গলা এমনভাবে শুষ্ক হয়ে গেল যে, তারা আর কথা বলতে পারলো না। স্বচ্ছ কাঁচের মতো সমুদ্রের দিকে তাকিয়ে থাকতে থাকতে তাদের চোখগুলি বেদনার্ত হয়ে উঠলো।

শেষে এক সময় সমুদ্রের অতি দূরে জাহাজের কঙ্কাল সাদৃশ্য ভয়ংকর এক মৃত্যু জাহাজ তাদের জাহাজটির কাছাকাছি চলে এলো। এবং বৃদ্ধ নাবিক ব্যতীত আর সব সঙ্গী নাবিকদের আত্মাকে বহন করে মৃত্যুর দেশে নিয়ে গেল। তার চোখের সামনেই বৃদ্ধ নাবিক এক এক করে তার সহকর্মীদের মৃত্যুকে প্রত্যক্ষ করলো।

এর পর সাতদিন ব্যাপী বৃদ্ধ নাবিক তার অপরাধ জনিত পাপবোধে ভীত এবং অনুতপ্ত হয়ে অব্যাহতভাবে ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করতে থাকলো। সে রাত্রে বৃদ্ধ নাবিক ঘুমোতে পারলো না। সারাদিন এবং সারারাত্রি সে শুধু তার সঙ্গীদের মৃত দেহগুলির দিকে তাাকিয়েই রইল এবং তীব্র মানসিক যন্ত্রণায় বিধ্বস্ত হতে লাগল। এরই মধ্যে একদিন সেই বৃদ্ধ নাবিক তার জাহাজের চারপাশে কিছু জলজ সাপকে সাঁতার কাটতে দেখলো। এবং বৃদ্ধ নাবিক সেই সাপগুলোর সৌন্দর্যে এত বিপুল মুগ্ধ হলো যে, সে সাপগুলির প্রতি তার নিজের মধ্যে নিবিড় ভালোবাসা অনুভব করলো। সেগুলো হত্যা করার পরিবর্তে তাদের জন্য তার অন্তরের মধ্যে থেকে ঈশ্বরের কাছে আশির্বাদ করলো। অর্থাৎ, নিষ্পাপ নিরপরাধ পাখি এ্যালবাট্ট্রাস কে হত্যা করবার অপরাধে তার মধ্যে যে পাপবোধের সৃষ্টি হয়েছিল সেই পাপবোধ থেকে মুক্তি পেতে চাইলো সাপগুলোর প্রতি তার ভালোবাসা প্রদর্শন করে। এই প্রেক্ষিতে ঈশ্বর তাকে ক্ষমা প্রদান করলেন এবং সেই মুহুর্তেই তার গলা থেকে মৃত এ্যালাবাট্রাস পাখিটি সমুদ্রে পড়ে গেল। বৃদ্ধ নাবিক গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন হয়ে পড়লো । যখন সে জেগে উঠলো তখন দেখলো ঈশ্বরের আর্শিবাদ যেন বৃষ্টির আকারে তার উপর বর্ষিত হচ্ছে। তার শুকনো ঠোঁট ভিজে গেল- কন্ঠ শীতল এবং সতেজ হয়ে উঠলো। পাশাপশি মৃদুমন্দ বাতাসের প্রবাহ ধীরে ধীরে আবার বন্দরে ফিরিয়ে নিয়ে এল জাহাজটিকে। বৃদ্ধ নাবিক তার গৃহে প্রত্যাবর্তন করলো। তার পাপমোচন হলো  এবং সে ঈশ্বরের অভিশাপ থেকে মুক্তি পেল।
Beyond the shadow of the ship,
I watched the water-snakes:
They moved in tracks of shining white,
And when they reared, the elfish light
Fell off in hoary flakes.

Within the shadow of the ship
I watched their rich attire:
Blue, glossy green, and velvet black,
They coiled and swam; and every track
Was a flash of golden fire.

O happy living things! no tongue
Their beauty might declare:
A spring of love gushed from my heart,
And I blessed them unaware:
Sure my kind saint took pity on me,
And I blessed them unaware.

The self-same moment I could pray;
And from my neck so free
The Albatross fell off, and sank
Like lead into the sea.
আসলে এই কবিতাটির মূল যে সার বস্তুগত Morality তাহলো বিশাল প্রকৃতি সহ সকল জীবই যেহেতু মহান ঈশ্বরের সৃষ্টি সেইহেতু সকল জীবকে ভালোবাসবার অভ্যন্তরেই রয়েছে ঈশ্বরকে ভালাবাসবার প্রকৃত উপাদানটি। আর এ Morality প্রকাশ করবার উপাদান হিসেবে কোলরিজ তার সুগভীর Imagination এর মাধ্যমে বেছে নিয়েছেন প্রচলিত সামাজিক কুসংস্কারকে। যেমন Albatross নামীয় একটি পাখিকে বিবেচনা করা হযেছে সৌভাগ্যের ধারক হিসেবে। সমুদ্রে আটকে যাওয়া জাহাজের চারদিকে সন্তরণশীল সাপ সমূহের প্রতি ভালাবাসাকে বিবেচনা করা হযেছে ঈশ্বরের আশির্বাদ হিসেবে। সর্বোপরি বৃদ্ধ নাবিকের জাহাজের মৃত নাবিকদের আত্মাগুলিকে বহন করে মৃত্যুর দেশে নিয়ে যাবার জন্য সমুদ্রের অতি দূর থেকে অন্য একটি কঙ্কাল সাদৃশ্য অস্পষ্ট অস্বচ্ছ জাহাজের আগমন এবং বৃদ্ধ নাবিকের মৃত্যু না ঘটিয়েই অন্যান্য মৃত নাবিকদের আত্মাকে বহন করে নিয়ে যাওয়ার বিষযগুলি যদিও কবিতাটিতে কুসংস্কারের ভিত্তিকেই মূলধন করা হয়েছে তবুও কবির প্রগাঢ় Imagination- এর প্রভাবের প্রবাহে পাঠককে প্রবল বেগে ভাসিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বহু দূরলোকের এক অলৌকিক লোকালয়ে- যেখানে পাঠক আবেগ আপ্লুত হয়ে বিশ্বাস করেছে ওই অলৌকিকতাকে বাস্তবতা হিসেবে। এবং এ কবিতাটিতে Coleridge প্রশ্রয় দিয়েছেন William Wordsworth ও তার বোন Dorothy Wordsworth- এর প্রকৃতি প্রেমকেও। বোধ করি কিছুটা না হলেও অন্ততঃ কিছুটা।
-------- I left William sitting on the bridge and went along the path on the right side of the left through the wood. I was delighted with what I saw; the water under the boughs of the bare old trees , the simplicity of the mountains and the exquisite beauty of the path. There was one grey cottage---- I hung over the gate and thought I could have stayed forever. When I returned I found William writing a poem descriptive of the sights and sounds we saw and heard. There was the gentle flowing of the stream, the glittering lively lake, green fields without a living creature to be seen on them, behind us, a flat pusture with cattle feeding; to our left the road leading to the hamlet-no smoke there; the sun shone on the bare roofs.  The people were at work harrowing, and sowing- lasses spreading dung, a dog’s barking now and then, cocks crowing, birds twiteering, the snow in patches at the top of the highest hills ----purple and green twigs on the birches, ashes with their glittering spikes quite bare. The hawthorn a bright green with black stems under the oak.
The journals
Dorothy Wordsworth
Living literature
The literary heritage
E. by-  Hans p. gath
Page -505
Dorothy Wordsworth এর The journals-এ উদ্ধৃত অংশটির পাশাপাশি William Wordsworth এর ‘It is a Beauteous Evening, Calm and Free’-কবিতাটিকে স্থাপন করে দুটি রচনা থেকে এস.টি কোলরিজ- এর-‘The Rime of the Ancient Mariner’- কবিতাটির আঙ্গিক এবং অভ্যন্তরস্থ Imagination- এর ভেতর প্রকৃতি প্রেমের একটি মাত্রা আমরা খুঁজে দেখবার চেষ্টা করবো-
It is a beauteous evening, calm and free,
The holy time is quiet as a Nun
Breathless with adoration; the broad sun
Is sinking down in its tranquility;
The gentleness of heaven broods o'er the Sea;
Listen! the mighty Being is awake,
And doth with his eternal motion make
A sound like thunder—everlastingly.
Dear child! dear Girl! that walkest with me here,
If thou appear untouched by solemn thought,
Thy nature is not therefore less divine:
Thou liest in Abraham's bosom all the year;
And worshipp'st at the Temple's inner shrine,
God being with thee when we know it not.

It is a Beauteous Evening, Calm and Free
William Wordsworth
Living literature
The literary heritage
E. by-  Hans p. gath
Page -502
মূলত উদ্ধৃত কবিতাটি  William Wordsworth রচিত একটি সনেট। ১৮০২ খ্রিস্টাব্দে  William Wordsworth যখন ফিরতি ফ্রান্স ভ্রমণে যান তখন তিনি তার ফরাসী কন্যাকে দেখতে যান ফ্রান্সের একটি উপকূলীয় শহর CALAIS--এ। William Wordsworth- এর এ ফরাসী কন্যাটি তখন ছিল শিশু। তাকেই উদ্দেশ্য করে William Wordsworth- সনেটটি রচনা করেন। William Wordsworth- এর এই সনেট আকারের কবিতাটির সঙ্গে তাঁর রচিত আর একটি কবিতা ‘Lines composed a few miles above Tentern abbey- কবিতাটির অনেক ক্ষেত্রেই সাদৃশ্য লক্ষ্য করা যায়। কিন্তু সে প্রসঙ্গে এ মুহূর্তে আমরা আসবো না।

প্রাসঙ্গিকভাবেই এবার আমরা Dorothy Wordsworth- এর The journals-এ প্রকাশিত কবিতার উদ্ধৃতাংশ বিশেষ এবং William Wordsworth- এর ‘It is a beauteous Evening, calm and free’-কবিতাটির প্রভাব S T Coleridge- রচিত ‘The rime of the ancient mariner' কে কতটা প্রভাবিত করতে পেরেছিলো- সেদিকটি বিবেচনা করবার চেষ্টা করবো। Dorothy wordsworth- এর ‘The journals’-এর উদ্ধৃতাংশে যখন আমরা লক্ষ্য করি তিনি তার ভাই William wordsworh-কে একটি সেতুর উপর বসিয়ে রেখে একটি জলাধারের ডান দিকের পথ ধরে বৃক্ষরাজির মধ্যে দিয়ে একাকী চলতে চলতে যখন কোন পত্রপল্লববিহীন প্রাচীন বৃক্ষ শাখার নীচে দিয়ে জলাধারা প্রবাহিত হতে দেখেন, প্রশান্ত পর্বতশৃঙ্গ এবং দূর দূরান্তে চলে যাওয়া পথের অপরূপ সৌন্দর্য উপলব্ধি করেন এবং লক্ষ্য করেন যে, সেখানে (পথের পাশে) একটি ধূসর বর্ণের কুটির- তখন তিনি কল্পনা করেন- যদি তিনি চিরকাল ওই ধূসর বর্ণ কুটিরটির দরজায় ঝুলে থাকতে পারতেন! এর পাশাপাশি William Wordsworth- তার ফরাসি শিশুকন্যাকে উদ্দেশ্য করে লেখা সনেটে ফরাসী উপকূলীয়- CALAIS অঞ্চলের (যেখানে তার শিশু কন্যাটি থাকতো) যে বর্ণনা লিপিবদ্ধ করেন তাতে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের যে অপরূপ রূপের মাধুর্যটি ফুটে উঠে তা যেন তার বোন Dorothy Wordsworth- এর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপলব্ধি এবং বোধকেও ছাড়িয়ে যায়। যেখানে William Wordsworth- বলেন-
এটি এমন একটি সৌন্দর্যমন্ডিত সন্ধ্যা যেখানে সবকিছুই শান্ত এবং মুক্ত। পবিত্র মুহূর্তগুলি সন্ন্যাসিনীদের মতই প্রশান্ত, শ্বাসরুদ্ধকরভাবে প্রেমপূর্ণ, দূরের বিশাল সূর্য ধীরে ধীরে তার প্রশান্ততার মধ্যে ডুবে যাচ্ছে। স্বগীর্য় প্রসন্নতা যেন সমুদ্রের ওপর প্রলেপ বুলিয়ে দিচ্ছে। শ্রবণ করো! অত্যন্ত শক্তিময় সত্ত্বা জেগে উঠছে এবং তার মৃত্যুহীন সত্ত্বার প্রবল শব্দ যেন বজ্রনিনাদের মতো এবং চিরকালীন।
এখন S T Coleridge তাঁর ‘The Rime of the Ancient Mariner’-এর ভীতি, আতংক, মৃত্যু, অপরাধ, ভয়াবহতা ইত্যাদির মধ্যেও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের যে বর্ণনা প্রদান করেছেন, সমুদ্রের প্রচন্ড প্রমত্ততার মধ্যেও যে প্রশান্ততার ছবি একেছেন, অতি স্বচ্ছ কাঁচের সাথে সমুদ্রের নিশ্চল জলরাশির যে অপরূপ শোভার তুলনা করেছেন, সমুদ্রের বৃদ্ধ নাবিকের জাহাজের চারপাশে বর্ণিল সাপের যে মোহময় রূপের বর্র্ণনা করেছেন, অতি দূরে দৃষ্টিসীমার শেষ প্রান্তে কুয়াশাচ্ছন্নতায় আবৃত যে বিকল্প জাহাজের চিত্র তিনি অঙ্কন করেছেন এবং মৃদৃমন্দ স্নিগ্ধ সমীরণের যে স্পর্শ তিনি অনুভব করেছেন তা অতি সহজেই William wordsworh এবং তাঁর বোন Dorothy wordsworth- কে মনে করিয়ে দেয়। অর্থাৎ তার-‘The Rime of the Ancient mariner’-এর আতংক, অলৌকিকতা, চরম আশ্চর্যতার মধ্যেও প্রকৃতির সৌন্দর্যকে উপেক্ষা করতে পারেননি কোলরিজ। কিন্তু William wordsworh- যেখানে-
Listen! the mighty Being is awake,
And doth with his eternal motion make
A sound like thunder—everlastingly.
এভাবে অসীমকে তাঁর নিজের সুদূর বিস্তৃত দৃষ্টি, শ্রবণ এবং অন্তর্গূঢ় উপলব্ধির মাধ্যমে সসীমের সীমায় সীমায়িত করেছেন অথবা করতে চেয়েছেন সেখানে কোলরিজ কিন্তু সেভাবে অসীমকে তার নিজের দৃষ্টি, শ্রবণ এবং উপলব্ধির গভীরতা দিয়ে অসীমের প্রকৃত সত্য সৌন্দর্যকে নিজের মধ্যে ধারণ এবং সীমায়িত করতে পারেননি। কেন পারেননি এ প্রশ্নের সঠিক উত্তর খুঁজে পেতে হলে আমাদেরকে ফিরে যেতে হবে বাংলার কবি শ্রেষ্ঠ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কাছে। এ প্রসঙ্গে তার জীবনস্মৃতিতে তিনি নিজেই বলেছেন -
এতদিন জগৎকে কেবল বাহিরের দৃষ্টিতে দেখিয়া আসিয়াছি, এই জন্য তাহার একটি সমগ্র আনন্দ রূপ দেখিতে পাই না, একদিন হঠাৎ আমার অন্তরের যেন একটা গভীর কেন্দ্রস্থল হইতে একটা আলোকরশ্মি মুক্ত হইয়া সমস্ত বিশ্বের উপর যখন ছড়াইয়া পড়িল তখন সেই জগৎকে আর কেবল ঘটনাপূর্ণ, বস্তুপূর্ণ করিয়া দেখা গেল না। তাহাকে আগাগোড়া পরিপূর্ণ করিয়া দেখিলাম। ইহা হইতেই একটি অনুভূতি আমার মনের মধ্যে আসিযাছিল যে, অন্তরের কোন একটি গভীরতম গুহা হইতে সুরের ধারা সমস্ত দেশকাল হইতে প্রত্যাহৃত হইয়া সেইখানেই আনন্দ স্রোতে ফিরিয়া যাইতেছে। “জীবনস্মৃতি” -রবীন্দ্রসাহিত্যের ভূমিকাঃ নীহাররঞ্জন রায়। পৃষ্ঠা- ০৩-০৪।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের উল্লেখিত বক্তব্য এবং মন্তব্যের প্রেক্ষিতকে নীহাররঞ্জন রায় তাঁর রচিত রবীন্দ্রসাহিত্যের ভূমিকা গ্রন্থে বিশ্লেষণ করেছেন এভাবে- “সীমার সঙ্গে অসীমের, খন্ডের সঙ্গে পূর্ণের, ব্যক্তিজীবনের সঙ্গে বিশ্বজীবনের যোগের মধ্যে একটি নিগুঢ় সুনিবিড় সমন্ধের অনুভূতি রবীন্দ্রনাথের কাছে অত্যন্ত সত্য এবং এই অনুভূতিও রবীন্দ্রনাথের জীবনে একটা বিশেষ মতবাদের রূপে অভিব্যক্তি লাভ করিয়াছে। ইহা যে একান্তই কবি গুরুর নিজস্ব তাহা নহে; আমাদের দেশের প্রাচীন মনন ধারার মধ্যে হয়ত এই প্রত্যয়ের পরিচয় আছে। তৎসত্ত্বেও রবীন্দ্রনাথের মধ্যে যে ইহা একটি বিশেষ ও সুনির্দিষ্ট রূপ লাভ করিয়াছে এ বিষয়ে সন্দেহ নাই।”  তিনি আরও বলেছেন-
এই  সীমা অসীমের সমন্ধ, এই জীবন দেবতার রহস্য রবীন্দ্রনাথের কাছে ইহা কিছু তত্ত্ব বা মতবাদ নয়। কোন প্রকার ধর্মের সূত্র নয়। শুদ্ধ অনাবিল অনুভূতি মাত্র। অসীম আকাশ আঙিনার ক্ষুদ্র আকাশের মধ্যে ধরা দেয় ততটুকুর মধ্যেই তাহার বিচিত্র রূপ ফুটিয়া উঠে। আবার এই খন্ড বিচ্ছিন্ন সুবি¯তৃত আকাশের মধ্যে নিজেকে প্রসারিত করিয়া দিয়া পরিপূর্ণতা লাভ করে।
অত্যন্ত প্রাসঙ্গিকভাবেই নীহাররঞ্জন রায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মন্তব্য এবং বক্তব্যের মূল্যায়ন প্রসংগে উল্লেখিত মন্তব্যটুকুর মধ্যে যাহা অস্পষ্ট সেই অনুভূতি ক্রমে রবীন্দ্রনাথের অন্তরে স্পষ্ট হইতে স্পষ্টতর হইয়া একটি বিশেষ প্রত্যয়ের নাম ধারণ করিয়াছে। .........পরবর্তী জীবনের সমস্ত সৃষ্টির মূলে এক বিরাট সৌন্দর্যময় ঐক্যানুভূতির কথা তিনি বহুবার বলিয়াছেন। তাহার সাহিত্যের মূলেও রহিয়াছে এই সৌন্দর্যময় ঐক্যানুভূতি; - ক্রিয়েটিভ ইউনিটির কথা। কিন্তু রবীন্দ্রনাথের- ‘ব্যক্তিজীবনের সঙ্গে বিশ্বজীবনের যোগের মধ্যে একটি নিগুঢ় সুনিবিড় সম্বন্ধের অনুভূতি’- সংক্রান্ত যে উপলব্ধি তা অবশ্যই বস্তুগত। কেননা তিনি নিজেই বলেছেন-
এতদিন জগৎকে কেবল বাহিরের দৃষ্টিতে দেখিয়া আসিয়াছি, এই জন্য তাহার একটি সমগ্র আনন্দ রূপ দেখিতে পাই না, একদিন হঠাৎ আমার অন্তরের যেন একটা গভীর কেন্দ্রস্থল হইতে একটা আলোকরশ্মি মুক্ত হইয়া সমস্ত বিশ্বের উপর যখন ছড়াইয়া পড়িল তখন সেই জগৎকে আর কেবল ঘটনাপূর্ণ, বস্তুপূর্ণ করিয়া দেখা গেল না। তাহাকে আগাগোড়া পরিপূর্ণ করিয়া দেখিলাম। ইহা হইতেই একটি অনুভূতি আমার মনের মধ্যে আসিযাছিল যে, অন্তরের কোন একটি গভীরতম গুহা হইতে সুরের ধারা সমস্ত দেশকাল হইতে প্রত্যাহৃত হইয়া সেইখানেই আনন্দ স্রোতে ফিরিয়া যাইতেছে।
যেহেতু “অন্তরের কোন একটি গভীরতম গুহা হইতে সুরের ধারা সমস্ত দেশকাল হইতে প্রত্যাহৃত হইয়া সেইখানেই আনন্দ স্রোতে ফিরিয়া যাইতেছে।” এ কথাটির ভেতর দিয়ে রবীন্দ্রনাথ সম্ভবতঃ এই বার্তাই প্রদান করতে চেয়েছেন যে, যে অন্ধকার গুহার অভ্যন্তর থেকে বস্তুজগতের উত্থান সমগ্র দেশকাল নির্বিশেষে সবকিছুকে অগ্রাহ্য করে সেই বস্তুজগত আবার সেই গুহার অভ্যন্তরেই বস্তুজগতের যে আনন্দ সেই আনন্দের কাছে অর্থাৎ উৎসের কাছেই ফিরে যাচ্ছে। আর এখানেই রবীন্দ্রনাথের সঙ্গে কোলরিজের পার্থক্য স্পষ্ট। যেহেতু কোলরিজ তার Tremendous Imagination- এর মাধ্যমে ঘোর কল্পনাগামীতার মধ্যে দিয়ে অসীমকে ধারণ করে আত্মস্থ করেছেন। এবং এ কারণেই William Wordsworth- এর মতো করে কোলরিজ অসীমকে কল্পনা করতে পারেন নি। কল্পনা করেছেন Wordsworth- কেও ছাড়িয়ে গিয়ে।

স্যামুয়েল টেলর কোলরিজের হৃদয়িক অনুভূতিতে কিন্তু এই Creative Unity- এর অবস্থান অস্তিত্বহীন। তার অনুভূতিতে যা অস্তিত্ববান তাহলো- Creative Unity- এর পরিবর্তে অতিমাত্রিক creative Imagination- যা রবীন্দ্রনাথ থেকে তাকে পৃথক তো করেছেই আংশিকভাবে William Wordsworth- কেও পৃথক করেছে। এবং এখানেই কোলরিজের পরিপূর্ণ স্বাতন্ত্র্য। তিনি দুরন্ত গতিসম্পন্ন বিশাল মহাশুন্যচারী এক অভূতপূর্ব Imagination- সম্রাট।

এ প্রসঙ্গে Living literature; The literary heritage গ্রন্থের সম্পাদক Hans p. Guth এর মন্তব্য বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। কোলরিজের চিন্তাবৃত্তি, মননশীলতা, এবং প্রবল কল্পনাগামিতা ও ‘সত্য-সাহিত্য’-সম্পর্কে তার ধারণা এবং দিকটিকে তিনি এখানে তুলে ধরেছেন এভাবে-
He helped make the romantic glorification of the creative imagination and of creative genius part of our attitudes toward art and literature. He played a major role in the romantic rediscovery of Shakespeare which celebrated the dramatist as the sweetest genius of world literature. Unsurpassed in his grasp of the truth about human nature.
Coleridge asked his readers and followers to think of imaginative literature as a true guide and friend to humanity. He taught that true literature brings – the whole soul- in to activities –
 Living literature,
The literary heritage
E.by-  Hans p. gath
Page -502
সেখানে তুলনামূলভাবে একটি বিষয় বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য যে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সৌন্দর্যময় বস্তুগত প্রকৃতিকে সসীমের আকারে নিজের অন্তরায়নে ধারণ করে অসীম এবং সসীমের মধ্যে যে যোগসূত্র স্থাপন করেছেন তাকে বলা হয়েছে-‘Creative Unity’.

কিন্তু কোলরিজ শিল্প ও সাহিত্যের ক্ষেত্রে সৃজনশীল কল্পনাবৃত্তি এবং সৃজনশীল প্রতিভার রোমাঞ্চিত মহিমা সৃষ্টির ক্ষেত্রে পুরো বিষয়টিকে গ্রহণ করেছেন আমাদের বিশেষ একটি মনোভঙ্গির অংশ হিসেবে। এবং তিনি তার পাঠক ও অনুসারীবৃন্দকে কল্পনাপ্রবণ সাহিত্য (Imaginative Literature) মানবতার প্রকৃত বন্ধু এবং দিক নির্দেশক হিসেবে চিন্তা এবং গ্রহণ করার জন্য বলেছেন। তিনি আরও শিক্ষা প্রদান করেছেন যে- ‘True Literature’- অর্থাৎ তার চিন্তাশ্রিত- ‘সত্য-সাহিত্য’ই মহান পরমাত্মাকে কর্মে ব্যাপৃত করতে পারে।

এ প্রসঙ্গে এখন বিশ্লেষণ করলে একটি মাত্র বিষয়ই অনুমিত হওয়া স্বাভাবিক যা কোলরিজের-‘Creative Imagination’-জাত-‘সত্য-সাহিত্য’-এর সাথে রবীন্দ্রনাথের-‘Creative Unity’-জাত সাহিত্যের ব্যবধান দূরতিক্রম্য। রবীন্দ্রনাথ যেখানে তাঁর কল্পনার দূরদৃষ্টি দিয়ে বস্তুগত অসীমকে সসীমের মধ্যে আবদ্ধ করেছেন, কোলরিজ সেখানে তার প্রবল কল্পনা প্রবাহে নিরন্তর ভেসেই চলেছেন বস্তুগত সীমার বাইরেও অসীমের মহাশুণ্যতাকে তাঁর কল্পনা বৃত্তির সীমায়তিতে সজীব সৌন্দর্যের লীলাভূমিতে আনয়ন করে সসীমে রূপান্তরিত করণের মধ্যে দিয়ে।

তাঁর কল্পনাশ্রিত ‘সত্য-সুন্দর’-রূপটিকে তিনি তীব্র তাপদাহে ঝলসানো বাস্তবতার প্রলেপে প্রলেপায়িত করে আত্মস্থ করতে চান নি এবং এ কারণে তিনি কঠোর বাস্তবতার রূপটিকে গ্রহণ করেন নি এবং তাঁর বিকাশকেও দৃশ্যমানতার রৌদ্রালোকে উন্মোচিত করণের ক্ষেত্রেও উৎসাহী হন নি। আর একারণেই তিনি এবং ওয়ার্ডসওয়ার্থ কতৃক যৌথভাবে রচিত- ”Lyrical Ballads” এর অন্তর্ভুক্ত তার রচিত কবিতা ‘The Rime of the Ancient Mariner’-এর  জন্যে তিনি বিপুলভাবে সমালোচিত হয়েছিলেন। এবং সেই সমালোচনার প্রেক্ষিতে তিনি আক্ষেপ এবং দুঃখ করে বলেছিলেন-
Even the three or four poems, printed with works of a friend, as far as they were censured at all, were charged with the same or similar defects, though I am persuaded not with equal justice: -with an EXCESS OF ORNAMENT, In addition to STRAINED AND ELABORATE DICTION.”– (vide the criticisms on the – “Ancient Mariner”– in the monthly an critical reviews of the first volume of the Lyrical Ballads.)
S.T. Coleridge
Biographia literaria,
edited by – j. shawrwas,
volume -01. page -03
Coleridge বিশ্ববিশ্রুত নাট্যকার এবং কবি William Shakespeare এর রোমান্টিক মননশীলতার পুনরাবিস্কারের ক্ষেত্রে এক বিরাট ভূমিকা পালন করেন যা William Shakespeare কে বিশ্ব সাহিত্যের এক দুর্লভ এবং মহান আসনে অধিষ্ঠিত করে, অনতিক্রম্যভাবে মানব প্রকৃতির সত্য সম্পর্কে Shakespeare অলংঘনীয়ভাবে ধারণ করেন অথবা সে সত্যকে সংহত মননশীলতা দিয়ে আঁকড়ে ধরেন। William Shakespeare এর ক্ষেত্রে কোলরিজ যা করেছিলেন তাঁর নিজের ক্ষেত্রে  অন্য কেউ তা করেননি- এখানেও তিনি বিস্ময়াহত এবং হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়েছিলেন। এবং সে সময়ে রোমান্টিক আন্দোলনের পরস্পরবিরোধী দুটি ধারা বা ঝোঁক সম্পর্কে কোলরিজ অত্যন্ত সতর্কতা অবলম্বন করেছিলেন। কেননা রোমান্টিকতার সংজ্ঞা নির্ণয়ে বিপরীতমুখী দুটি স্রোত খুবই বেগবান গতিতে প্রবাহিত হচ্ছিল। এর মধ্যে একটি হলো এক পক্ষের রোমান্টিকবৃন্দ সবসময়ই যা কৃত্রিম এবং প্রকৃত নয় তাকে এড়িয়ে চলতেন, তাদের লক্ষ্যই ছিল সেই রোমান্টিকতা যা প্রকৃতির প্রতি এবং কাছে অনিন্দ্যসত্য। অর্থাৎ প্রাকৃতিক সত্যই ছিল তাদের কাছে রোমান্টিকতার মূল সংজ্ঞা।

আরেক দিকে অন্যপক্ষ রোমান্টিকতাকে যে কল্পনাবৃত্তিক শক্তিতে পূনঃআবিস্কার  করেছিলেন তা বাস্তবতায় রূপান্তরিত করতে ব্যর্থ অথবা এমনকি তা যদি তাদের কাছে কখনও কখনও সম্পূর্ণভাবে ত্যাগ করবার মতোও মনে হয়ে থাকে তবুও তারা সেই রোমান্টিকতাকে জেনে বুঝেই গ্রহণ করেছিলেন। কোলরিজের রচনাসমূহ পাঠ এবং বিশ্লেষণ করলে যা মনে হয় তা হলো তিনি তার অবস্থানকে শেষোক্ত মতবাদ বা সংজ্ঞার পক্ষেই সম্পৃক্ত করেছিলেন। অবশ্য সে সময় সার্বিক ইংরেজি সাহিত্যের পরিমন্ডলে রোমান্টিকতার ক্ষেত্রে দুটি বিপরীত ধারা প্রবাহিত হলেও রোমান্টিকতার নবরূপ উত্থান সে সময় থেকেই। Hans. P. Guth- এর মত অনুযায়ী কোলরিজ সে সময়ে সাহিত্যে রোমান্টিক ধ্যান ধারণার নেতৃস্থানীয় কন্ঠস্বরে পরিণত হন।

আর তাই রচনাটির উপান্তে এসে নিশ্চিত করেই বলা যায় স্যামুয়েল টেলর কোলরিজ রোমান্টিক কবি হলেও তার ধারাটি ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন মাত্রার। যে মাত্রিকতার ভেতরে রোমান্টিকতার উপাদানসমূহকে তিনি গ্রহণ করেছেন তা হলো ভীতি, আতংক, শিহরণ জাত উত্তেজনা, অলৌকিকতা, হরর ইত্যাদি। পরবর্তীতে যা রোমান্টিকতার জনপ্রিয় সংজ্ঞার উপাদান হিসেবে পাঠকের কাছে গৃহীত এবং আদৃত হয়েছিল। কিন্তু তার পরেও তিনি উল্লেখিত উপাদানসমূহকে তার নিজ Imagination  এর মাধ্যমে নির্দিষ্ট সংজ্ঞায়িত রোমান্টিকতার উপাদান হিসেবে গ্রহণ করায় তিনি সমালোচিত এবং তিরস্কৃতও  হয়েছিলেন সে সময়ে তার সমকালীন কবিবৃন্দ কর্তৃক।

আর এ পর্যায়ে যখনই তিনি এসেছিলেন ঠিক তখনই তিনি হয়ে পড়েছেন বিষন্ন, বিষাদময় এবং হতাশাগ্রস্ত। এবং চরমভাবে বিষন্ন, হতাশাগ্রস্ত হয়েও তিনি Imagination - এর প্রবল প্রবাহকে নিজের সংযমিতা দিয়ে নিয়ন্ত্রণ করতে পারেননি। Imagination তার কাছে সমর্পিত হয়নি। বরং তিনিই Imagination- এ সমর্পিত হয়ে গেছেন। তারপরেও পাঠকের কাছে একজন বিশেষ ধরণের রোমান্টিকতার জনক হিসেব তিনি বিপুলভাবে আদৃত হয়েছেন।

এখানে কোলরিজের অপ্রকাশিত কবিতার একটি স্তবক উদ্ধৃত করছি-

যেখানে গ্রীকরা “Psyche” শব্দটিকে আত্মা এবং প্রজাপতি নামেই সাধারণভাবে গ্রহণ করে থাকে-
The butterfly the ancient Grecians made
The soul's fair emblem, and its only name--
But of the soul, escaped the slavish trade
Of mortal life !--For in this earthly frame
Ours is the reptile's lot, much toil, much blame,
Manifold motions making little speed,
And to deform and kill the things whereon we feed.

Psyche
S.T. Coleridge
Biographia literaria,
Edited by – j. shawrwas,
volume -01. page -57
উল্লেখিত কবিতাটিও তাঁর বিপুল হতাশাগ্রস্ততায় আক্রান্ত একজন কবির বিষন্ন বিলাপ- যে বিলাপ তার প্রগাঢ় বিষন্নতার গভীর প্রদেশ থেকে উত্থিত। অতঃপর অবশ্যম্ভাবীরূপে স্যামুয়েল টেলর কোলরিজ একটি বিশেষ ধরণের রোমান্টিকতার জনক হলেও তিনি চরম বিষন্নতায় আবৃত দূর কল্পলোকের এক অসামান্য বিষন্নতার কবি। পাঠক অধিভৌতিকতা, অলৌকিকতা, হরর, ভীতি, আতঙ্ক- ইত্যাদি আশ্রিত রোমান্টিকতাকে বাস্তব হিসেবে ধরে নিয়ে তার রোমান্টিকতায় পরিপ্লুত হয়ে গিয়েছিল- এখানেই কোলরিজের সর্বোচ্চ সফলতা- তাঁর বিষন্নতাও সর্বশেষ অর্থে অনিরুদ্ধ।

৫টি মন্তব্য:

  1. Man'z Protity The art of using bengali words is highly classical.besides the translation of poem is excellent. the particular and deep analysis of keats, shelly and coleridge will defintely meet up the demand of common readers. in every particular steps the writer has disscued like a flow of mild wave.expecting the essay will ensure a place in bengali literature.

    উত্তরমুছুন
  2. Man'z Protity The art of using bengali words is highly classical.besides the translation of poem is excellent. the particular and deep analysis of keats, shelly and coleridge will defintely meet up the demand oSardar Mohommad Razzak
    Sardar Mohommad Razzak Your Comment on the Essay based on the `Rare-quality'-writings of the Renowned British Romantic Poet S T COLRIDGE who is also called as a `Poet of Dejection'-has come into a shape of Intellectual and Talent-full Aspect. I have been very much impressed and inspired through Your this kind of versatile comment. For this comment I shall be highly grateful to You for Long. Be fine with CHEERS.f common readers. in every particular steps the writer has disscued like a flow of mild wave.expecting the essay will ensure a place in bengali literature.

    উত্তরমুছুন
  3. প্রবন্ধটি পাঠ করলাম। এত উন্নত মানের একটি রচনা যা ভাষায় প্রকাশ করা যায় না। এত উদ্ধৃতি; এত বিশ্লেষণ এবং এত গভীর যে দুবার পাঠ করতে হয়। লেখককে অনেক ধন্যবাদ। লেখাটি বাংলা সাহিত্যের অহংকর।

    উত্তরমুছুন
    উত্তরগুলি
    1. আপনাকেও অভিনন্দন রচনাটি পাঠ করবার জন্যে। আসলে বিশ্ব সাহিত্যের এ ধরণের একজন উচ্চাঙ্গের লেখকের রচনার ওপর কোনো রচনা সৃজন করাও একটি দুঃসাধ্য কাজ। আমি চেষ্টা করেছি মাত্র। ভালো থাকবেন। আপনাদের মতো পাঠকরাই তো বাংলা সাহিত্যকে বাঁচিয়ে রাখবে। অনেক ধন্যবাদ আপনাকে।আপনাকেও অভিনন্দন রচনাটি পাঠ করবার জন্যে। আসলে বিশ্ব সাহিত্যের এ ধরণের একজন উচ্চাঙ্গের লেখকের রচনার ওপর কোনো রচনা সৃজন করাও একটি দুঃসাধ্য কাজ। আমি চেষ্টা করেছি মাত্র। ভালো থাকবেন। আপনাদের মতো পাঠকরাই তো বাংলা সাহিত্যকে বাঁচিয়ে রাখবে। অনেক ধন্যবাদ আপনাকে।আপনাকেও অভিনন্দন Sardar Mohommad Razzakরচনাটি পাঠ করবার জন্যে। আসলে বিশ্ব সাহিত্যের এ ধরণের একজন উচ্চাঙ্গের লেখকের রচনার ওপর কোনো রচনা সৃজন করাও একটি দুঃসাধ্য কাজ। আমি চেষ্টা করেছি মাত্র। ভালো থাকবেন। আপনাদের মতো পাঠকরাই তো বাংলা সাহিত্যকে বাঁচিয়ে রাখবে। অনেক ধন্যবাদ আপনাকে।

      মুছুন
    2. Sardar Mohommad Razzakআপনাকেও অভিনন্দন রচনাটি পাঠ করবার জন্যে। আসলে বিশ্ব সাহিত্যের এ ধরণের একজন উচ্চাঙ্গের লেখকের রচনার ওপর কোনো রচনা সৃজন করাও একটি দুঃসাধ্য কাজ। আমি চেষ্টা করেছি মাত্র। ভালো থাকবেন। আপনাদের মতো পাঠকরাই তো বাংলা সাহিত্যকে বাঁচিয়ে রাখবে। অনেক ধন্যবাদ আপনাকে।

      মুছুন

মন্তব্য করার পূর্বে মন্তব্যর নীতিমালা পাঠ আবশ্যক। বিস্তারিতভাবে কিছু জানাতে চাইলে এখানে ক্লিক করে ই-মেইল করুন।