‘মুস্তফা চৌধুরী’ এর রচনায় জানতে পারি “৭১ এর যুদ্ধশিশু অবিদিত ইতিহাস”

‘মুস্তফা চৌধুরী’ এর রচনায় জানতে পারি “৭১ এর যুদ্ধশিশু অবিদিত ইতিহাস”
বাঙালি জাতির হাজার বৎসরের স্বাধীনতা সংগ্রাম পূর্ণতা পেয়েছে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে। আর এই মুক্তিযুদ্ধের অনিবার্য ফসল ‘যুদ্ধশিশু’। মুক্তিযুদ্ধের পূর্ণাঙ্গ পরিচিতি এখনও পরিস্ফুট হয় নি। বিভিন্ন আলোচনাতে তার প্রভাব দৃশ্যমান। বাঙালি জাতির আত্মপরিচয় সৃষ্টির যন্ত্রণাময় প্রক্রিয়ার অবশেষ এই যুদ্ধশিশুরা, যারা এখনও সামাজিক স্বীকৃতির বাইরে রয়ে গেছে। কর্দমাক্ত ঘুপচিতে পথ হারানো সংস্কারাচ্ছন্ন বাংলাদেশের সমাজ যুদ্ধপ্রক্রিয়ায় ক্ষতবিক্ষত নারী ও তাদের গর্ভজাত সন্তানদের প্রতি এখনও সংবেদনশীল নয়। কালব্যাপী অন্ধকারাচ্ছন্ন দিগন্তে যে কজন দিশারী আলো ছড়াতে নিরন্তর সক্রিয় রয়েছেন তাঁদের মধ্যে ‘মুস্তফা চৌধুরী’ অন্যতম।

আধিপত্য বিস্তারের অংশ হিসেবে বাঙালি নারীদেরকে পাকিস্তানী সৈন্যরা ধর্ষণ করে। ২ লক্ষাধিক নারী ধর্ষণের শিকার হয়েছিল। এদের মধ্যে অনেকে গর্ভধারণ করেছিল। একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী ৫০০০ যুদ্ধশিশু জন্ম নেবে বলে মনে করা হয়েছিল (পৃষ্ঠা- ১৬)। তবে এর সঠিক সংখ্যা এখনও যথাযথভাবে নিরূপণ করা হয় নি। স্বাধীন দেশে জন্ম নেয়া পাকিস্তানী ও তাদের এদেশীয় সহযোগী রাজাকারদের ঔরসজাত শিশুদেরকে আত্মীকৃত করতে বাংলাদেশের সমাজ অনিচ্ছুক ছিল। এর জন্য যতটা না পাকিস্তানীদের প্রতি ঘৃণা তার চেয়ে বেশি কাজ করেছে কুসংস্কারাচ্ছন্ন মানসিকতা। নবজাত শিশুদেরকে বাংলাদেশী সমাজ প্রত্যাখ্যান করেছিল। তাদের অনেককেই দেশত্যাগে বাধ্য করা হয়েছিল। এরকম ১৫ জন শিশুকে নিয়ে ‘মুস্তফা চৌধুরী’ রচনা করেছেন তথ্যসমৃদ্ধ মূল্যবান বই “৭১ এর যুদ্ধশিশু - অবিদিত ইতিহাস”।

লেখক বইয়ের ‘মুখবন্ধে’ জানান -
প্রথমদিকে, দেশের মানুষ ঐ শিশুদের প্রতি নির্মম ও উদাসীন মনোভাব দেখিয়েছিল। কারণ জন্মদাত্রী মায়েরাই তাদের পরিত্যাগ করেছিলেন। কোথাও কোথাও যুদ্ধশিশুদের ‘শত্রু সন্তান’ অথবা ‘বেআইনি শিশু’, ‘মিশ্র রক্তের শিশু’ ও ‘পরিত্যক্ত শিশু’ আখ্যা দেয়া হয়; অথবা সোজা ভাষায় তাদেরকে ‘জারজ’ বলে পৃথক করে দেয়া হয়। সাধারণত এদেরকে পরিত্যক্ত শিশু বা যুদ্ধের কারণে পিতৃমাতৃহীন বলেও পরিচয় দেয়া হয়। একইভাবে সেই মায়েদের ‘অসম্মানিত নারী’, ‘দুস্থ নারী’, ‘ধর্ষণের শিকার’, ‘সেনা অত্যাচারের শিকার’ ইত্যাদি নামেও পরিচয় দেয়া হয়। আবার যুদ্ধশিশুকে “অনাকাঙ্ক্ষিত” এবং “অবাঞ্চিত” শিশুও বলা হয়। তাদের জন্মকে ঘিরে যে ইতিহাস রয়েছে সেজন্য তাদেরকে অনেক সময় অস্পৃশ্য হিসেবে দেখা হয়। (পৃষ্ঠা xix)
মোট আটটি অধ্যায়ে বিভক্ত এই বইতে ১৯৭১ এর মুক্তিযুদ্ধে ধর্ষিত বাঙালি নারী ও তাদের গর্ভে পাকিস্তানী ঔরসজাত শিশু সম্পর্কিত প্রসঙ্গগুলো বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। প্রধানত আলোচিত হয়েছে দত্তক কার্যক্রমের আওতায় কানাডাতে দেশান্তরিত হওয়া ১৫ জন শিশু নিয়ে। লেখক কানাডা, বাংলাদেশ ও ভারতের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে বহুকাল ব্যয় করে বহুদিন ধরে পরিশ্রম করে অসংখ্য নথি ঘেঁটে প্রচুর তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ করেছেন। আর সংগৃহীত এই তথ্য উপস্থাপন করেছেন আটটি অধ্যায়ে। মূল আলোচনায় যাবার আগে সূচীপত্রটি একবার দেখে নেয়া প্রয়োজন।
  • যুদ্ধশিশুদের উদ্ধৃতি
  • দায়বদ্ধতা
  • পূর্বকথন
  • মুখবন্ধ
  • সূত্রনির্দেশ ও গবেষণা পদ্ধতি সম্পর্কে দুটি কথা
  • ভূমিকা
  • প্রথম অধ্যায়
    • ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট: মুক্তিযুদ্ধ, বলাৎকার, ফলাফল এবং যুদ্ধশিশুর জন্ম
  • দ্বিতীয় অধ্যায়
    • বাংলাদেশ ও কানাডাতে অনাথ শিশুর দত্তক নেয়ার প্রচলিত ব্যবস্থা
  • তৃতীয় অধ্যায়
    • বাংলাদেশ-কানাডা দ্বিপাক্ষিক উদ্যোগ: বাগাড়ম্বর পেরিয়ে বলিষ্ঠ পদক্ষেপ
  • চতুর্থ অধ্যায়
    • বাংলাদেশ থেকে কানাডা: যুদ্ধশিশুর দুঃসাহসিক অভিযান
  • পঞ্চম অধ্যায়
    • দত্তকগ্রাহী বাবা-মা এবং যুদ্ধশিশু: একটি আভরণচিত্র
  • ষষ্ঠ অধ্যায়
    • দত্তকগ্রাহী বাবা-মার আনন্দ-বেদনা
  • সপ্তম অধ্যায়
    • কানাডাতে বেড়ে ওঠা যুদ্ধশিশু
  • অষ্টম অধ্যায়
    • উপসংহার: উদ্‌যাপনযোগ্য উপলক্ষ্য
  • সংযোজন
    • ক. প্রামাণিক দলিলাদি
    • খ. ফটো গ্যালারি
  • নির্বাচিত গ্রন্থপঞ্জি
  • নির্ঘন্ট

বইয়ের আলোচ্য প্রসঙ্গটি হৃদয়বিদারক। মুক্তিযুদ্ধের অবর্ণনীয় কষ্ট, মায়েদের নারকীয় জীবন, শিশুদের প্রতি সদ্য স্বাধীনদেশের স্বাধীনতাপ্রাপ্ত মানুষদের অবহেলা ইত্যাদির বর্ণনা কোমলপ্রাণা পাঠককে অশ্রুসজল করে তুলবে। শিশুদের প্রতি জাতির উপেক্ষা তাঁর হৃদয়কে বেদনার্ত করে তুলবে।

লেখকের রচনাশৈলী চমৎকার। গবেষণাপ্রবণ মন ও সাহিত্যপ্রবণ হৃদয় দিয়ে তিনি এই বই রচনা করেছেন। ফলে দীর্ঘ বইটি পাঠ করতে গিয়ে সহজে ক্লান্তি আসে না। লেখক অসামান্য দক্ষতায় মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের অনুচ্চারিত এই দিকটি সম্পর্কে প্রাপ্ত প্রতিটি তথ্য পাঠকের সামনে উপস্থাপন করেছেন। কোথাও কোন ফাঁক রাখেন নি। খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে তথ্য সংগ্রহ করেছেন। কানাডীয় দত্তকগ্রাহী মা-বাবারা বাংলাদেশের যুদ্ধশিশুদের দত্তক নেবার সংকল্প যখন থেকে গ্রহণ করেন তখন থেকে বিবরণ শুরু করেছেন। যুদ্ধশিশুরা কীভাবে বিভিন্ন আনুষ্ঠানিকতা পার হয়ে বাংলাদেশ থেকে বিমানযোগে কানাডা পৌঁছে; তাদের নতুন আবাসস্থলের দত্তকগ্রাহী বাবামায়েরা দীর্ঘ অপেক্ষা শেষে শিশুদেরকে পেয়ে কীভাবে উচ্ছসিত হয়েছিল – এই বইতে লেখক তার প্রাঞ্জল বর্ণনা দিয়েছেন। অতঃপর শিশুদের নিরাপদ পারিবারিক পরিবেশে শৈশব কৈশোর পার হয়ে বেড়ে ওঠা, যৌবনে পদার্পণ, বিভিন্ন কর্মে যোগদান, দত্তকগ্রাহী পিতামাতার সাথে তাদের মানবিক সম্পর্ক, আত্মার বাঁধন ইত্যাদির বিস্তারিত আলোচনা রয়েছে। এই ধরনের বই বাংলাভাষায় বিরল।

লেখক মুক্তিযুদ্ধে সংঘটিত নারী নির্যাতন এবং তার ফলাফলে জন্ম নেয়া শিশুদের স্বীকৃতি চান; ইতিহাসে তাদের উল্লেখ যথাযোগ্য সম্মানের সাথে হোক সে প্রত্যাশা করেন। তিনি অবাক বিস্ময়ে লক্ষ্য করেন যুদ্ধকালে নিগৃহীত নারীসমাজ ও তাদের “অবাঞ্ছিত” শিশুদের পাকিস্তানি দখলদার সেনাবাহিনীর পাপের বোঝা হিসেবে বাংলাদেশের মানুষ ঘৃণার চোখে দেখেছে। তিনি বলেন-
যে দেশে ১৯৪৭ সালের ভারত ভাগ অথবা ১৯৭১ সালের বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ বড় ঘটনা হিসেবে স্বীকৃত, সেখানে এ রকমটি হবার কথা নয়। অবশ্য এত বছর পর ধর্ষণ, যৌন দাসত্ব, জবরদস্তিমূলক গর্ভধারণ, গর্ভমোচন, জন্ম, মৃত্যু, পরিত্যক্ত হওয়া এবং যুদ্ধশিশুর দত্তকগ্রহণ পর্যন্ত সকল ঘটনাবলি মিলে ১৯৭১-৭২ সালের এক অলিখিত, অজ্ঞাত ইতিহাসের অধ্যায় আজ আমাদের সামনে এসে দাঁড়িয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের অবিচ্ছেদ্য ইতিহাসের টুকরো এসব অঘটন। এ বিষয়ে তথ্য-নির্ভর গ্রন্থনা অত্যাবশ্যক। অদৃষ্টের পরিহাস যে, আমাদের গ্রন্থাগারের তাকগুলি মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক বইয়ের ভারে ভেঙে পড়ার উপক্রম হলেও মুক্তিযুদ্ধের পরপরই জন্ম নেয়া শিশুদের সম্পর্কে আজও কেউ লেখেননি। ঐ প্রজন্ম কি তবে নাম-পরিচয়হীন এককবন্ধ প্রজন্ম হিসেবে ইতিহাসে ছায়াশরীর হয়ে মিলিয়ে যাবে? (পৃষ্ঠা- xxi)
তৎকালীন সমাজের সংস্কারের বিপরীতে দাঁড়িয়ে জাতির জনক বঙ্গবন্ধ শেখ মুজিবুর রহমান মুক্তিযুদ্ধে নির্যাতিত নারীদের বুকে টেনে নিয়েছেন; দিয়েছেন ‘বীরাঙ্গনা’র স্বীকৃতি (পৃষ্ঠা- xxii)। কিন্তু তাদের জন্য কোন স্মারক স্তম্ভ বা মিনার বা সম্মান সৌধ তৈরি করা হয় নি। লেখক মনোবেদনা নিয়ে জানান -
বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের অন্ধকারাচ্ছন্ন অধ্যায় থেকে নিজেদের যারা দূরে সরিয়ে নিয়েছেন, তাদের কেউ কিন্তু তেমন কিছু লাভবান হননি, এতে কেবল বাংলাদেশের ইতিহাসের একাংশ অনালোকিত রয়ে গিয়েছে। কিছু কিছু তাৎপর্যপূর্ণ সত্যও মানুষের চোখের আড়ালে থেকে গিয়েছে। আমাদের জানা আছে মাই লাই হত্যাকান্ড, যাকে বিয়োগান্তক বা শোকাবহ অভিজ্ঞতা বলা হতো প্রথমদিকে; আমরা এটাও জানি যে, পরে ইতিহাসের আলোকে সেটা একটি ‘ঘটনা’য় পর্যবসিত হয়েছিল; তেমনি বাংলাদেশি নারীদের ধর্ষণ, বলাৎকার ও বিকৃতকাম চরিতার্থ করতে ব্যবহারের ঘটনাবলি সকলেই ক্রমশ ভুলে গিয়েছিল, ভোলেনি কেবল কয়েকটি নারী সংগঠন ও নারী লেখক সংঘ। একথা বললে সত্যের অপলাপ হবে না যে, বাংলাদেশের জাতির বিবেক থেকে যুদ্ধশিশুদের জন্ম ও ইতিহাস একরকম মুছেই ফেলা হয়েছে। (পৃষ্ঠা- xxii)

আমরা লেখকের ভাষ্য থেকে জানি বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথম ১৯৯০ এর দশকে একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি এর মাধ্যমে বেশ কয়েকজন ধর্ষণের শিকার নারী প্রকাশ্যে মুখ খুলেছেন, পরবর্তীতে ১৯৯৯ সালের দিকে আরেকজন বিখ্যাত মানবাধিকারকর্মী ও ভাস্কর একাত্তরে নির্যাতনের শিকার ফেরদৌসী প্রিয়ভাষিণী জনসমক্ষে বেড়িয়ে এসেছেন। পাকিস্তানের হামুদুর রহমান কমিশনের রিপোর্ট ও সাংবাদিক শেহজাদ আমজাদ এর লেখায় ১৯৭১ এ পাকিস্তানী সেনাবাহিনী ও রাজাকার আলবদরদের দ্বারা বাঙালি নারী ধর্ষণের প্রসঙ্গটি স্বীকার করা হয়েছে। আন্তর্জাতিকভাবে প্রথম  বাংলাদেশের ঘটনাবলির কিছু উদাহরণের উল্লেখ পাওয়া যায় সুজান ব্রাউনমিলার এর "Against Our Will; Men Women and Rape” বইতে।

বিশ্বের অন্যান্য যেসব জাতি লড়াই সংগ্রাম শেষে স্বাধীনতা লাভ করেছে তারা প্রায় প্রত্যেকে বীরাঙ্গনা ও যুদ্ধশিশুদেরকে প্রাপ্য সম্মান দিয়েছে। শুধু আমরাই পরিনি নিজেদের দীনতা কাটিয়ে উঠতে। অথচ  বীরাঙ্গনাদের প্রতি সম্মান জানিয়ে কোন সৌধ তৈরি হতে পারে, বিভিন্ন আলোচনায় তাদের প্রসঙ্গ সশ্রদ্ধায় উপস্থাপিত হতে পারে। শিল্প সাহিত্যের বিভিন্ন কীর্তিতে ‘বীরাঙ্গনা’ প্রসঙ্গটি বারবার চর্চা করা যেতে পারে। আসলে এসব নির্ভর করবে জাতি হিসেবে আমরা কতটা পরিণত মানসিকতা অর্জন করেছি তার উপর।

যুদ্ধশিশুদের বিষয়ে প্রামাণ্য দলিলের চিত্র রয়েছে ১৯টি; কানাডাতে শিশুদের শৈশব, কৈশোর ও পূর্ণবয়সের ছবি রয়েছে ৪০টি। শিশুদেরকে পেয়ে দত্তকগ্রহীতা বাবামায়ের মুখের উজ্জ্বল হাসি, পরিবারের অন্য সদস্যদের সাথে পারিবারিক মুহূর্ত, শৈশব-কৈশোরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে তাদের বিভিন্ন সক্রিয়তা, যৌবনের বিভিন্ন পর্যায়ের সাদাকালো ছবিগুলো দেশান্তরিত যুদ্ধশিশুদের আর্থ সামাজিক অবস্থানকে স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছে।

৪৯৮ পৃষ্ঠার বইয়ের প্রারম্ভে ৫০টিরও অধিক পৃষ্ঠায় লেখক বিভিন্ন পূর্বকথন ও ভূমিকা উপস্থাপন করেছেন। ফলে বইটি বেশ মোটা। অফসেট কাগজে ছাপানোর কারণে বেশ ভারী। সঠিক আকারের গাঢ় কালিতে ছাপানো হওয়ায় পড়তে গিয়ে কোন পীড়া অনুভব হয় না। বইয়ের শেষে একটি গ্রন্থপঞ্জী রয়েছে। সময়ান্তরে মুক্তিযুদ্ধের যুদ্ধশিশুদের নিয়ে তথ্যের উৎসসমৃদ্ধ এই গ্রন্থতালিকাটি প্রকাশের ইচ্ছা রয়েছে। একটি গর্ভস্থ ভ্রুণের রেখাচিত্র ব্যবহার করে অর্থবহ প্রচ্ছদ অঙ্কন করেছেন ‘আবু হাসান’। তাঁর রুচিবোধ ও মননশীলতার উচ্চ প্রশংসা করি।

পাঠক মুক্তিযুদ্ধের অল্প পরিচিত এই দিকটির অনেক অজানা তথ্য জানতে পারবেন। অনালোচিত এই বিষয়টির গভীরতা অনুধাবন করতে পারবেন। বাঙালির স্বাধীকারপ্রেমী প্রত্যেকের এই বই পড়া উচিত। আমি এই বইয়ের ব্যাপক প্রচার ও পঠন প্রত্যাশা করি।

~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~
’৭১ এর যুদ্ধশিশু অবিদিত ইতিহাস
মুস্তফা চৌধুরী


প্রচ্ছদ: আবু হাসান
প্রকাশক: একাডেমিক প্রেস এন্ড পাবলিসার্স লাইব্রেরি, ঢাকা
প্রকাশকাল: প্রথম- ২০১৪, দ্বিতীয়- ২০১৬
পৃষ্ঠা: ৪৯৮
মূল্য: ৮০০ টাকা
ISBN: 978-984-91447-9-3

# একাত্তরের যুদ্ধশিশুদের নিয়ে আরেকটি বইয়ের আলোচনা গ্রন্থগত ওয়েবসাইটে রয়েছে। আগ্রহী হলে পড়ুন “একাত্তরের যুদ্ধশিশু - সাজিদ হোসেন”

৩টি মন্তব্য:

  1. এরকম কোন ঘটনার কথা জানতামনা৷ এই বই আমাকে কিনতেই হবে৷

    উত্তরমুছুন
  2. "বিশ্বের অন্যান্য যেসব জাতি লড়াই সংগ্রাম শেষে স্বাধীনতা লাভ করেছে তারা প্রায় প্রত্যেকে বীরাঙ্গনা ও যুদ্ধশিশুদেরকে প্রাপ্য সম্মান দিয়েছে। শুধু আমরাই পরিনি নিজেদের দীনতা কাটিয়ে উঠতে। " ---আপনি ঠিক বলেছেন৷ সত্যি তাই৷ এ আমাদের জাতীয় দীনতা৷

    উত্তরমুছুন
    উত্তরগুলি
    1. আমাদের এই দীনতা থেকে মুক্ত হতে হবে। মন্তব্য করার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।

      মুছুন

মন্তব্য করার পূর্বে মন্তব্যর নীতিমালা সম্পাদকের স্বীকারোক্তি পাঠ আবশ্যক। ইচ্ছে করলে ই-মেইল করতে পারেন।