অনাবাসী | মো. রেজাউল করিম

অনাবাসী | মো. রেজাউল করিম

উপন্যাসের লেখক পেশাগত কাজে বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গাদেরকে ১৯৯১ সাল থেকে নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন। তিনি পেশাগত কাজে তিনবার মায়ানমার পরিদর্শন করেছেন। খুব কাছে থেকে পর্যবেক্ষণের ওপরে ভিত্তি করে তিনি এই উপন্যাস লিখেছেন তিনি। এই উপন্যাসকে ঐতিহাসিক উপন্যাস বলাটা সঙ্গত হবে না। তবে এর উপকরণ সবই ইতিহাস থেকে নেয়া। ঘটনার স্থান, সময়, বিবর্তন- এ সকলই ইতিহাস থেকে নেয়া। এমনকি মানুষের নাম, পোশাক, খাদ্য অর্থাৎ সাংস্কৃতিক সঙ্গতিও বজায় রাখার চেষ্টা করা হয়েছে।

অনাবাসী উপন্যাস দৃশ্যত এমন কিছু প্রশ্ন আর কৌতুহল নিয়েই এগিয়েছে- একটি সমাপ্ত উত্তরের খোঁজে। না! সে উত্তর হয়ত মেলেনি শেষ পর্যন্ত।

উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র হালিম। ১৯৭৮ সালে সে ছয় বা সাত বছরের শিশু। হালিম বার্মার সেনাবাহিনী ও রাখাইন দূর্বৃত্ত দ্বারা নৃশংসভাবে খুন হতে দেখে তার মা, বাবা ও শিশু ছোটবোনকে। এরপর তার ঠাঁই হয় মাদ্রাসা হুজুর হাশিমের পরিবারে। হাশিমের পরিবারের বেঁচে থাকার জীবন সংগ্রামে সেও শামিল হয়। জীবনের চরম প্রতিকূলতা আর বাঁকে বাঁকে নৃশংসতা দেখে দেখে সে প্রতিশোধের আগুনে জ্বলে উঠে। হাশিমের দুই যুবক ছেলে বেঁচে থাকার সংগ্রামে হারিয়ে যায়।

উপন্যাসে লেখকের অপর এক সৃষ্ট চরিত্র আবদেল করিম। আবদেল করিম উপন্যাসের চরিত্রসমূহের বৈচিত্র্য-বিন্যাসে এক নবতর সংযোজন। যৌবন থেকেই যিনি বর্মীদের শত নিপীড়ন-নির্যাতনের মাঝেও বেঁচে থাকার প্রচেষ্টায় যেন আরাকান পর্বতমালার মতোই অবিচল। যুবক, বৃদ্ধ, এমনকি শিশু রোহিঙ্গাকে যখন হত্যালীলায় মত্ত এক জাতি তখন উথানের মতো জিপচালক এক বর্মী মগের মহতী প্রচেষ্টা স্মরণ করিয়ে দেয় মানবতা সকল সমাজের মানুষের মাঝে বিরাজমান। রাজনীতির কূটচালে কখনও বা তা হয় অপসৃয়মান।

এমন এক উপন্যাসেও হালিমের প্রেম, বর্মী যুবকের সাথে আবদেল করিমের কন্যা রুকসানার প্রেম, বিয়ে, পালিয়ে গিয়ে দশকের পর দশক আত্নগোপনে কাটানোর জীবনছোঁয়া বয়ান উপন্যাসকে তরতর করে এগিয়ে নিয়ে যায়।

লেখক স্বভাবসুলভ নিরপেক্ষতা ও সততায় নিজস্ব লিখন-রীতিতে এগিয়ে নিয়েছেন অনাবাসীদের মর্মন্তদ এক হাহাকারের কাহিনী। এর পরতে পরতে রয়েছে নিপীড়ন, কখনও বা উত্তপ্ত জীবন বিপননের কাহিনী।

বইটি সম্পর্কে লিখেছেন ঔপন্যাসিক ড. সাকিল আহম্মেদ।

অনাবাসী
মো. রেজাউল করিম


প্রকাশনীঃ গতিধারা
পৃষ্ঠাঃ ১৪৩
মূল্যঃ ৳১৫০ (মুদ্রিত মূল্য ৳২০০)

বাংলা একাডেমির বইমেলায় খোঁজ করুন গতিধারা প্রকাশনীর ২৮১-২৮৩ নম্বর স্টলে৷

কোন মন্তব্য নেই

মন্তব্য করার পূর্বে মন্তব্যর নীতিমালা সম্পাদকের স্বীকারোক্তি পাঠ আবশ্যক। ইচ্ছে হলে ই-মেইল করুন।