নতুন কাব্য সম্পর্কে সাইদ উজ্জ্বল এর সাক্ষাৎকার

নতুন কাব্য সম্পর্কে সাইদ উজ্জ্বল এর সাক্ষাৎকার
অমর একুশে গ্রন্থমেলা(২০২০)তে প্রকাশিত হয়েছে সাইদ উজ্জ্বল'র কাব্যগ্রন্থ "দ্বিতীয় প্রজাপতি", প্রকাশ করেছে ছোটকাগজ প্রকাশনা কালীদহ। পাওয়া যাবে কালীদহ, লিটলম্যাগাজিন চত্বর, স্টল ৪৬।

বইমলাতে নতুন বই প্রকাশকালের অনুভূতি এবং বর্তমান সাহিত্যের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সাইদ উজ্জ্বল কথা বলেছেন গ্রন্থগত ডট কম এর সঙ্গে।
====================

❑ সম্প্রতি আপনার বই প্রকাশিত হলো৷ আপনার অনুভূতি জানতে চাই৷

এটা আমার দ্বিতীয় কবিতার বই। প্রথম বই বের হবার পর যে একধরণের উত্তেজনা কাজ করছিলো এখন আর সেরকম নাই। এই বইটা ২০১৮তে বের করতে চাইছিলাম কিন্তু মনে হলো আরেকটু সময় নিই। আরেকটু কাটা-ছেঁড়া করি। তবে, এটা ঠিক বইটা বের হওয়ার আগ পর্যন্ত একটা চাপ অনুভব করছিলাম। বইটা বের হওয়ার পর একটু ভারমুক্ত হলাম। হাহ্।

❑ বই প্রকাশের সিদ্ধান্তে উপনীত হলেন কীভাবে?

# প্রথম কবিতার বই ‘মম বাক্য ধরো’প্রকাশিত হয়েছিল ২০১৬ সালে। এই সময়ের মধ্যে নতুন পাণ্ডুলিপি প্রস্তুত করেছি। ফলে ভাবলাম যে, এবার বই প্রকাশ করা যায়।

❑ বইটি প্রকাশ করতে প্রকাশক নিয়ে জটিলতায় পড়তে হয়েছিলো কি?

# জটিলতায় পড়তে হয়েছিল । বইটাতে এমন কিছু কবিতা আছে যার কারণে আমার খুব ঘনিষ্ট কয়েকটি প্রকাশনীও  বইটি প্রকাশ করার সাহস করে নি। হয়তো তারা কোন বিব্রতকর অবস্থার মধ্যে পড়তে পারেন এরকম ভেবেছেন। আমি দীর্ঘদিন ধরে লিটলম্যাগাজিন আন্দোলনের সাথে জড়িত। ফলে , যেনতেন কোন প্রকাশনাকেও বইটা দিতেও চাইনি। অনেকে বাজে কাগজে দায়সারা গোছের কাজ করে বই প্রকাশ করেন। যাইহোক, শেষ পর্যন্ত ছোটকাগজ কালীদহের মাধ্যমে বইটা বের হয়েছে।

❑ নিজের লেখার প্রতি আত্মবিশ্বাস কতটুকু?

# নিজের লেখার প্রতি আমার আস্থা আছে। কাউকে কোনো দিন বই রিভিউ করার জন্য বলিনি। কারো কাছে বই পাঠাই নি লেখার জন্য। কোন দৈনিক পত্রিকায় কবিতা পাঠাই নি। এই সময়ের বাংলা কবিতায় আমাকে অস্বীকার করার উপায় নাই। এখনকার উল্লেখযোগ্য প্রায় সব কবিই আমার কবিতার প্রসংসা করেছেন। মন্তব্য করেছেন। সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই। আত্মবিশ্বাস না থাকলে লেখালেখি সম্ভব নয়।

❑ কবিতাই কেন লিখলেন? ভাব প্রকাশের জন্য শিল্পের আরও তো মাধ্যম আছে।

# প্রথমত আমি কবি। কিন্তু শুধু কবিতাই আমি লিখি না। ছবি আঁকি। ছোটগল্প এবং উপন্যাসও লেখার প্রস্তুত নিচ্ছি। সংগীতেও কাজ করার ইচ্ছা আছে। দেখা যাক কী হয়।

❑ অনেকে বলেন লেখার ক্ষেত্রে প্রস্তুতির প্রয়োজন হয়। সেক্ষেত্রে আপনারা প্রস্তুতির কথা জানতে চাই।

# প্রাতিষ্ঠানিক কোন প্রস্তুতি নিয়ে কেউ লেখালেখিতে আসে না। লেখালেখির ভিতর দিয়ে নিজেকে তৈরি করে নিতে হয়। শুধু নিজের ভাষা না অন্যন্য ভাষার কবিতায় কী ধরণের কাজ হচ্ছে সেগুলো পড়া। বাংলা কবিতার ক্ষেত্রে ছন্দটা জানা খুবই জরুরী। কে কী-ভাবে ব্যবহার করবে সেটা নিজের ব্যাপার। কিন্তু ছন্দটা জানতে হবে।  একটা কথা বলি, বাংলা কবিতায় ছন্দে কাজ করেননি প্রধান কবিদের মধ্যে  প্রায় কাউকে পাবেন না।  এখানে যা বললাম, আমার প্রস্তুতিটাও সেরকমই।

❑ পাণ্ডুলিপি গোছানোর ক্ষেত্রে কোন কোন বিষয়কে গুরুত্ব দিয়েছেন?

বাংলা প্রথাগত ছন্দ অক্ষরবৃত্ত, মাত্রাবৃত্ত, স্বরবৃত্তে বইটাতে কাজ করেছি
# বাংলা প্রথাগত ছন্দ অক্ষরবৃত্ত, মাত্রাবৃত্ত, স্বরবৃত্তে বইটাতে কাজ করেছি। এছাড়াও কয়েকটা সনেট আছে বইটাতে। এটা গেলো  একটা দিক। দেশীয় এবং আর্ন্তজাতিক অনেক বিষয় যেগুলো আমাকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে সেগুলোকে কবিতায় ধরতে চেয়েছি। যেমন: ইন্তিফাদা নামে একটা কবিতা লিখেছি যেটা  খুবই প্রশংসিত হয়েছে। গুম, খুন, উদ্বাস্তু এগুলোও এসেছে। এ কাজগুলো খুব কঠিন। বিবৃতি হয়ে গেলে চলবেনা। কিন্তু আমি ভালোভাবে আমি কাজটি করতে পেরেছি বলে বিশ্বাস করি।

❑ শিল্প না কি পাঠক, আপনার দায়বদ্ধতা কার কাছে?

# প্রধানত নিজের কাছে। কিন্তু কবিমাত্রই সর্তক তার কাজটা শিল্পসম্মত হয়েছে কিনা। কবি ভাষার কারবারী। এখানে ফাঁকি দিয়ে বেশিদূর যাওয়ার উপায় নাই।

❑ একজন পাঠক হিসেবে যখন বইটি দেখছেন/পড়ছেন, তখন বইটিকে কেমন মনে হচ্ছে?

# কবিমাত্রই একজন ভালো পাঠক। একজন সাধারণ পাঠকের সাথে কবির পাঠের পার্থক্য আছে। যাইহোক, সমসাময়িক অন্যন্য লেখাগুলি পড়েছি। অনেকে ভালো লিখছেন। তবে, এটা নির্দ্বিধায় বলতে পারি দ্বিতীয় প্রজাপতি কবিতার বইটি বাংলা কবিতার জন্য মাইলফলক হিসেবে থাকবে।  রেকর্ড হিসাবে এখানে বলে  রাখলাম।

❑ অধিকাংশ লেখক বইমেলাকে কেন্দ্র করে বই প্রকাশ করে, বিষয়টিকে আপনি কীভাবে দেখেন?

# বইমেলা একটা ফালতু বিষয় । বইমেলায় মনে হয় পাঠকের চেয়ে মৌসুমী লেখকের সংখ্যাই বেশি। আমি এসব বইমেলা-টেলার পক্ষে না। নিজের বই প্রকাশ করেছি বইমেলার পূর্বে। ভালো ভালো বইয়ের প্রকাশনীর সামনে ক্রেতা নাই। মিডিয়া নিয়ন্ত্রিত বিজ্ঞাপনী লেখকের আর্বিভাব হয়েছে এখন। প্রকাশকদের কথিত মুরগী লেখকতো আছেই। এসব দিয়েই বইমেলা ঠাসা। এর মধ্যে কিছু ব্যতিক্রম আছে তাদের কথা আলাদা। এদের বইমেলা না হলেও চলবে। নতুনদের দরকার ছিল লিটলম্যাগাজিন চর্চার সাথে যুক্ত হওয়া।

===============
সাইদ উজ্জ্বল। প্রথম কবিতার বই ‘মম বাক্য ধরো’ (২০১৬)। ‘দ্বিতীয় প্রজাপতি’ দ্বিতীয় কবিতার বই।

মতামত:_

0 মন্তব্যসমূহ