‘একরাত্রি’ পড়ার সময় পাঠকের যে প্রথম গণ্ডগোলটির মুখোমুখি হতে হয়, তা হলো—এটি কি আসলে একটি গল্প? সাধারণত, আমাদের কল্পনায় গল্প মানে আসে সংঘাত, নাটকীয় মুহূর্ত, কিংবা ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়ার ধারাবাহিকতা। কিন্তু ‘একরাত্রি’ তে দেখা যায়, সেখানে সেই প্রত্যাশিত উপাদানগুলির অভাব রয়েছে। দৃঢ় কোনো সংঘাত নেই, স্পষ্ট কোন ক্লাইম্যাক্সও নেই, এমনকি কোনো কার্যকর ক্রিয়া নেই যা গল্পটিকে এগিয়ে নিয়ে যায়। এখানেই আধুনিক ছোটগল্পের এক বিশেষ বৈশিষ্ট্য চিহ্নিত হয়। আধুনিক গল্প কখনোই কেবল ঘটনা কেন্দ্রিক নয়; বরং এটি অঘটনের ওপর ভিত্তি করে নির্মিত, যা অন্তর্ভুক্ত করে সম্ভাবনা, অনিশ্চয়তা এবং ঘটনাহীনতা।
গল্পের একটি রাত রয়েছে, তবে এটি কোনো নাটকীয় মুহূর্তের জন্য নয়। এটি একটি স্থায়ী সময়, যেখানে বিষয়গুলো stagnate হয়ে থাকে, কোনও অগ্রগতি নেই। এই স্থিতিশীলতা নিজেই একটি নৈতিক ও মানসিক চ্যালেঞ্জ সৃষ্টিকারী। রাতটি পাঠককে জানিয়ে দেয়—এখানে কিছু ঘটবে না, এবং সত্যিই কিছু ঘটে না। গল্পের শুরুতেই পাঠককে জানান দেওয়া হয় যে, সুরবালা অতীতের অংশ। এই ঘোষণার পর কোনো রহস্য বা নতুন কোনো আবিষ্কার অবশিষ্ট থাকে না। ফলে গল্পটি একটি post-revelation narrative রূপ ধারণ করে। আধুনিক গল্প এখানে ক্লাসিক গল্পের সাথে ভিন্ন হয়ে যায়—এখানে মূল বিষয়টি আর ‘কি ঘটবে?’ নয় বরং ‘এখন কিছু হওয়ার সম্ভাবনা নেই’ এ নিয়ে।
সুরবালা চরিত্র হিসেবে নয়, বরং একটি স্মৃতির গঠন হিসেবে উপস্থিত হচ্ছে। তার কণ্ঠে কার্যত কোনো বক্তব্য নেই, দাবিও নেই, এবং প্রত্যাখ্যানও দেখা যায় না। তার নীরবতা তার অস্তিত্বের পরিচায়ক নয়; বরং এটি কথকের অভ্যন্তরীণ বাস্তবতার উপর প্রভাব ফেলে। রবীন্দ্রনাথের কৌশল অত্যন্ত সূক্ষ্ম—কারণ আধুনিক গল্পে যদি চরিত্র কথা বলে, তাহলে গল্পের ভার কমে যায়; কিন্তু চরিত্রের নীরবতা গল্পের অভিব্যক্তিকে ভারী করে তোলে। এই ভার চরিত্রের মধ্যে নেই, বরং পাঠকের মানসিক স্থিতিতে স্থান পায়। সুরবালার নীরবতা একটি সংযম হিসেবে দেখা যায় না—এটি ভাষাহীনতার একটি রাজনৈতিক প্রকাশ, একটি নীরব ক্ষমতার সূচনা। যখন কথক লেখে,
আমি বলিলাম, তা থাক্-না, সুরবালা আমার কে,
সে আসলে শুধুমাত্র নিজের অন্তর্দ্বন্দ্বের সঙ্গে কথা বলছে, কোমল কণ্ঠে।
কথকের পরিচয়গুলি—শিক্ষিত, নৈতিক এবং দায়িত্বশীল—তার কাহিনীতে কার্যকরী নয়। আধুনিক কাহিনির একটি প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো সামাজিক পরিচয়ের কার্যকারী ব্যর্থতা। কথক শিক্ষক হিসেবে কাজ করতে পারে না, প্রেমিকার ভূমিকা পালন করতে পারে না এবং নাগরিক হিসাবে কার্যকরী সিদ্ধান্ত নিতে পারে না; সে কেবল স্মৃতিচারণ করতে পারে। এবং এই স্মৃতি মুক্তির অনুভূতি দেয় না, বরং বোঝার মতো। স্মৃতিগুলি রোমান্টিক নয়, বরং নৈতিক বাকি অংশ—একটি না-ঘটা অপরাধের বোঝা। আধুনিক গল্পে অপরাধ সংঘটিত হওয়ার প্রয়োজন হয় না; অপরাধ না-ঘটার দায়টুকুই যথেষ্ট। এই কারণে 'একরাত্রি' কাহিনিটি বিশেষ।
গল্পের ভৌত পরিবেশ, যেমন ঝড়, বৃষ্টি ও প্রবল টর্নেডো, শুধুমাত্র প্রকৃতির চিত্রায়ন নয়; এগুলি একটি নৈতিক শূন্যতার সৃষ্টি করে, যেখানে সমাজ কিছু সময়ের জন্য স্থবির হয়ে পড়ে, নিয়মাবলী বিলীন হয় এবং নজরদারি প্রায় অদৃশ্য হয়ে যায়। ধ্রুপদী সাহিত্য এই পরিস্থিতিতে অপরাধ সংঘটনের সংক্রান্ত বিষয়বস্তুর প্রচলন করে, অপরদিকে আধুনিক সাহিত্য অপরাধ এড়াতে সহায়ক কারণগুলো ব্যাখ্যা করার জন্য এই পরিস্থিতি ব্যবহার করে। গল্পের কেন্দ্রীয় যে বিষয়টি ঘটে, তা হলো—কিছুই ঘটছে না।
এটি কোনো নিছক শুদ্ধতার ফল নয়; বরং একটি স্থবিরতা—নৈতিক ও মানসিক এক paralysis। কথক যখন একাকী ঘরে বসে থাকে, চারপাশে ঝড়ের তাণ্ডব ও প্রলয়ধ্বনি শুনতে পান, ঠিক সেই মুহূর্তে তিনি যে স্মৃতির কথা মনে করেন—
আজ সমস্ত বিশ্বসংসার ছেড়ে সুরবালা আমার কাছে আসছে
—তা কোনো প্রাপ্ত সুখ নয়, বরং এটি একটি অদৃশ্য মানসিক ও নৈতিক সংকট। এই সংকট পাঠকের মনে সহিসংলগ্নতা সৃষ্টি করে; তিনি বুঝতে পারেন যে মানব জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সম্পর্কটি আদৌ হয়ে ওঠেনি, কিন্তু সেই ঘটনার অনুপস্থিতির বোঝা চিরকাল থেকে যায়।
রবীন্দ্রনাথ এখানে উদ্ধৃতিমূলক অলংকারের চাপের কারণে নিরুৎসাহিত হয়েছেন। তার বাক্যগুলো সংযমী এবং পর্যবেক্ষণমূলক, প্রায় একটি রিপোর্টের মতো। যেমন কথক উল্লেখ করেছেন,
কিন্তু একটা কথাও বলা গেল না। কেউ কাউকে একটি কুশলপ্রশ্নও করল না।
এই সরলতায় গভীর অলংকার নিহিত রয়েছে: ভাষার নীরবতা, ক্রিয়ার স্থবিরতা এবং সামাজিক নিয়মের স্থগিত অবস্থার মধ্য দিয়ে গল্পের নৈতিক ও ন্যারেটিভ অলংকার প্রকাশ পায়। এই উপাদানগুলো পাঠকের মনে অসীম রূপক সৃষ্টি করে, যা গল্পটিকে সুরুচিপূর্ণ করে তোলে, যদিও এটি সৌন্দর্যকেন্দ্রিক নয়; বরং বাস্তব এবং নৈতিক ভারের প্রতি একটি সচেতনতা প্রদান করে।
এখানে কথকের মানসিক অবস্থা এবং সুরবালার নীরবতার মধ্যে একটি বিপরীত সঙ্গীতের টান আছে, যা আধুনিক কাহিনির কেন্দ্রীয় শক্তি হয়ে উঠেছে। কথক একদিকে দায়িত্বশীল এবং সচেতন, অথচ অন্যদিকে সে এমন এক নীরব এবং অচল সত্তার সঙ্গে মিল রেখেছে যা অক্ষম। সুরবালার কোন দৃষ্টিভঙ্গি নেই; তার কার্যকরী উপস্থিতি মনেই পড়ে না। এই সমতল চরিত্রটি কথকের গভীর মানসিক দিককে সামনে আনে। ফোস্টারের ভাষায়, একটি জটিল চরিত্র বিশদ অভ্যন্তরীণ জীবন, অব্যক্ত ভাবনা ও নৈতিক সংঘাতের প্রতিনিধিত্ব করে, যখন একটি সমতল চরিত্র সাধারণত একরৈখিক, স্থির এবং প্রায় প্রতীকী। সুরবালা কথকের জটিল অভ্যন্তরীণ জীবনের সংজ্ঞাকে তুলে ধরে, তার সমতল উপস্থিতির মাধ্যমে।
অবশেষে, ‘একরাত্রি’ বাংলা ছোটগল্পের সেই মুহূর্তে পৌঁছায় যখন গল্পটি আর মানবিক হতে চায় না; বরং সত্যতা অনুসন্ধানের দিকে অগ্রসর হয়। সেই সত্যটি হলো: জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কিছু ঘটনা কখনোই ঘটে না, কিন্তু তাদের ছাপ আমাদের ওপর সারাজীবন রয়ে যায়। রবীন্দ্রনাথের এই ছোটগল্প পাঠককে ঘরোয়া অনুভূতির বদলে, এক ধরনের ভারী ভাবনা উপহার দেয়, যা নৈতিকভাবে প্রভাবিত করে। পাঠক যখন গল্পটি শেষ করে, তখন সে বাস্তবতার দিকে ফিরে আসে, কিন্তু গল্পের অন্ধকার রাতের চাপ, কথকের নীরবতার বুনন, এবং সম্ভাবনার অনিশ্চয়তা তার মনের মধ্যে খোদিত থাকে। এইভাবেই ‘একরাত্রি’ তার সর্বোচ্চ নৈতিক ও ন্যারেটিভ গুরুত্ব অর্জন করে।
এখানে কথকের চরিত্রটি বিন্দুমাত্র সিদ্ধান্তহীন নয়, বরং তিনি সিদ্ধান্ত গ্রহণে অক্ষম। এটি একটি সাময়িক মানসিক অবস্থা নয়; বরং একটি তাত্ত্বিক অবস্থান, যা আধুনিক গল্পের অন্তর্নিহিত কাহিনির সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত। কথক স্মরণ করতে পারে, প্রত্যক্ষ করতে পারে এবং অনুভব করতে পারে—কিন্তু কোনো কার্যকরী পদক্ষেপের দিকে অগ্রসর হতে পারে না। যেমন তিনি লিখেছেন,
আমি একলা মানুষ, আমার উপরেই সেই ভার পড়িয়াছিল।
এই অভিজ্ঞতা কোনো ক্রিয়ায় প্রবেশদ্বারের সংকেত দেয় না; বরং তাকে নিরব দর্শক হিসেবেই রক্ষা করে। কথককে শুধু স্মৃতির ভার বহন করতে হয়, এবং এই স্মৃতি কোন রূপান্তর বা মুক্তির সুযোগ সৃষ্টি করে না; বরং একটি নীরব অবস্থায় বন্দী করে।
গল্পের ভাষা এই অনিশ্চয়তার সত্যতাকে স্পষ্টভাবে তুলে ধরে। রবীন্দ্রনাথ এখানে অলংকার ব্যবহার থেকে বিরত রয়েছেন। বাক্যগুলো সাদামাটা ও পর্যবেক্ষণমূলক, যা প্রায় রিপোর্টের মতো মনে হয়। উদাহরণস্বরূপ,
কেবল দুইজনে অন্ধকারের দিকে চাহিয়া রহিলাম। পদতলে গাঢ় কৃষ্ণবর্ণ উন্মত্ত মৃত্যুস্রোত গর্জন করিয়া ছুটিয়া চলিল।
এই বাক্যগুলোতে কোনো রোমান্টিকতা বা অতিরঞ্জিত অলংকারের দেখা মেলেনা; তবুও শব্দ নির্বাচন, ক্রিয়ার বর্ণনা এবং পরিবেশের সূক্ষ্ম সম্পর্ক পাঠকের মধ্যে অস্বাভাবিক সময়ের অনুভূতি তৈরি করে। রাতের স্থিরতা, ঝড়ের তীব্রতা, এবং প্রলয়ের সংকেত—এগুলো কেবল পরিবেশ নয়; এগুলো আমাদের নৈতিক ও মানসিক অবস্থার প্রতিফলনও বটে।
শেষে কথক যা প্রাপ্তি করে, তা কোনো উপলব্ধি বা রূপান্তর নয়। সে আবার তার পূর্বের অবস্থানে ফিরে আসে—শুধু এই অতীত ও বর্তমানের মিলনরেখায় এক নতুন ভার নিয়ে। যেমন তিনি স্মরণ করেন,
আজ সমগ্র বিশ্বসংসার ত্যাগ করে সুরবালা আমার কাছে এসে দাঁড়িয়েছে। আজ আমি ছাড়া সুরবালার আর কেউ নেই।
এখানে কোনো সামাজিক বা প্রেমিক সমাধান নেই; বরং আছে একটি অনন্তকালীন, স্থির উপস্থিতি। এই ভারই গল্পের আসল সাফল্য। আধুনিক ছোটগল্প পাঠকের বোঝা সহজ করে না; বরং তার কাঁধে এক নৈতিক দায়িত্বের ভার দেয়, যা প্রেম, কর্তব্য, শিক্ষা বা সামাজিক আদর্শের কার্যকারিতার বাইরে।
চরিত্রগত দৃষ্টিকোণ থেকে বিশ্লেষণ করলে, সুরবালা একটি প্রান্তিক চরিত্র হিসেবে চিহ্নিত হয়। তার কোনও নিজস্ব ভাবনা, দাবি বা প্রত্যাখ্যান নেই; তিনি কথকের স্মৃতিতে ন্যস্ত হয়ে আছেন। তার বিপরীতে, কথক নিজে একটি জটিল চরিত্র; তার মানসিক গভীরতা, অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব এবং স্মৃতির প্রভাব গল্পের চলমান তালকে নির্দেশ করে। কথক যখন স্মরণ করেন,
মনে হলো, তখন যাহাকে ইচ্ছা করিলেই পাইতে পারিতে এখন মাথা খুঁড়িয়া মরিলেও তাহাকে একবার চক্ষে দেখিবার অধিকারটুকুও পাইবে না,
তখন সম্ভাবনার গভীরতাকে তুলে ধরা হচ্ছে, যা বাস্তবতার সাথে তফাত স্পষ্ট করে। যেমন ফরস্টার বলেছেন,
জটিল চরিত্রে গভীরতা, দ্বন্দ্ব এবং আশ্চর্য করার ক্ষমতা থাকে; আর প্রান্তিক চরিত্রগুলো সঙ্গতিপূর্ণ এবং সরল।
সুতরাং, সুরবালা একটি সঙ্গতিপূর্ণ, সরল চরিত্র, কিন্তু এর বাইরে তার কোনও বিকাশ নেই।
প্রেম এখানে একদিকে এক সম্ভাবনা হিসেবে শক্তিশালী, তবে অন্যদিকে বাস্তবতার ক্ষেত্রে দুর্বল। কথক মনে করেন,
আমি তো তাকে ইচ্ছাকৃতভাবে ছেড়ে দিয়েছি। সে কি চিরকাল আমার জন্য অপেক্ষা করবে?
সম্ভাবনা গুরুত্বপূর্ণ কারণ সেটি বাস্তবের তুলনায় নিয়ন্ত্রণহীন এবং সামাজিক নিয়ম দ্বারা আবদ্ধ নয়। আধুনিক সাহিত্য বাস্তবতার চিত্র তুলে ধরে না, বরং ভবিষ্যতের নীরব অধিকার এবং যেখানে কিছু ঘটে না তার দায় প্রকাশ করে।
গল্পের শেষভাগে দেখা যায়, কথক একরাতের মধ্যে অনন্ত সময়ের অনুভূতি লাভ করে, যদিও কোনো বাস্তব পরিবর্তন ঘটে না। কথক একটি বক্তব্যে লিখেছেন,
তোমার মতো একজন যদি সুরবালার স্বামী হতেন, তাহলে তিনি জীবনের শেষপ্রান্তে সুখে কাটাতে পারতেন, কিন্তু তুমি তো গারিবাল্ডি হয়ে শেষমেশ একটি পাড়াগাঁর স্কুলের সেকেন্ড মাস্টার হয়ে গেলেন।
সুরবালার উপস্থিতি কথককে একটি গোলকধাঁধার মতো অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বে ফেললেও, তার নির্বিকার অবস্থান তাকে কোনো সিদ্ধান্তে উপনীত হতে দেয় না। গল্পে প্রেম, কর্তব্য, শিক্ষা এবং সামাজিক আদর্শ—এসবই কার্যকরী প্রমাণিত হয় না। এই অকার্যকরতার মধ্য দিয়েই আধুনিক ছোটগল্পের এক বিশেষত্ব ফুটে ওঠে।
তাহলে বলা যায়, ‘একরাত্রি’ বাংলা ছোটগল্পের এমন এক স্তরে উপস্থিত হয় যেখানে গল্পটি মানবিক হতে গিয়ে সত্যের দিকে ধাবিত হয়। আর সেই সত্যটি হলো: জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কিছু ঘটনা কখনও সংঘটিত হয় না, কিন্তু তাদের দায় আমাদের ওপর চিরকাল ধরে থাকে। রবীন্দ্রনাথ এই দায়, সেই নীরব ও অচল নৈতিক বোঝা পাঠকের কাঁধে ফেলে দেন—যার ফলে তিনি আধুনিক ছোটগল্পের চরম বাস্তববাদী রূপ ফুটিয়ে তোলেন, যা অধিকতর নিরাসক্ত ও নিখুঁত হয়ে ওঠে।
প্রচ্ছদ: chatgpt

0 মন্তব্যসমূহ
মার্জিত মন্তব্য প্রত্যাশিত। নীতিমালা, স্বীকারোক্তি, ই-মেইল ফর্ম