‎সুকুমার রায়ের 'পাগলা দাশু' পাঠ অভিজ্ঞতা - দীপন কুমার রায়

‎সুকুমার রায়ের 'পাগলা দাশু' বইয়ের প্রচ্ছদ

সুকুমার রায় রচিত শিশুতোষ গল্প পাগলা দাশু। গল্পের শুরুতে যাকে দেখা যায় চটপটে চিংড়ি মাছের মতো ছিটকে ছোটা স্বভাবের মাথার চুল উস্কো খুস্কো পাগলা দাশু। আসল নাম দাশরথি। যাই হোক তাকে কিন্তু ক্লাসের সবাই দাশু বলেই ডাকে। ক্লাসের ভালো ছেলে জগবন্ধুর কাছে একদিন দাশু একটা ইংরেজির মানে জিজ্ঞেস করতে গিয়েছিল জগবন্ধু তাকে সাতপাঁচটা কথা শুনিয়ে দিয়েছিল। ইংরেজির মানেটা বলেনি হতচ্ছাড়া। তাই দাশু সে কটমটে রেগে গেল। ব্যাকরণ ক্লাসের স্যারের প্রিয় ছাত্র জগবন্ধু। স্যার এসে তার বইটাই নিয়ে পড়াতে থাকেন। প্রতিদিনের মতো সবুজ রংয়ের মোড়কের বইটা বের করে দিলো স্যার চোখে চশমা দিয়ে দেখছেন‌ একি একদিনে বই পুরো বদলে গেছে। এবার স্যার রেগে আগুন জগবন্ধুকে বললেল “জ্যাঠামি হচ্ছে” কি সব বই দিয়েছিলো। জগবন্ধুতো ভয়ে কাচুমাচু। এই কাজটিও করেছেন দাশু। সবুজ মোড়কের বইয়ের জায়গায় একই রঙের আর একটি বই রেখে ব্যাকরণ বইটি সরিয়ে নিয়েছিলেন। 

একবার স্কুলে অভিনয়ের সময় দাসুকে কেউ নিতে চাইছিলেন না কারণ, গত বছরে মঞ্চ উঠে সে ভুল ভাল বকেছে। দাশু মঞ্চ অভিনয় করার খুব আগ্রহ। তার ক্লাস ফোরের ছাত্রকে লজেন্স, খাতা ও রং পেন্সিল কিনে দিয়ে ফুটবল কিনে দেয়া আশ্বাস দেন। বদলে সে ঐ ছেলের ভাগের দেবদূত হওয়ার অভিনয় করবে। এবারো হলো মঞ্চের শেষ সময়ে যাওয়ার জন্য তর্কাতর্কি। দাশু শেষে থাকবে অভিনয়ের চরিত্রে। কিন্তু বই অনুযায়ী দেবদূত তার আগে চলে যায়। সেটা কিছুতেই মানছেন না। যদিও কিছুক্ষণ সমঝিয়ে রাখা গেল। শেষে ঠিক গোলমাল করেই ফেলল। কালো পর্দা বন্ধ হলো শো শেষ।

এই বইয়ে দুইটি গল্প পরের গল্প দাদুর কীর্তি একজনকে ডাকাত সেজে দাশুর দল ভয় দেখায়। ভয় পাওয়ার পর ছেলেটার মামাকে খবর দেয় দাশু। ছেলেটির মামা এসে দেখে তার ভাগ্নে ভীতসন্ত্রস্ত। তাকে জিজ্ঞেস করায় সেই ছেলেটি তার মামাকে বলে তাকে ডাকাত আক্রমণ করেছে। ডাকাত দলের একজন বলেছিলেন যে গুলি করে উড়িয়ে দেবো আর কালো রং মাখিয়ে দিয়েছিলো। ছেলেটির মামা ভাবলো ভাগ্নে ডাকাতের বাহানা দিয়ে কাকতাড়ুয়া সাজছে এই ভেবে তাকে উদোম পিটুনি খেলো নবীনচাঁদ। পড়ে ক্লাসে জানতে পারে এর সাথে দাশুও ছিল। প্রতিশোধ নেয়ার জন্য নবীনচাঁদ তাঁর বড় দাদা মোহনচাঁদ কে ডেকে নিয়ে আসলেন। একপর্যায়ে মোহন চাঁদ আর পাগলা দাশুর মধ্যে মারামারি লেগে যায়। ম্যাট্রিক্স ক্লাসের দুইজন ছেলে দাশুর মারামারি সামলে নেয়। দাশুর এরকম কাণ্ড দেখলে মনে হবে সে কি সত্যিই পাগল, না কেবল মিচকেমি করে? 

এই বইটি যেহেতু শিশুতোষ রচনা। এটি  পাঠ করলে শিশুদের বাংলা ভাষা শিখতে আরো নতুন মাত্রা যোগ হবে। সরল মনে সুখপাঠ্য গল্পগুলো অনেক আনন্দ দিবে ও বাংলায় সহজে পড়তে শিখবে। ভাষা জ্ঞান বৃদ্ধি পাবে। আমার এই বইটি ভালো লেগেছে। স্কুল জীবনের সবার কিছু স্মৃতি থাকে সেই স্মৃতিগুলো মনে করিয়ে দেয়। যেগুলো মনে করে টাইম ট্রাভেল পিছনে ফিরে তাকানো যায় মনের চোখে নিজের ছেলেবেলা।

**********
পাগলা দাশু 
‎সুকুমার রায় 


‎‎প্রচ্ছদ ও অলংকরণ: বিশ্বনাথ ধর বিশু‎
‎প্রকাশক: গাজী প্রকাশনী
‎মুদ্রিত মূল্য : ৯৫ টাক 
‎পৃষ্ঠা: ১৬ 

মতামত:_

0 মন্তব্যসমূহ