সাহিত্যের পথরেখা - তৌফিকুল ইসলাম চৌধুরী

সাহিত্যের পথরেখা - তৌফিকুল ইসলাম চৌধুরী বইয়ের প্রচ্ছদ

 

লেখক, গবেষক, সাহিত্যিক, বিশ্ববিদ্যালয় বা কলেজের বাংলা বিষয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী অথবা বাংলা সাহিত্যের সন্ধিৎসু সাধারণ পাঠক - সকল সাহিত্যপ্রেমী পাঠকের জন্য "সাহিত্যের পথরেখা" বইটি  অবশ্যপাঠ্য একটি বই।

প্রখ্যাত বই প্রকাশনা বিশেষজ্ঞ বদিউদ্দিন নাজির 'সাহিত্যের পথরেখা' হাতে পেয়ে মন্তব্য করেন, 

১৯২ পৃষ্ঠার এ বইতে লাইনস ও ইন বিটউইন লাইন্স উক্ত, অনুক্ত ও প্রচছন্নভাবে বহু চিন্তনীয় বিষয় রয়েছে। সিরিয়াস বই পড়ার প্রস্তুতি নিয়েই বইটির পূর্ণাঙ্গ পাঠ ও মূল্যায়ন অতীব প্রাসঙ্গিক। এটি হাল্কা রিডিংয়ের বই নয় মোটেও।

কেন তিনি বইটি সম্পর্কে একথা বললেন আপনিও বইটি সংগ্রহ করে যাচাই করুন। 

এ বইয়ের পিছনের ব্যাক টেক্সট এ বলা হয়েছে,

''সাহিত্যের পথরেখা' নামের এ বইয়ে এমন সব বিষয় উপস্থাপিত হয়েছে, যা ভাব ও চিন্তায় মৌলিক, অনন্য। উৎসাহী, আগ্রহী ও জিজ্ঞাসু পাঠকরা যেমন এসব লেখায় মনের খোরাক পাবেন, তেমনি সৃজন প্রয়াসী সাহিত্যিকদের জন্য  এসব  শীর্ষস্পর্শী দিব্য- চিন্তা  ও ইঙ্গিতবাহী নির্দেশনা নব-সৃজনে অনুঘটকের ভূমিকা পালন করবে।

বইয়ের ১ম ফ্লাপে লেখা আছে,

সাহিত্য হলো শব্দযোগে এমন এক সৃজন প্রক্রিয়া বা নির্মিতি, যা লেখকের চিন্তা- চেতনা, আবেগ- অনুভূতি, সৌন্দর্য ও শিল্পবোধকে ধারণ করে। এটি যুগ, কাল ও প্রজন্মের দীর্ঘ ধারাবাহিক অনুশীলিত সাধনার অমূল্য প্রাপ্তি হয়ে সচল নদীর মতো চিরপ্রবহমান। সাহিত্যের এই দীর্ঘ পথ-পরিক্রমায় সাহিত্য বিষয়ক নানা পথ-মত-ধারণা ও ঘোর লাগা বিষয়-আশয় একে প্রতিনিয়ত সমৃদ্ধ করে চলেছে। তবে সাহিত্যের এ পথ বড়ই বিস্তৃত ও প্রান্ত-খোলা। এ পথ সহজসাধ্যও নয়। লেখক তা জেনেও এ বই রচনায় হাত দিয়েছেন। এ বইয়ে সাহিত্যের কাঠামোকে ধরতে চেয়েছেন। সাহিত্যের বিস্তৃর্ণ প্রান্তর থেকে এর 'পথরেখা'কে চিহ্নিত করতে চেয়েছেন। শুধু তা-ই নয়, এতে সাহিত্যের ধারক- বাহক সাহিত্যিকদের জন্য সাহিত্যচর্চার নানা পথও বাতলিয়ে দিয়েছেন। এ বইয়ের বয়ন শৈলী চোখে পড়ার মতো।

বইটি সম্পর্কে এক পরিচিতমূলক উপস্থাপনায় সাহিত্যের সন্তপুরুষ, বাংলা একাডেমি পুরস্কার প্রাপ্ত লেখক- অনুবাদক আলম খোরশেদ বলেন, 

লেখালেখি স্রেফ কোন একটা  বায়বীয় বিষয় নয়, এর জন্য গভীর অভিনিবেশ, অনুধ্যান, পাঠ এবং  চর্চা-অধ্যবসায় প্রয়োজন । তৌফিকুল ইসলাম চৌধুরী সেগুলো নিজের জীবনে প্রয়োগ করেছেন। ফলতঃ তিনি এ ধরনের গ্রন্হ রচনা করতে পেরেছেন, এ ধরনের গ্রন্হের কথা ভাবতে পেরেছেন এবং পুরো বিচিত্র বিষয়ে তার যে পারঙ্গমতা, সেটির বহিঃপ্রকাশ দেখিয়েছেন। সব মিলিয়ে মননশীল গদ্য রচনা, প্রবন্ধ, কবিতা  বা ভাবনা -চিন্তার বিকাশ ঘটাতে চাইলে এই বইটি একটি উল্লেখযোগ্য কাজ, দিক নির্দেশনা ও অনুপ্রেরণা হিসেবে সহযোগী হবে।

বিশিষ্ট পুস্তক সমালোচক, কথাশিল্পী ইলিয়াস বাবর বইটি সম্পর্কে তার সম্প্রতি প্রকাশিত নন্দিত লিটল ম্যাগাজিন 'এবং বই' এর এক পাঠ পর্যালোচনায় লিখেন, 

জনাব চৌধুরীর গ্রন্থভুক্ত প্রবন্ধগুলো ব্যক্তির চর্চার কেন্দ্র নিয়ে নয় বরং চর্চিত বিপুল বিষয়াশয়ের মধ্য থেকে কিছু ইউনিক বিষয় নিয়ে। বিষয়টা এমন, ব্যক্তির জন্ম-ঠিকুজি দিয়ে প্রবন্ধ করার টাইম উজিয়ে চৌধুরী এমন এক জায়গায় তার প্রবন্ধকে নিয়ে গেছেন যেখানে ব্যক্তির চেয়ে বিষয় বড়। উদ্বৃতির ঘনঘটা নয়, নয় বালখিল্যতা; প্রবন্ধগুলো জুড়ে আছে বিষয়ের প্রান্ত ধরে মৌলের দিকে যাবার এক অভ্রান্ত নিশানা। এসব গদ্যে ভাষার সরসতা ও চলিঞ্চু সহজতার যৌথ মিশেলে পাঠক উপভোগ করে চমৎকার এক আনন্দযাত্রা। দেশি- বিদেশী সৃষ্টির উদাহরণ আর গ্রন্থকারের নিজস্ব মতামতে প্রবন্ধগুলো হয়ে উঠেছে সরস পাঠযোগ্য। একাডেমিয়ান লোকজন যেখানে উদ্বৃতিভারে চ্যাপ্টা করে তোলে প্রবন্ধের শরীর, সেখানে চৌধুরী নিজ বক্তব্যে স্থির। তার কোনো কোনো প্রবন্ধ একেবারেই উদ্বৃতিহীন, যেনবা নিজগুণে প্রস্ফুটিত। মননশীলতার ভাজে তিনি আলগোছে লুকিয়ে রাখেন সৃজনশীলতার চিহ্ন। ফলে কোথাও কোথাও প্রবন্ধের লাইনও এত মনোলোভা আর হৃদয়গ্রাহী হয় যে, তা ভাবিকালে কেনো বর্তমানেই চিহ্নিত হবার মান্যতা নিয়ে রেখেছে পাঠকের হৃদয়ে। একেডিমানেরা রাগ করবেন হয়তো, কিন্তু চৌধুরী নন-একাডেমিয়ান হয়েও প্রবন্ধে যে মুন্সিয়ানা দেখান,  তা ভবিষ্যতে প্রবন্ধসাহিত্যের উল্লেখযোগ্য একটা ধারা হবে বলেই আমাদের বিশ্বাস।


★★★★★★★★★★

সাহিত্যের পথরেখা
তৌফিকুল ইসলাম চৌধুরী 

প্রচ্ছদশিল্পী- তাপস সরকার 

প্রকাশক- পাঞ্জেরী পাবলিকেশন্স লি, ঢাকা।
প্রকাশকাল- ফেব্রুয়ারি ২০২৫ 
পৃষ্ঠা সংখ্যা - ১৯২
মূল্য- ৫৫০ টাকা 
ISBN- 978-984-99439-4-5

মতামত:_

0 মন্তব্যসমূহ