দুঃস্বপ্নের চিরস্থায়ী বাগানের খন্ডচিত্র -আহমেদ মওদুদ

দুঃস্বপ্নের চিরস্থায়ী বাগানের খন্ডচিত্র -আহমেদ মওদুদ

সরলকথন
মোকলেছুর রহমান

পতন হতে ফিরে আহমেদ মওদুদ ঘোষণা করলেন,
যদি কেউ আমায় বলো, কুকুরের মতো শরীর তোমার, অপবিত্র। আমি  বলবো, আমার মনটাও কুকুরের মতোই। বিশ্বস্ত আর পবিত্র। (প্রতিকৃতি। পৃষ্ঠা ০৭)

বিশ্বস্ততা আর পবিত্রতার কবি আহমেদ মওদুদের কবিতা বই ‘দুঃস্বপ্নের চিরস্থায়ী বাগানের খন্ডচিত্র’র কবিতাগুলো মূলত কবির সরল বয়ান। প্রায় প্রতিটি কবিতাই অত্যন্ত সহজ ভাষায় লেখা, যাকে আমরা মুখের ভাষা বলি; অর্থাৎ যে ভাষায় আপনি-আমি কথা বলি- ঠিক সেই ভাষা। আর সেই ভাষাতেই তিনি পাঠকের সাথে সম্পর্ক স্থাপন করেন। আমার তা-ই মনে হয়েছে।

পথে-ঘাটে অনেকের সাথে দেখা হলেও কথা হয় অল্প ক’জনের সাথেই। বাকিরা মৃত আমার কাছে। আমি তাদের খুন করেছি অনেক আগেই। চাপাতি কিংবা বল্লম দিয়ে নয়, মনে মনে। ভুলে গেছি তাদের। কাউকে খুন করতে চাইলে তাকে ভুলে যাওয়াই যথেষ্ট।
(হন্তারক মন আমার। পৃষ্ঠা ১৫)

তার কবিতাগুলোতে বার্তা আছে, যা হয়ত তাকেই ভাবায়। আর তা-ই তিনি পাঠকের সাথে ভাগ করতে চেয়েছেন কবিতায়- খ-চিত্রে...

মূর্খরা স্কুলে ভর্তি হয় জ্ঞানীরা স্কুল থেকে পালিয়ে যায়। আমরা পালাতে গিয়ে বন্দী হলাম। আমাদের শাস্তি হলো শিক্ষকতা। সরকারি কায়দায় পড়ালেখা শেখাই আর মূর্খদের সনদ প্রদান করি। মূর্খদের পাস করতে দেখে সরকারতো খুশি হয়ে গেল। আমাদের চাকুরি গেল অখুশিতে। এরপর আমরা মাছ চাষে মনযোগি হই এবং মাছরাঙাদের শিকার জ্ঞানে মুগ্ধ হয়ে ভাবি, এরা নিশ্চয় স্কুল পালানো পাখি।
(স্কুল পালানো পাখি। পৃষ্ঠা ১৪)

প্রকাশ: মার্চ ২০১২। প্রকাশক: বাঙ্ময়। প্রচ্ছদ: সাম্য রাইয়ান। পরিবেশক: উলুখড়, প্রমিতি। বিনিময়: ২০ টাকা (নির্ধারিত)

কোন মন্তব্য নেই

মন্তব্য করার পূর্বে মন্তব্যর নীতিমালা পাঠ আবশ্যক। বিস্তারিতভাবে কিছু জানাতে চাইলে এখানে ক্লিক করে ই-মেইল করুন।