আনন্দের মৃত্যু - সৈয়দ শামসুল হক, আলোচক: জয়নাল আবেদীন

আনন্দের মৃত্যু - সৈয়দ শামসুল হক


সৈয়দ শামসুল হকের জন্ম কুড়িগ্রামে হলেও তা আমি আবিস্কার করতে পেরেছি অনেক পরে। তার লেখা খেলারাম খেলে যা,বাস্তবতার দাঁত ও করাত,নুরলদীনের সারাজীবন, পাঠ করলেও খুব একটা ধাতস্থ করতে পারিনি। এরপর "নিষিদ্ধ লোবান" দুই দিনে শেষ করে পুরোপুরি চোখ আটকে যায় তার লেখায়। সব্যসাচি এই লেখক তার জীবন দশায় ১৯১১২ পৃষ্ঠা লিখেছিলেন বলে জানতে পারি ঐতিহ্য প্রকাশিত সৈয়দ শামসুল হক রচনাবলি থেকে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পরে বাংলা সাহিত্যে এই সুবিশাল অবদান একজন পাঠকের কাছে স্লান হয় কি করে। 

তাইতো কয়েক দিন আগে হাতে নিলাম তার লেখা "আনন্দের মৃত্যু" বইটি ১৯৬৬ সালে স্টুডেন্ট ওয়েজ প্রকাশনী হতে প্রকাশিত হলেও আমার হাতে ২০২৩ এর দ্বিতীয় মুদ্রণ এটি। বইটিতে মোট ১১টি গল্পে আমাদের জীবনের এমন কিছু অংশ নিয়ে কথা বলেছেন যা আমরা প্রায়শই উপেক্ষা করি। আনন্দের মৃত্যু নামটি রূপক অর্থে হলেও প্রত্যেকটি গল্পে আনন্দ বা সদিচ্ছাগুলোকে গলাটিপে হত্যার ইঙ্গিত পাওয়া যায়। তথাকথিত কবি,সাহিত্যিক ও সাংবাদিকরা যখন স্রোতে গা ভাসিয়ে চলেন তখন "কবি" গল্পে কবি আব্দুর রব মুনশি'র দেশপ্রেম আর প্রতিবাদের কন্ঠ আমাদের শরীরে আগুন ধরিয়ে দেয়,

যে ব্যাডা মানুষ না, যার হাত দিয়ে গরিবের একডা কাম হয় নাই, যার প্যাডে এক মুখে আরেক কথা, আমি গান রচনা করুম তারে নিয়ে? আপনি কন কি খাঁ সাব!


"নাম" গল্পে বন্ধু হুরমতের উপর আশরাফের ভালোবাসা, আনুগত্য বা ন্যস্ত যাই বলি না কেন এটাকে অন্ধত্ব হিসাবেই লেখক ফুটিয়ে তুলতে চেয়েছেন বলে আমার মনে হয়। লেখকের কথায় তা স্পষ্ট। 

আগে কত কিছু নিয়ে তর্ক করতো হুরমতের সঙ্গে, এখন দেখে হুরমতের মতামত গুলো কত যুক্তিসিদ্ধ। সে তার সব কথাতেই এখন মাথা নেড়ে সায় দেয়।


আমরা যখন সাময়িক কোন কিছু না পাওয়াকে ব্যর্থতার চূড়ান্ত পর্যায়ে দেখছি তখন লেখক "বন্ধুর সঙ্গে সন্ধ্যা ও শেষ বাস" গল্পে আশার হাতছানি দিচ্ছে তাকে ছেড়ে আসা বাসটি বিকল হয়ে পড়ে আছে রাস্তায়। যে বিড়ম্বিত হবার কথা জামাল কিছুক্ষণের মধ্যে সে নেতৃত্ব দিতে লাগলো এই বিড়ম্বিত দলটিকে।

"পরাজয়ের পর" গল্পেও না বুঝে পক্ষ নেওয়ার যে অনুশোচনা তা আস্তাকুঁড়ে খায় আমাদের আনন্দকে।

কালা মাঝির চরণদার, ঘরে ফেরা,যদি জানতে চান ও শিকার গল্প গুলোর মধ্যে ও লেখকের স্বীকারোক্তি প্রকাশ পায় জীবনের অনেক আনন্দময় মহুর্ত কিছু বুঝে ওঠার আগেই আড়াল হয়ে যায় বিবিধ জটিলতায়। লেখকের শব্দচয়ন ক্ষমতা, গল্প বলার ভঙ্গি ও প্রকাশের নিপুণতা নিয়ে বলার অবকাশ নেই। পাঠক হিসাবে বইটি নিয়ে সাধারণ ভাবে কথা বলার চেষ্টা করলাম মাত্র। আপনিও আপনার পাঠ তালিকায় "আনন্দের মৃত্যু" বইটিকে যুক্ত করে এ সম্পর্কে সম্যক ধারণা নিতে পারেন।

মতামত:_

0 মন্তব্যসমূহ