হুমায়ূন আহমেদ- এর উপন্যাস “শঙ্খনীল কারাগার” যেন সমাজের এক বাস্তব চিত্র - তাসনীম রিনি

তাসনীম রিনি

হুমায়ূন আহমেদে’র প্রথম উপন্যাস “শঙ্খনীল কারাগার” যেন সমাজের এক বাস্তব চিত্র - তাসনীম রিনি


নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারের জীবন উপজীব্য খুব সাদামাটা কাহিনী তবে যেন প্রতিদিনকার রুটিন মাফিক চিত্র চোখের সামনে ভাসমান। বাবার বাড়ি থেকে চলে আসার পর আর তেমন কোন যোগাযোগ হয় নি খোকার মায়ের ২৩ বছরে। চার পয়সার দূরত্বে হাতের নাগালে থেকেও যেন অনেকটা দূরের ছিল সে সম্পর্ক। একদিন যেমন কোন শিকড়ের টান ছাড়া বাড়ি ছেড়ে চলে এসেছিল নিনুর জন্মের মধ্য দিয়ে সব টান আকারহীন করে সেখানেই নিশ্চিতে ঘুমিয়ে গেছে।

মেয়েদের গায়ের রং যতটা কালো হলে মায়েরা মেয়েদের শ্যামলা বলে তার থেকেও কালো ছিল রাবেয়া। তবে খুব লক্ষ্মীমন্ত মেয়ে, বাবার সংসারের হাল ধরতে গিয়ে নিজের কোন সংসার গড়া হয়নি। নিনুকে মানুষ করতে করতে মাতৃত্বের স্বাদ নিয়েছে। রুনু, ঝুনু, বাবা আর খোকার সংসারে যেন চাঁদের হাট ছিল।
উত্তম পুরুষে বর্ণিত খোকার জীবনে হাজার সুখ অনেকটা অপ্রাপ্তি আবার এক চিলতে ভালবাসা ছিল খালাত বোন কিটকী। ছোট বেলার খুনসুটি থেকেই যেন মনের এককোনে ভালবাসার খুপরি ঘর বেঁধেছিল। মেয়েটাও হয়ত ভালবাসত খোকাকে তবে তা কেবল বড় ভাইয়ের স্থানেই তার অবস্থান।

রুনু, ঝুনু যেন এক বিন্তের দুটো ফুল। একজনের হাসি কান্না যেন অন্যজনের চোখে মুখে মিশে একাকার। রুনুর প্রেমিক পুরুষের সাথে দেখা যায় ঝুনুর একসময় বিয়ে হয়ে যায়। কি এক অচেনা রোগে রুনুটাও সকলের মায়া ত্যাগ করে মায়ের পথে পাড়ি জমায়।

দিতে পার একশ ফানুস এনে?
আজন্ম সলজ্জ সাধ একদিন আকাশে কিছু ফানুস উড়াই।

মন্টুর লেখা এ দু'চরণেই যেন পুরো উপন্যাসের কাহিনীটাই প্রকাশ পায়। প্রথম প্রথম নিজের লেখা নিয়ে লজ্জা সংকোচ থাকলেও বেশ কয়টি কবিতার বই বের হয় পুরস্কারও অাসে।

এতকিছুর পরেও কোথায় যেন একটা সূক্ষ্ম শূন্যতা ছিল। মায়ের বিয়ের ঘোর লাগা কাহিনীটা বরাবরই অস্পষ্ট ছিল। যা সুদীর্ঘ এক চিঠিতে খোলসা করে বড় বোন রাবেয়া, রাবেয়ার জন্ম পরিচয়ও সেই গোপনীয়তার একটা অংশ।

প্রাঞ্জল কাহিনী অার অকপট বর্ণনাভঙ্গির মাত্র ৮৫ পৃষ্ঠার শঙ্খনীল কারাগার যেন সমাজের এক বাস্তব চিত্র।

====================
শঙ্খনীল কারাগার
হুমায়ূন আহমেদ

প্রকাশক: অন্য প্রকাশ
প্রকাশ কাল: বইমেলা ২০০৯
পৃষ্ঠা: ৮৫
প্রচ্ছদ: কাইয়ুম চৌধুরী
মুদ্রিত মূল্য: ২০০৳

প্রচ্ছদ কৃতজ্ঞতা: উইকিপিডিয়া

কোন মন্তব্য নেই

মন্তব্য করার পূর্বে মন্তব্যর নীতিমালা সম্পাদকের স্বীকারোক্তি পাঠ আবশ্যক। ইচ্ছে হলে ই-মেইল করুন।