‘মুহম্মদ জাফর ইকবাল’ রচিত “আমি তপু” উপন্যাস পাঠকের হৃদয়ে আলোড়নের সৃষ্টি করে

‘মুহম্মদ জাফর ইকবাল’ রচিত “আমি তপু” উপন্যাস পাঠকের হৃদয়ে আলোড়নের সৃষ্টি করে

ইশরাত জাহান
লেখক পরিচিতিঃ
মুহম্মদ জাফর ইকবাল
জন্মঃ ১৯৫২ সালের ২৩শে ডিসেম্বর সিলেটে জন্মগ্রহণ করেন। পিতা মুক্তিযুদ্ধে শহীদ ফয়জুর রহমান আহমদ এবং মাতা আয়েশা আখতার খাতুন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থ বিজ্ঞানের ছাত্র, পিএইচডি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অফ ওয়াশিংটন থেকে। ক্যালিফোর্নিয়া ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি এবং বেল কমিউনিকেশন্স রিসার্চে বিজ্ঞানী হিসাবে কাজ করে সুদীর্ঘ আঠার বছর পর দেশে ফিরে এসে বিভাগীয় প্রধান হিসেবে যোগ দিয়েছেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইলেকট্রনিক্স ও কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগে। তার স্ত্রী ড. ইয়াসমীন হক, পুত্র নাবিল এবং কন্যা ইয়েশিম। মুহম্মদ জাফর ইকবাল ২০০৪ সালে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার লাভ করেন।

বই সম্পর্কিত কিছু তথ্যঃ
“আমি তপু” বইটি মুহম্মদ জাফর ইকবাল রচিত একটি কিশোর উপন্যাস। বইটি পার্ল পাবলিকেশন্স, ৩৮/২ বাংলাবাজার, ঢাকা ১১০০ থেকে হাসান জায়েদী কর্তৃক প্রকাশিত। ২০০৫ সালের একুশে বইমেলাতে বইটি প্রথম প্রকাশিত হয়। বইটির মূল্যঃ ১৫০.০০ টাকা মাত্র।

বইটির গুরুত্বপূর্ণ কিছু চরিত্রঃ
আরিফুল ইসলাম তপুঃ
‘আমি তপু' উপন্যাসের প্রধান চরিত্র তপু। তপু অষ্টম শ্রেণীর একটি ছোট বালক। পিতা একসিডেন্টে মারা গেলে তার মা অসুস্থতার কারণে তপুর সাথে অনেক দুর্ব্যবহার করে। কোন এক সময় তপু সম্পূর্ণ একা হয়ে যায়। 'আমি তপু' মূলত এক মেধাবী বালক তপুকেই কেন্দ্র করে রচিত। বইটিতে তপুর কষ্টময় জীবনের ইতিহাস ফুটে উঠেছে।

তপুর মাঃ
তপুর মা 'আমি তপু' উপন্যাসের মূখ্য চরিত্র। তিনি অসুস্থতার কারণে তপুর সাথে অনেক নিষ্ঠুর ব্যবহার করেন। তপুর মায়ের তপুর প্রতি নিষ্ঠুর ব্যবহার 'আমি তপু' উপন্যস তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

প্রিয়াঙ্কাঃ
প্রিয়াঙ্কা 'আমি তপু' উপন্যাসের একটি অন্যতম মূখ্য চরিত্র। প্রিয়াঙ্কা একটি দুরন্ত, ছটফটে মেয়ে। তপুর নিঃসঙ্গ জীবনে প্রিয়াঙ্কা বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে দেয়। তপুকে নতুন জীবনে আহ্বান করে তার জীবনটা পাল্টে দেয় প্রিয়াঙ্কা। তপুকে অন্ধকার জীবন থেকে বের করে আলোর দিকে নিয়ে যায় প্রিয়াঙ্কার বন্ধুত্ব এবং ভালোবাসা।

দুলি খালাঃ
দুলি খালা তপুর অন্ধকার জীবনের এক অন্যতম সঙ্গী। সে সবসময় তপুর পাশে থেকে তপুকে সাহায্য করে 'আমি তপু' উপন্যাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র হিসেবে স্থান করে নিয়েছে।

উপন্যাসের মূলভাবঃ
‘আমি তপু' উপন্যাসটি তপু নামের একটি ছেলের জীবনের কষ্টের ইতিহাস দিয়ে তৈরি। বাবা একসিডেন্টে মারা যাওয়ার পর তপুর জীবনটা হঠাৎ করে পাল্টে যায়। তার আপনজনেরা, মা, ভাই, বোন দূরে সরে যেতে থাকে। একসময় তপু আবিষ্কার করে সে একা। একেবারে একা।

নিঃসঙ্গ এ কিশোরের দুঃসহ জীবনে হাত বাড়িয়ে দিল প্রিয়াঙ্কা। অন্ধকার জীবন থেকে তপুকে সরিয়ে নিয়ে এসে পুরোপুরি নতুন এক জীবনের সাথে পরিচয় করিয়ে দিল সে। মেধাবী একটি ছাত্র যে পড়ালেখা থেকে অনেক দূরে চলে গিয়েছিল, তাকে আবার নতুন উৎসাহে ফিরিয়ে নিয়ে আসে প্রিয়াঙ্কা। ধীরে ধীরে তপুর জীবনটা অনেকটা বদলে যায়। নিঃসঙ্গ জীবনে অনেক সঙ্গী খুঁজে পায় তপু। বড় হয়ে অনেক বড় ম্যাথমেটিশিয়ান হওয়ার স্বপ্ন দেখে সে।

অনেক দুঃখ কষ্ট সহ্য করার পর নতুন আলোর দিকে ছুটতে থাকে তপু।

মূলত 'আমি তপু' উপন্যাসটি নিঃসঙ্গ এক কিশোরের বেঁচে থাকার ইতিহাস। নিষ্ঠুরতার ইতিহাস এবং ভালোবাসার ইতিহাস।

উপন্যাসের সমালোচনাঃ
‘আমি তপু' উপন্যাসটি এক কিশোরের বেঁচে থাকার ইতিহাস। যা পাঠকদের হৃদয় স্পর্শ করে যায়। এই উপন্যাসটি পাঠকের হৃদয়ে আলোড়নের সৃষ্টি করে।

====================

আমি তপু
মুহম্মদ জাফর ইকবাল

প্রচ্ছদঃ ধ্রুব এষ
প্রকাশকঃ পার্ল পাবলিকেশন্স, ঢাকা
প্রকাশকালঃ ২০১৬
পৃষ্ঠাঃ ১২৪
মূল্যঃ ১৫০ টাকা
ISBN: 984-495-139-9

কোন মন্তব্য নেই

মন্তব্য করার পূর্বে মন্তব্যর নীতিমালা পাঠ আবশ্যক। বিস্তারিত কিছু জানাতে চাইলে এখানে ক্লিক করে ই-মেইল করুন।