সুশান্ত ওঝা লিখলেন ‘স্যাম চাচাকে লেখা মান্টোর চিঠি' বইয়ের সংক্ষিপ্ত পাঠপ্রতিক্রিয়া

সুশান্ত ওঝা লিখলেন ‘স্যাম চাচাকে লেখা মান্টোর চিঠি' বইয়ের সংক্ষিপ্ত পাঠপ্রতিক্রিয়া

গ্রন্থগত ওয়েবসাইটে আমরা এর আগে সালেহ ফুয়াদ অনুদিত সাদত হাসান মান্টো'র লেখা "স্যাম চাচাকে লেখা মান্টোর চিঠি" বইয়ের পরিচিতি প্রকাশ করেছি। আজ প্রকাশ করছি সুশান্ত ওঝার লেখা সংক্ষিপ্ত পাঠপ্রতিক্রিয়া।

অন্যান্য উর্দু সাহিত্যিকের মত সাদত হাসান মান্টোও বাঙালি পাঠকের কাছে খুব একটা পরিচিত নাম নয়। নিঃসন্দেহে মান্টো দক্ষিণ এশিয়ার শ্রেষ্ঠ লেখকদের একজন। তবুও কেন এতটা "অপাঠ্য" (পাঠ করা হয়নি অর্থে) রয়ে গেলেন সেটা একটু খটকার বিষয়। মান্টো ভারতের আবার পাকিস্তানেরও। দেশভাগের দগদগে ঘা নিয়ে নিজের জন্মভূমি ভারত ছেড়ে যেতে হয় পাকিস্তানে। ভারতের মান্টো হয়ে যান পাকিস্তানের মান্টো। নিজেকে 'চলতা ফিরতা বোম্বাই' দাবি করা মান্টো তার প্রিয় বোম্বাই ছেড়ে বাধ্য হন পাকিস্তানে যেতে। পিছনে রেখে যান বাবা-মা আর একমাত্র পুত্রের কবর। দেশভাগের আগুনে দগ্ধ হয়েছেন যতদিন বেঁচে ছিলেন। যেমনটা দগ্ধ হয়েছেন আমাদের ঋত্বিক ঘটক।

"স্যাম চাচাকে লেখা মান্টোর চিঠি" মান্টোর কয়েকটি চিঠির সংকলন। লেখা হয়েছে তার "স্যাম চাচা" বা Uncle Sam কে উদ্দেশ্য করে। এই 'স্যাম' শুধু মান্টোর চাচা নয় বরং আপনার আমার সবার চাচা তথা সারা বিশ্বের উপর ছড়ি ঘোরানো মুরব্বি "আমেরিকা"! তীব্র স্যাটায়ারের কষাঘাতে জর্জরিত চিঠিগুলো একবার পড়া শুরু করলে শেষ না করে ওঠাটা আপনার জন্য মুশকিল হয়ে যাবে। যেমনটা আমি শেষ না করে উঠতে পারিনি।

ভারত ও পাকিস্তানের উপর আমেরিকার প্রভাব, দুই দেশের মধ্যে দ্বন্দ্ব ও সংঘাত কিভাবে উস্কে দিয়েছে, কিভাবে পাকিস্তানকে তার ভাঁড়ে পরিণত করেছে তা এই চিঠিগুলোতে তুলে ধরেছেন স্যাটায়ারের মধ্য দিয়ে। চিঠিতে উঠে এসেছে সমকালীন পাকিস্তানের রাজনীতি, অনেক রাজনীতিবিদদের চরিত্র। পাকিস্তানের উচ্চবিত্তের চরিত্র, তাদের জীবন। নিম্নবিত্তের জীবন, তাদের হাহাকার আর দারিদ্রতার প্রতিচ্ছবি। আর সবকিছুই এসেছে স্যাটায়ারের মধ্য দিয়ে।তার নিজের জীবনের গল্পও অনেকটা উঠে এসেছে চিঠিগুলোতে। আছে ক্ষোভ, আর্তনাদ আর দেশভাগের আগুনে দগ্ধ এক লেখকের আর্তচিৎকার। আছে স্যাটায়ারের মধ্য দিয়ে আমেরিকান রাষ্ট্রযন্ত্রের গালে সজোরে চপেটাঘাত। কমিউনিস্টদের সাথে তার যোগাযোগের বিষয়টিও তুলে ধরেছেন সেই স্যাটায়ারের মধ্য দিয়েই।

বইটা অনুবাদ করেছেন আমার বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুজ অনুবাদক সালেহ ফুয়াদ। সম্ভবত এটি তার তৃতীয় অনুবাদ গ্রন্থ। সেই হিসেবে এখনও নবীনই বলা যায় তাকে। অথচ পড়ার সময় তা মোটেও বোঝার উপায় নেই। কৃতিত্ব দেখিয়েছেন নিঃসন্দেহে। সরল ও সাবলীলভাবেই অনুবাদ করেছেন। রস ও স্যাটায়ারবোধের কমতি হয়নি এতটুকুও। অনুবাদক হিসেবে সে যে নাম করবে তা নিঃসন্দেহে বলা যায়।

আগ্রহী পাঠকরা বইটি কিনে পড়ে দেখতে পারেন। হতাশ হলে টাকা ফেরতের গ্যারান্টি আমি দিচ্ছি!

২টি মন্তব্য:

মন্তব্য করার পূর্বে মন্তব্যর নীতিমালা সম্পাদকের স্বীকারোক্তি পাঠ আবশ্যক। ইচ্ছে করলে ই-মেইল করতে পারেন।