লিটল ম্যাগাজিন ক্রৌঞ্চদ্বীপ পত্রিকার 'অনন্য রায়' সংখ্যার সম্পাদকীয় প্রকাশ করা হল।
সম্পাদকীয়
'লাথিতে লাথিতে ভাঙি পৃথিবীর শান্ত দৃশ্যাবলী'
অনন্য রায়
বাংলা কবিতার এক জ্বলন্ত ওক্সিমোরন। তাঁর বইয়ের সংখ্যা ছয়, আমাদের রিপু ও ঋতুর সংখ্যায়ও তো ছয়। ষড়রিপুর কারাগারে বন্দী অনন্য-র গরাদ ধরে এক ভয়ানক চিৎকার। যার চূড়ান্ত ফলশ্রুতি 'আলোর অপেরা'। অনন্য জীবনযাপন নয়, বলতেন মৃত্যুযাপন। 'ধরিত্রী এক ঘুমন্ত চুল্লি, আমরা যার স্বপ্নের সংক্ষিপ্ত শিখা'। সেই শিখার ভয়াবহ লেলিহান কীভাবে পাঠককে সংক্রমিত করতে পারে তা দেখিয়ে দিয়ে গিয়েছেন অনন্য। তাই তো বই পাওয়া যাচ্ছে না বলে তরুণ প্রজন্মের পাঠকের অনন্যকে ঘিরে এক চূড়ান্ত উন্মাদনা বজায় রয়েছে আজও। অনন্য নিজেই এক আন্দোলন, ঠিক যেমন জীবনানন্দ। আমাদের তো মনে হয় অনন্য-র কবিতার যে মহাকাব্যিক বিস্তার তার থেকেই অনুপ্রাণিত হয়ে জহর সেনমজুমদার 'মহাজগৎকথা', 'বৃষ্টি ও আগুনের মিউজিকরুম' ও 'বিপজ্জনক ব্রহ্ম বালিকাবিদ্যালয়' এই ট্রিলজি লেখার দুঃসাহস দেখিয়েছেন। শুধু ভাঙা নয়, ভাষাকে ভেঙে দুমড়ে মুচড়ে নিজের মতো করে তৈরি করে নিয়েছিলেন। কে না জানে কমলকুমারের সেই বিখ্যাত উক্তি--ভাষাকে যে আক্রমণ করে সেই বাঁচায়। আসলে চোখ বন্ধ করে খোল, করতাল সহযোগে এরা 'ষড়রিপু খুউব ভালো, ষড়ঋতু খুউব ভালো' বলতে পারেননি যে। তাই প্রাতিষ্ঠানের সর্বপ্রধান অস্ত্র সেই 'নীরবতা'র স্বীকার এই জাতের কবিরা।
হ্যাঁ, জহর সেনমজুমদার সংখ্যার পর অনিবার্যভাবেই তাই আমরা অনন্য রায় সংখ্যা প্রকাশ করছি। হ্যাঁ, পরপর বিশেষ সংখ্যা। সাধারণ সংখ্যার প্রতি পাঠকের আগ্ৰহ নিংশেষিতপ্রায়। আর আমরা জানি খালি পেটে বিপ্লব হয় না। তাই বাধ্যত আবার বিশেষ সংখ্যা। তবে বিশেষ সংখ্যার মধ্য দিয়েও লিটল ম্যাগাজিনের মেজাজকেই আমরা বজায় রাখতে চেয়েছি। এই সংখ্যার হয়ে ওঠার জন্য অনন্য রায় রচনাসমগ্র ও 'সান্ধ্যভাষা'-র অনন্য রায় সংখ্যার মূল কপি নিঃশর্তে দিয়েছিলেন যথাক্রমে সব্যসাচী সেন ও গৌতম মিত্র। একজন কবির কবিতাই মূলত পড়তে চায় পাঠক। অথচ বাজারে কোনো বই পাওয়া যাচ্ছে না। অথচ শোনা যায় পাঠক মরিয়া হয়ে খুঁজছে। তাই নির্বাচিত কবিতার একটি বিভাগ শুরুতেই রেখেছি আমরা। কবিতা নির্বাচন করেছেন প্রজিত জানা। এঁদের সার্বিক সাহায্য ছাড়া এই অসম্ভবপ্রায় কাজ তাও মাত্র এক বছরেরও কম সময়ের মধ্যে সম্ভব হত কিনা সন্দেহ। যাইহোক, আশা করা যায় আমাদের পূর্ববর্তী সংখ্যার মতো এই সংখ্যাও সচেতন পাঠকের কাছে আদৃত হবে। সবাইকে নমস্কার। এই অকালে ভালোভাবে বেঁচে থাকাটাই সবচেয়ে বড়ো প্রতিস্পর্ধা। সুস্থ থাকুন সকলে, ভালো থাকুন, এই কামনা।
স্নেহাশিস রায়
২.১.২০২৩
**********
ক্রৌঞ্চদ্বীপ পত্রিকা
প্রকাশকাল: জানুয়ারি ২০২৩
প্রকাশক: ক্রৌঞ্চদ্বীপ, ভারত

0 মন্তব্যসমূহ
মার্জিত মন্তব্য প্রত্যাশিত। নীতিমালা, স্বীকারোক্তি, ই-মেইল ফর্ম