নতুন

[getBreaking results="10" label="recent"]

বাংলাদেশের ৬৫০ প্রকারের পাখি বিষয়ক বই ‘এশিয়াটিক সোসাইটি অফ বাংলাদেশ’ এর ENCYCLOPEDIA OF FLORA AND FAUNA OF BANGLADESH. Volume 26. Birds

বাংলাদেশের ৬৫০ প্রকারের পাখি বিষয়ক বই ‘এশিয়াটিক সোসাইটি অফ বাংলাদেশ’ এর ENCYCLOPEDIA OF FLORA AND FAUNA OF BANGLADESH. Volume 26. Birds

'এশিয়াটিক সোসাইটি অফ বাংলাদেশ' এই অঞ্চলের একটি ঐতিহ্যবাহী বুদ্ধিবৃত্তিক প্রতিষ্ঠান। এশিয়ার ইতিহাস, সংস্কৃতি, সাহিত্য, দর্শন, সমাজ চর্চা করার জন্য এই সংগঠনের জন্ম। যা ছড়িয়ে আছে ইংল্যান্ড, ভারত, বাংলাদেশ ও পাকিস্তানে। বাংলাদেশ অংশ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ কাজ করেছে। তার মধ্যে বিখ্যাত হল 'বাংলাপিডিয়া' প্রকাশ। তাঁদের আরেকটি বিখ্যাত প্রকাশনা হল “ENCYCLOPEDIA OF FLORA AND FAUNA OF BANGLADESH”। ব্লার্বে ইংরেজি ও বাংলা এই দুই ভাষাতে সংকলনটি প্রকাশের কথা উল্লেখ করা আছে; তবে আমাদের আলোচ্য বইটি ইংরেজি ভাষার। মোট ২৮ খণ্ডে প্রকাশিত বাংলাদেশের প্রাণী ও উদ্ভিদকুল সম্পর্কে এত বিস্তারিত তথ্য আর কোন সংকলনে পাওয়া দুরূহ। ২৮ খণ্ডের সংকলনের একটি হল ২৬তম খণ্ড। গ্রন্থমালার এই ২৬তম গ্রন্থের আলোচ্য বিষয় “পাখি”। কোষগ্রন্থ হওয়ার কারণে পাতায় পাতায় নানারকম খুঁটিনাটি তথ্যসহ প্রয়োজনীয় মন্তব্য রয়েছে। ফলে তথ্যানুসন্ধানী পাঠক থেকে শুরু করে গবেষনাপ্রত্যাশী পাঠক সকলের জন্য প্রয়োজনীয় যাবতীয় তথ্য এই বই থেকে পাওয়া যাবে। প্রতিটি তথ্য সুচারুভাবে পরীক্ষা নিরীক্ষার পর বইয়ে সংযোজনের জন্য বিবেচিত হয়েছে। পাখি বিষয়ক তথ্যগুলো লিখেছেন ১৪ জন শিক্ষক, প্রকৃতিবিজ্ঞানী, প্রাণিসংরক্ষণ বিশেষজ্ঞ প্রমুখ। এদের উপস্থাপিত লেখা পরিমার্জন তথা সম্পাদনা করেছেন প্রাণী বিষয়ে ৫ জন ও উদ্ভিদ বিষয়ে ৫ জন বিদগ্ধ পণ্ডিত। প্রধান সম্পাদক ও নির্বাহী সম্পাদক প্রাপ্ত লেখাগুলো আবারও নিপুণভাবে যাচাই বাছাই করে এই গ্রন্থভুক্ত করেছেন। এখানে প্রদত্ত তত্ত্ব ও তথ্যগুলো শতভাগ সঠিক বা নিখুঁত হিসেবে গ্রহণ করা যাবে। কোনরকম বিভ্রান্তির অবকাশ নেই। পণ্ডিতগণের সংশ্লেষ থাকার কারণে বাংলাদেশের ভূপ্রকৃতিতে দৃশ্যমান পাখি বিষয়ে এই বইয়ের কথাই শেষ কথা।
বইটি বাংলাদেশের সীমানায় দেখা যাওয়া সকল প্রকারের পাখির জাতীয় তালিকা হিসেবে রচনা করা হয়েছে। এখানে ৬৪টি পরিবারের ২৯৫টি গণ বা বর্গের ৬৫০ প্রজাতির পাখির বর্ণনা রয়েছে। মুখবন্ধে লেখকগণ এই বইয়ের বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে একটি ধারণা দিয়েছেন। তারা জানান:-
This Volume of the encyclopedia is about the birds of Bangladesh. It presents photographs, descriptions, distributions and other basic information of 650 species of birds that occur now in Bangladesh or occurred here before and have become extinct/extirpated in the past two centuries. Page: XXXV
এদের মধ্যে দৃশ্যমানতার দিক দিয়ে শ্রেণিভেদ আছে। কোন পাখি খুব কম দেখা যায়, কোন পাখি গত দুইশত বৎসরে মাত্র একবার দেখা গেছে। কোন পাখি স্থায়ীভাবে আবাসিক, আবার কোন পাখি পরিযায়ী। কেউ শীতকালে, কেউ গরমকালে বেড়াতে আসে বা অন্য কোন দেশে যাওয়ার পথে বাংলাদেশকে করিডোর হিসেবে ব্যবহার করে। এরকম বিভিন্ন বৈশিষ্ট্যের পাখিদের শ্রেণিকরণ সম্পর্কে সাধারণ জিজ্ঞাস্য প্রশ্নসমূহের উত্তর বইয়ের Introduction অংশে খোলাসা করা হয়েছে। বলা হয়েছে: -
… Of the birds that previously occurred in Bangladesh, only one species, the Pink-headed Duck, has probably become globally extinct. Another 29 species of birds have been extirpated from Bangladesh but continue to occur elsewhere. These extirpated are known to have definitely occurred in Bangladesh in the past, although suitable habitats for a number of those birds may no longer exist in this country. The remaining 620 species of birds have been seen in recent years and one can claim that they occur in Bangladesh today. Of these 620 species of birds, 143 are ‘vagrant’ to Bangladesh, i.e. occurring very irregularly or seen extremely rarely. That leaves us with 477 species of birds that are regularly seen in Bangladesh. Of the 176 regularly occurring migratory species of birds, 160 are winter visitor, 6 are summer visitors and 10 are spring or passage migrants to Bangladesh. For us, however, all the 650 species of birds including the extinct, the extirpated, the vagrant, the resident and the seasonal visitor make up our national list of the birds of Bangladesh. Page: XXXV

এই বইয়ের স্বল্পায়তনের তথ্যবহুল রচনাগুলো বাংলাদেশের ভৌগলিক সীমানায় অর্থাৎ ভূমি, জলাশয়, সমুদ্র তীর, বনে, আকাশে, তৃণভূমিতে যেসব পাখি দেখা যায় তার প্রত্যেকটির সাথে নতুন পাঠককে পরিচিত করে তুলবে।
পাখি বিষয়ে নাতিদীর্ঘ এই রচনাগুলো লিখেছেন এদেশের প্রাণিবিজ্ঞান, উদ্ভিদবিজ্ঞান, প্রকৃতিবিজ্ঞান, পতঙ্গবিজ্ঞান, কৃষিবিজ্ঞান বিষয়ে প্রাজ্ঞ বিশেষজ্ঞগণ। তাই প্রত্যেকটি ভুক্তি হয়েছে মেদবিহীন তথ্যসমৃদ্ধ। প্রতিটি লেখার সাযুজ্য রক্ষা করার জন্য নির্দিষ্ট কয়েকটি প্রসঙ্গ গুরুত্বসহ আলোচিত হয়েছে। পাখির পরিচয় বর্ণনা করতে গিয়ে যে বিষয়গুলোর দিকে বেশি মনোযোগ দেয়া হয়েছে, সেই বিষয়টি সম্পর্কে ভূমিকায় ছোট ছোট অনুচ্ছেদে কিঞ্চিৎ ব্যাখ্যা করা হয়েছে। বিষয়গুলো হলঃ
  • Names
  • Description
  • Habits
  • Distribution
  • Status
  • Conservation
কোষগ্রন্থ হিসেবে এই বই অনেকে মিলে সুসংহত সাংগঠনিক উদ্যোগে রচনা করেছেন। ফলে বহু বিচিত্র প্রকারের তথ্য এই বই থেকে পাওয়া যায়। বইয়ের সূচনাংশে সূচিপত্রের পরে রয়েছে পাখি চিনতে হলে  শরীরের কোন কোন অঙ্গ প্রত্যঙ্গ দেখতে হয় তার ছবিযুক্ত বিবরণ। পাখির শরীরের ঠোঁট, ডানা, পা, চোখ, মাথার মত তার গায়ের রঙ, আকার, অবয়ব জানা দরকার। সেজন্য পাখির শরীর, ডানা, চোখ, ঠোঁট, মাথার স্কেচ ছবি দিয়ে প্রত্যঙ্গগুলোর পরিচয় করিয়ে দেয়া হয়েছে। একটি পৃষ্ঠায় বাংলাদেশের ম্যাপ ছাপিয়ে ছয়টি বিভাগকে চিহ্নিত করা হয়েছে। কোন পাখির আবাসস্থল বা কোনরকম পাখিকেন্দ্রিক কোন চিহ্ন বা তথ্যের উল্লেখ এই ম্যাপে উল্লেখ করা হয়নি। শুধু বাংলাদেশের প্রশাসনিক বিভাগগুলো চেনাতে এই ম্যাপের ব্যবহার করা হয়েছে বলে মনে হয়। অবশ্য সেকথারও উল্লেখ ম্যাপের আশেপাশে কোথাও নেই।

বইয়ের শেষে একাধিক পরিশিষ্ট বা Appendix -এ বেশ কয়েক প্রকারের প্রয়োজনীয় তথ্যের সংযোজন করা হয়েছে। প্রত্যেক তথ্যই প্রয়োজনীয় ও গুরুত্বপূর্ণ। সাধারণ পাঠকের পাশাপাশি একজন গবেষক তথ্য খুঁজতে এই বই হাতে নিয়ে যেন কোনরকম বিভ্রান্তিতে না ভোগেন সে বিষয়ে খুব সতর্ক থাকা হয়েছে। প্রয়োজনীয় যে প্রসঙ্গগুলো একাধিক পরিশিষ্টে রয়েছে সেগুলো হলঃ
  • Appendix- A: Annotated bibliography and checklist of the birds of Bangladesh
  • Appendix- B: Hypothetical list
  • Appendix- C:  Distribution of Birds in Bangladesh
এই প্রয়োজনীয় তালিকাগুলো ছাড়াও আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ তালিকা এই বইয়ের শেষে দেয়া হয়েছে। সেগুলো হলঃ
  • Index of Scientific names
  • Index of Common English names
  • Index of Bangla names
গবেষণামানের তথ্যসম্ভারে পূর্ণ পাখি বিষয়ক এই বই আগ্রহী পাঠককে তৃপ্ত করবে, সম্ভাব্য সব রকমের তথ্য উপস্থাপন করবে। আমরা এর আগে পাখি বিষয়ে যে বইগুলোর পরিচিতি প্রকাশ করেছি সেগুলো বেশিরভাগ ফিল্ডগাইড ও অল্পবয়সী নবীন পাখিপ্রেমিকদের কথা মাথায় রেখে লেখা। কিন্তু এই বই অতটা হালকা বা সংক্ষিপ্ত নয়। এই বই লিখেছেন পণ্ডিত গবেষকগণ, উদ্দিষ্ট পাঠক পাখি বিষয়ে সন্ধিৎসু গবেষক, তাই উপস্থাপিত হয়েছে আন্তর্জাতিক মানের গবেষণাভিত্তিক যথাযথ তথ্যমালা। যে পাঠকগণ গবেষকদের মতো গভীর অন্তর্দৃষ্টির অধিকারী তারাও এই বই হাতে পেলে আনন্দিত হবেন। অবসর  মুহূর্তগুলোতে এই বইয়ের পাতায় সক্রিয় হয়ে উঠবেন।

এশিয়াটিক সোসাইটির মত ঐতিহ্যবাহী গবেষণা প্রতিষ্ঠান থেকে প্রকাশিত এই বইয়ের নাম হয়তো সব পাখিপ্রেমী জানেন না। একটি ভালমানের বাইনোকুলারের চেয়ে এই বইয়ের দাম কম মনে হয়। কিন্তু এই একটি বই সবরকমের পরিচয়ে পরিচিত করে তুলবে ৬৫০টি বাংলাদেশী পাখির সাথে।

ENCYCLOPEDIA OF FLORA AND FAUNA OF BANGLADESH. Volume 26. Birds, Asiatic Society of Bangladesh

বইয়ের আকার বেশ বড়োসড়ো। ৯.৮×৭.৮ ইঞ্চি আয়তনের এই বইয়ের প্রত্যেকটি পৃষ্ঠা চকচকে পাতলা ভারী কাগজের। প্রতিটি পৃষ্ঠায় সংশ্লিষ্ট পাখির চাররঙা ছবি আছে। কাগজটি আর্ট পেপার জাতীয় হওয়ায় ওজনে ভারী। মলাটের বোর্ডটি খুব শক্ত আর উন্নতমানের। সব মিলিয়ে ৬৬২ পৃষ্ঠার এই  বইয়ের ওজন প্রায় দুই কেজি। অর্থাৎ এই বই হাতে নিয়ে বা বিছানায় শুয়ে পড়ার উপযোগী নয়। রীতিমতো খাতাকলম নিয়ে প্রস্তুত হয়ে টেবিলে বসে পড়তে হবে। পাখি প্রসঙ্গে অধিকতর তথ্যসন্ধানী পাঠকের জন্য আলোচ্য বইটি আনন্দলোকের বার্তাবাহক- এই বই সম্পর্কে এটাই যথার্থ মূল্যায়ন।
----------০----------
ENCYCLOPEDIA OF FLORA AND FAUNA OF BANGLADESH: BIRDS
Volume: 26


প্রকাশক: Asiatic Society of Bangladesh, Dhaka.

প্রথম প্রকাশ: ২০০৮
প্রচ্ছদ: ইনাম আল হক
প্রকাশক: এশিয়াটিক সোসাইটি অফ বাংলাদেশ, ঢাকা।
পৃষ্ঠা: ৬৬২
মূল্য: ১৫০০ টাকা
ISBN: 984-300-000286-0

বইয়ে উল্লিখিত বিধি অনুযায়ী এই বইয়ের নাম সূত্র হিসেবে লেখার পুর্ণাঙ্গ রূপ হল:

Siddiqui, K.U., Islam, M.A., Kabir, S.M.H., Ahmed, M., Ahmed, A.T.A., Rahman, A.K.A., Haque, E.U., Ahmed, Z.U., Begum, Z.N.T., Hassan, M.A., Khondker, M. and Rahman, M.M. (eds.). 2008. Encyclopedia of Flora and Fauna of Bangladesh., Vol. 26. Birds. Asiatic Society of Bangladesh, Dhaka, 662 pp.

0/আপনার মতামত?/টি মন্তব্য

মন্তব্য করার পূর্বে মন্তব্যর নীতিমালা সম্পাদকের স্বীকারোক্তি পড়ুন। ই-মেইল ফর্ম।

নবীনতর পূর্বতন